জীবনী মুবারক
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৭)
, ০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
বিলাদত শরীফ: ৬১৯ খৃ:
বিছাল শরীফ: ৬৮ হিজরী (৬৮৮ খৃ:)
বয়স মুবারক: ৭০ বছর।
ফযীলত ও মর্যাদা:
হযরত সা‘ঈদ বিন আবী সা‘ঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, একবার আমি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট ছিলাম। এমন সময় একজন লোক উনার নিকট আগমন করলো। লোকটি বললো, হে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি (নফল) রোযা কিভাবে রাখেন? তিনি উত্তর দিলেন, আমি ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ও ইয়াওমুল খমীস (বৃহস্পতিবার) রোযা রাখি। লোকটি বললো, কেন? তিনি বললেন, এ দুই দিনে বান্দাদের আমলসমূহ উপরে উঠানো হয়। আমি পছন্দ করি রোযাদার অবস্থায় আমার আমল উপরে উঠুক।
শুয়াইব বিন দিরহাম আবু রাজা থেকে বর্ণনা করেন, আমি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দুই চোখের নীচে পুরাতন ফিতার ন্যায় (দাগ) দেখেছি, উনার (অধিক মাত্রায়) ক্রন্দনের কারণে। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি অন্যান্য ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদেরকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। বছরার গভর্ণর (ওয়ালী) থাকাকালে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবু আইয়ুব আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একবার হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট কোন জরুরী প্রয়োজনে স্বীয় প্রয়োজনের কথা ব্যক্ত করেন। সব শুনে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার কর্জ কি পরিমাণ? তিনি উত্তর দেন, বিশ হাজার (দিরহাম)। হযরত আবু আইয়ুব আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র মদীনা শরীফে সর্বপ্রথম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মেহমানদারী করেছিলেন। সে কথা স্মরণ করে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উদার হস্তে হযরত আবু আইয়ুব আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সাহায্য করেছিলেন। চল্লিশ হাজার দিরহাম এবং ২০ জন খাদেম এবং গৃহের প্রয়োজনীয় সমস্ত তৈজসপত্র তিনি উনাকে হাদিয়া দিয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
আবু উওয়ানা হযরত আবুল জুওয়ায়রিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেন, আমি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ইযার (লুঙ্গি) নিস্ফে সাক্ব (হাঁটু ও ছোট গিরার মাঝামাঝি) অথবা একটু উপর পর্যন্ত দেখেছি এবং উনাকে নামাযরত অবস্থায় রুমী চাদর পরিহিত দেখেছি।
অন্য এক বর্ণনাকারী, রিশদীন বিন কুরাইব, উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আমি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে কালো পাগড়ী পরিহিত ও দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে পাগড়ীর শিমলা ঝুলানো দেখেছি। এসব বর্ণনা থেকে বুঝা যায় পোশাক পরিচ্ছেদেও তিনি পরিপূর্ণ সুন্নত মুবারকের পরিপূর্ণ অনুসারী ছিলেন।
বিছাল শরীফ:
শেষ বয়সে উনার দৃষ্টি শক্তি স্থগিত হয়ে গিয়েছিলো। উনার দৃষ্টিশক্তি রহিত হওয়ার ব্যাপারে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যখন তিনি দুইবার হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে স্বশরীরে দর্শন করেছিলেন।
জীবনের বাকী দিনগুলি তিনি তায়েফে অতিবাহিত করেন এবং সেখানেই হিজরী ৬৮ সনে (৬৮৮ খৃ:) ৭০ বছর বয়সে পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। শেষ বয়সে যখন উনার দৃষ্টি শক্তি রহিত হয়ে যায়, তিনি এই কবিতাংশ আবৃত্তি করেন-
ان ياخذ الله من عينىّ نورهما - ففى لسانى و قلبى منهما نور
قلبى ذكىّ و عقلى غير ذى دخل - وفى فمى صارم كا لسيف مأثور
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক যদিও আমার দুই চোখের আলো নিয়ে গিয়েছেন, এতদুভয়ের নূর আমার অন্তর ও জিহ্বাতে রয়ে গিয়েছে। আমার অন্তর বুদ্ধিমান এবং আমার জ্ঞান অসংলগ্নতা-মুক্ত, আর আমার মুখ তরবারির ন্যায় কঠোর ও প্রভাবশালী)। (উসুদুল গাবা)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র বিছাল শরীফের সময় উনার বয়স মুবারক হয়েছিলো ৭০ বছর। হযরত মুহম্মদ ইবনে হানাফিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার জানাযা নামাযের ইমামতি করেন। উনাকে দাফন করে তিনি মন্তব্য করেন, এই উম্মতের রব্বানী (খোদা-ভীরু বুযূর্গ আলিম) ইনতিকাল করলেন। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
তায়েফ নগরে মসজিদে ইবনে আব্বাস নামক বিশাল মসজিদটি আজও উনার স্মৃতি বহন করে চলছে। এ মসজিদেরই পিছন দিকে একপাশে ইতিহাসের কিংবদন্তী এই মহান ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাযার শরীফ বিদ্যমান।
হযরত সালিম আল-আফতাস রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত সা‘ঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন বিছাল শরীফ গ্রহণ করলেন, একটি অস্বাভাবিক পাখি এসে উনার কাফন মুবারকের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলো, অতঃপর আর ওই পাখিটিকে বের হয়ে যেতে দেখা গেল না। (অনেকে চিন্তা ফিকির করেছেন, ইহা ছিলো উনার ইলিম (জ্ঞান)। কোন কোন বর্ণনাকারী বলেছেন পাখিটির রং ছিলো সাদা।) অতঃপর যখন উনাকে দাফন করা হলো তখন মাযার শরীফের এক পার্শ থেকে এই আয়াত শরীফ পাঠ করতে শুনা গেল, কিন্তু কে পাঠ করলো তা দেখা গেল না!
يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ. إِرْجِعِىْ إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً، فَادْخُلِىْ فِى عِبَادِىْ وَادْخُلِىْ جَنَّتِىْ.
অর্থ: হে পরিতৃৃপ্ত আত্মা! আপনি প্রসন্ন ও সন্তুষ্টচিত্ত অবস্থায় আপনার মহান প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তন করুন। অতঃপর আমার খাছ বান্দাগণের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করুন। (পবিত্র সূরা ফজর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৭-৩০) (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
সূত্রসমূহ: উসুদুল গাবা, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, অন্যান্য সীরত গ্রন্থসমূহ। (সমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
খাদিমাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার জীবনী মুবারক
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বয়াহ আছ্ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বিতীয় দুধমাতা আলাইহাস সালাম
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বা’য়াহ আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সীরত মুবারক
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বা‘আহ্ আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল ফযীলত মুবারক
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বায়াহ আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সীরত মুবারক
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবি‘য়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত সাওয়ানেহ ‘উমরী মুবারক
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত সাওয়ানেহ ‘উমরী মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক
০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বা’য়াহ আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সীরত মুবারক
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত উম্মুল ফদ্বল বিনতুল হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












