জীবনী মুবারক
হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (২)
বিলাদত শরীফ: ৭১৮ হিজরী (১৩১৮ খ্রিস্টাব্দ) বিছাল শরীফ: ৭৯১ হিজরী (১৩৮৯ খ্রিস্টাব্দ) বয়স মুবারক: ৭৩ বছর
, ১৫ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ২৭ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
অন্যান্য বর্ণনা:
হযরত বাবা সাম্মাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছাল শরীফের পর হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সমরকন্দে গমন করেন এবং সেখান থেকে বোখারায় উপনীত হন। সেখানে তিনি শাদী মুবারক করেন এবং নিজ গ্রামে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর তিনি “নাসাফ” এ গিয়ে হযরত বাবা সাম্মাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খলীফা, হযরত সাইয়্যিদ আমীর কুলাল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন। অতঃপর বোখারার নিকটবর্তী দু’টি গ্রামে কিছুকাল অতিবাহিত করার পর হযরত সাইয়্যিদ আমীর কুলাল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একজন খলীফা, হযরত আরিফ আদ-দিক্কিরানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট থেকে ৭ বৎসর রুহানী তা’লীম গ্রহণ করেন। (ইসলামী বিশ্বকোষ)
হযরত খাজা বাবা মুহম্মদ সাম্মাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (যিনি হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দাদা পীর ছিলেন) উনাকে নিজ সন্তান হিসাবে কবুল করেছিলেন। তবে তিনি তরীক্বত উনার আদব ও সুলূকের শিক্ষা উনার শায়েখ হযরত সাইয়্যিদ আমীর কুলাল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে হাছিল করেছিলেন।
তবে উনার উয়াইসী (অর্থাৎ হযরত উয়াইস আল কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে সম্পর্কিত) নিসবত ছিলো এবং তিনি হযরত খাজা আব্দুল খালিক্ব গাজদাওয়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকেও রুহানী তরবীয়ত হাছিল করেছিলেন।
হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজেই বর্ণনা করেন, আমার আধ্যাত্মিক জজবার প্রাথমিক পর্যায়ে এক রাত্রে আমি বোখারার তিনটি বরকতময় মাযার শরীফে উপস্থিত হই। আমি দেখতে পেলাম প্রত্যেক পবিত্র মাযার শরীফই বাতির হালকা আলোতে আলোকিত। বাতির (চেরাগদান) মধ্যে শলতে এবং তৈল ঠিকই ছিলো। কিন্তু শলতে বাতির বাইরে কম ছিলো বিধায় (শলতের মধ্যে আগুন কম ছিলো) এবং বাতি ভালোভাবে আলো দিচ্ছিলো না।
অতঃপর শেষ মাযারের নিকট ক্বিবলা রোখ হয়ে আমি বসে পড়লাম। আমি তাওয়াজ্জুহ (রুহানী ফয়েজ) দিতে লাগলাম। গায়েব থেকে তাওয়াজ্জুহ আসলো এবং আমি দেখলাম ক্বিবলার দিকে পবিত্র মাযার শরীফ উনার দেয়াল ফেটে গেছে। সেখান থেকে একটি শাহী আসন বের হয়ে আসলো, আসনের সম্মুখে একটি সবুজ পর্দা লটকানো ছিলো। এর চার পাশে কিছু লোক বসে আছেন। উনাদের মধ্যে হযরত খাজা মুহম্মদ বাবা সাম্মাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেও বসে থাকতে দেখলাম। উনাকে দেখেই আমি চিনতে পারলাম। তিনি যে পবিত্র বিছাল শরীফ লাভ করেছেন তাও আমার খেয়ালে আসলো।
উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমাকে বললেন, শাহী আসনে হযরত খাজা আব্দুল খালিক্ব গাজদাওয়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বসে আছেন, আর এ জনসমষ্টি উনার খলীফাগণের। উক্ত ব্যক্তি উপস্থিত প্রত্যেকের প্রতি ইঙ্গিত করে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে লাগলেন। হযরত খাজা আহমদ ছিদ্দীক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত খাজা আউলিয়ায়ে কেলা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত খাজা আরেফ রেওগরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত খাজা মাহমূদ আনজির ফাগনবী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত খাজা আলী রামিতানী রহমতুল্লাহি আলাইহি সকলকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। যখন হযরত খাজা মুহম্মদ বাবা সাম্মাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি পর্যন্ত পরিচয় দানের ধারা আসলো, তখন সেই ব্যক্তি বললেন, আপনি তো উনাকে জীবিত থাকতে দেখেছেন, ইনি তো আপনার শায়েখ, তিনি আপনাকে সন্তান হিসাবে অনেক দয়া করেছেন এবং আপনাকে এই বুযূর্গীও দান করেছেন যে, আপনার বরকতে সকল প্রকার বালা-মুছীবত দূর হয়ে যাবে।
উপস্থিত মাশায়েখগণ উনাদের এক দল আমাকে বললেন, হযরত খাজা যে সব কথা বলবেন, খুব ভালো করে শুনে নিবেন এবং ফিকির করবেন, যেন আপনি সুলূকের রাস্তায় শীর্ষ স্থানে পৌঁছে যেতে পারেন। আমি উক্ত দলের লোকদেরকে আরজ করলাম, দয়া করে আমাকে যদি অনুমতি দেন, তবে আমি যেন উনার খেদমতে সালাম পেশ করতে পারি এবং উনার নূরানী চেহারা মুবারক দেখে আমার চোখ আলোকিত করতে পারি। তখন সেই মাশায়েখে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উক্ত লটকানো পর্দা উঠিয়ে দিলেন। আমি দেখতে পেলাম এক নূরানী চেহারার বুযূর্গ ব্যক্তি শাহী আসনে বসে আছেন। আমি উনাকে সালাম দিলাম। তিনি খুব দয়া ও আন্তরিকতার সঙ্গে আমার সালামের জাওয়াব দিলেন।
অতঃপর তিনি সম্মানিত তরীক্বতের পথের সেসব কথাবার্তা বললেন যা তরীক্বতের প্রথমে, মধ্যে এবং শেষ অবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক রাখে। তিনি বললেন, যে বাতি আপনি দেখেছেন তাতে এই কথার প্রতি ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, তরীক্বতের পথে চলার জন্য প্রস্তুতি ও যোগ্যতা আপনার রয়েছে, কিন্তু প্রস্তুতির শল্তে আগে বাড়ানোর প্রয়োজন আছে, যাতে আলো আরো বেড়ে যায় এবং গোপন ভেদগুলো প্রকাশ পায়। অতঃপর আমাকে বার বার বলে দিলেন, আমি যেন সর্বদা সম্মানিত শরীয়ত উনার আদেশ-নিষেধ, আমল ও সৎসাহস এবং সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার উপর দৃঢ়ভাবে ইস্তেকামত থাকি, ফিতনা এবং বিদয়াত থেকে দূরে থাকি, সর্বদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাকে নিজের পথ প্রদর্শক হিসাবে রাখি এবং উনাদের আদর্শ মুবারক তালাশে থেকে যেন এ আমলগুলো করতে পারি।
যখন এ সব কথাবার্তা শেষ হলো তখন সে দলের লোকেরা আমাকে বললেন, আপনার সত্যবাদিতার নিদর্শন এ হবে যে, আগামীকাল আপনি অমুক স্থানে যাবেন এবং অমুক কাজ করবেন, তৎপর ‘নাসাফ’ শহরে গিয়ে হযরত সাইয়্যিদ আমীর কুলাল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমতে উপস্থিত হবেন। অতঃপর আমি এই নির্দেশ মুবারক অনুসারে সব কাজ সমাধা করি। (নাফাহাতুল উনস) (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












