জীবনী মুবারক
হযরত আব্বাদ ইবনে বিশর ইবনে ওয়াকাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (১)
বিলাদত শরীফ: ৫৮৯ খৃ: বিছাল শরীফ: ১১ হিজরী (৬৩৩ খৃ:) বয়স মুবারক: ৪৫ বছর।
, ১৮ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পরিচিতি:
আনছারী ছাহাবী, পিতা বিশর বিন ওয়াকাশ বিন যুগ্বা, উপনাম আবু বিশ্র, মদীনা শরীফের প্রখ্যাত বনু আবদুল আশহাল গোত্রের লোক।
দ্বীন ইসলাম গ্রহণ:
হযরত ‘আব্বাদ বিন বিশর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত মুছয়াব ইবনে উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাতে মদীনা শরীফে সম্মানিত ইসলাম গ্রহণ করেন। বলা হয় যে, তিনি হযরত সা’দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত উসাইদ ইবনে হুদ্বাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ‘আব্বাদ বিন বিশর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে হযরত আবু হুযায়ফা বিন ‘উত্বা বিন রাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছিলেন।
জিহাদে অংশগ্রহণ:
হযরত আব্বাদ বিন বিশর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে বদর, উহুদ ও অন্যান্য সব জিহাদে অংশগ্রহণ করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পরে আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে ইয়ামামার জিহাদে অংশগ্রহণ করে তিনি শাহাদাত মুবারক বরণ করেন।
ফযীলত ও বুযূর্গী:
কা’ব ইবনে আশরাফ নামক এক ইয়াহুদী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুসলমানদের উপর নানারকম অত্যাচার আরম্ভ করলে এবং কবিতার মাধ্যমে সম্মানিত ইসলাম ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিন্দাবাদ প্রচার করতে থাকলে হযরত আব্বাদ বিন বিশর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং আরো কয়েকজন ছাহাবী মিলে তাকে মৃত্যুদন্ড দেন। দ্বীন ইসলাম উনার এত বড় শত্রুকে ধ্বংস করার ব্যাপারে অসাধারণ সফলতা লাভ করার আনন্দে তিনি কয়েক লাইন কবিতা রচনা করেছিলেন।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আনছারদের মধ্যে মর্যাদায় তিন ব্যক্তির সঙ্গে কোন তুলনা হয় না, উনারা সকলেই বনু আবদুল আশহাল গোত্রের লোক। উনারা হচ্ছেন- হযরত সা’দ ইবনে মুয়ায, হযরত উসাইদ ইবনে হুদ্বাইর এবং হযরত আব্বাদ ইবনে বিশ্র রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম।
চতুর্থ হিজরীতে খন্দকের জিহাদের সময় হযরত আব্বাদ ইবনে বিশর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কয়েকজন আনছারকে সঙ্গে নিয়ে সারা রাত্রি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাঁবু মুবারক পাহারা দিতেন। ৯ম হিজরীতে তাবুকের জিহাদের সময় তিনি প্রহরী বাহিনীর অধিনায়ক হিসাবে সারারাত্রি ঘুরে ফিরে সমস্ত সৈন্য বাহিনীর দেখা-শুনা করতেন।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রাত্রে (তাহাজ্জুদ নামায আদায়ের জন্য উঠে) হযরত আব্বাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আওয়াজ শ্রবণ করলেন এবং বললেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি আব্বাদকে রহম করুন।’
বর্ণিত আছে যে, হযরত আব্বাদ ইবনে বিশর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত উসাইদ বিন হুদাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা এক অন্ধকার রাত্রিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে ছিলেন। অতঃপর উনারা দুইজনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হতে বের হয়ে আসলেন। তখন উনাদের একজনের লাঠি উজ্জ্বল আলো ছড়াতে লাগলো এবং উনারা সেই আলোতে চলতে লাগলেন। অতঃপর উনারা যখন পৃথক হলেন তখন উনাদের প্রত্যেকেরই লাঠি আলো ছড়াতে লাগলো।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আব্বাদ বিন বিশর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে মুযায়না ও বনু সুলাইম গোত্রের ছদকা (যাকাত) আদায়ের দায়িত্বে নিয়োগ প্রদান করেছিলেন। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












