হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক শানে ব্যবহৃত ‘জারিয়াতুন’ শব্দটির তাহকীক বা বিশ্লেষণ
, ২৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ০৩ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(جَارِيَةٌ) ‘জারিয়াহ’ শব্দটি আরবী এবং একবচন। এর বহুবচন (جَوَارِي) জাওয়ারী ও (جَارِيَات) জারিয়াত। শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যথা: কন্যাশিশু, কন্যা, মেয়ে, তনয়া, দুহিতা, বালিকা, তরুণী, বাঁদী, চাকরানী, নৌকা, জাহাজ, নৌযান ইত্যাদি।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে দু’জন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিমাস সালাম উনাদের শান মুবারকে ‘জারিয়াহ’ শব্দটির ব্যবহার উল্লেখ রয়েছে। একজন হচ্ছেন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি। আর অপরজন হচ্ছেন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার ক্বিবতিয়া আলাইহাস সালাম তিনি। উনারা দুজনই ছিলেন অত্যধিক সম্ভ্রান্ত, কুলীন বংশো™ূ¢ত। সুবহানাল্লাহ! যেমন প্রথমজন হচ্ছেন খলীফাতু রসূলিল্লাহ আফদ্বালুন নাস বা’দাল আন্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা বানাত বা মেয়ে আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
আর দ্বিতীয়জন হচ্ছেন মিশরের বাদশাহ মুক্বাওক্বিস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিতা ভাতিজী আলাইহাস সালাম।
স্মরণীয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যখন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিসবতে আযীমাহ শরীফ উনার আক্বদ মুবারক সংঘটিত হয় তখন তিনি ছিলেন জারিয়াহ তথা ছবিয়্যাহ বা অপ্রাপ্তা বয়সী একজন বালিকা। আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যখন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার ক্বিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার নিসবতে আযীমাহ শরীফ সংঘটিত হয় তখন তিনি ছিলেন জারিয়াহ তথা ফাতিয়্যাহ বা অবিবাহিতা একজন তরুণী। সুবহানাল্লাহ!
জানা আবশ্যক যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সংখ্যায় সর্বমোট ১৩ জন। উনাদের মধ্যে কেবল উপরোল্লেখিত দুজনই ছিলেন কুমারী বা অবিবাহিতা। সুবহানাল্লাহ! আর বাকী ১১ জন্য ছিলেন অকুমারী বা বিবাহিতা। সুবহানাল্লাহ! উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন স্বাধীন। কেউই বাঁদী বা দাসী ছিলেন না। এই আক্বীদাই পোষণ করা প্রত্যেকের জন্য ফরয। এর বিপরীত আক্বীদা পোষণ করা গোমরাহী ও কাট্টা কুফরী। নাউযুবিল্লাহ!
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কেউ কেউ জারিয়াহ শব্দ দ্বারা ১০ বা ততোর্ধ্ব বয়সের বালিকা উদ্দেশ্য নিয়ে থাকে। এর জওয়াবে বলতে হয় যে, জারিয়াহ শব্দটি শুধু ১০ কিংবা ততোর্ধ্ব বয়সের বালিকার জন্যেই ব্যবহৃত হয় না। বরং ১০ বছরের কম বয়সের বালিকার জন্যেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আলোচ্য প্রবন্ধের শুরুতেই জারিয়াহ শব্দের অর্থের মধ্যে তা উল্লেখ করা হয়েছে।
মোটকথা, জারিয়াহ শব্দটি কুমারী বা অবিবাহিতা বালিকা ও তরুণীর জন্য ব্যবহৃত হয়। তা ১০ বছরের কম হোক কিংবা ১০ বছরের বেশী হোক না কেন। তাছাড়া উক্ত জারিয়াহ শব্দটি নাবালিগা ও বালিগা উভয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছেন- হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি এবং হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার ক্বিবতিয়া আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যখন হযরত উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিসবতে আযীমাহ শরীফ উনার আক্বদ মুবারক সংঘটিত হয় তখন তিনি ৬ বছর বয়সী অপ্রাপ্তা বালিকা ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যখন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম উনার নিসবতে আযীমাহ শরীফ সংঘটিত হয় তখন তিনি ২০ বছর বয়সী একজন তরুণী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত শরীয়ত তথা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে- মেয়েদের বালেগা বা প্রাপ্তবয়স্কা হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ৯ বছর এবং ছেলেদের বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ১২ বছর। আর ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য বালেগ ও বালেগা হওয়ার জন্য উর্ধ্বতম বয়স হচ্ছে ১৫ বছর। এটাই সম্মানিত হানাফী মাযহাবের মত।
-মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












