সুন্নত মুবারক তা’লীম
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
, ২৯ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক হলো এমন কতগুলো মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক যা মানুষের স্বভাবের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যা নিয়মিত কাজের অন্তর্ভুক্ত এবং নিয়মিত করাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। এরকম স্বভাবজাত মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হলো সাধারণত দশটি। এসব মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পূর্ববর্তী হযরত নবী রসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে শুরু করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের জন্যও মহাসম্মানিত মহপবিত্র সুন্নত মুবারক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْفِطْرَةُ خَمْسٌ الِاخْتِتَانُ وَالِاسْتِحْدَادُ وَقَصُّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمُ الْأَظْفَارِ وَنَتْفُ الْإِبْطِ.
অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, স্বভাবজাত বিষয় ৫ টি। ১. খৎনা করা, ২. নাভীর নীচের লোম পরিষ্কার করা, ৩. গোঁফ খাটো করা, ৪. নখ কাটা, ৫. বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, নাসায়ী শরীফ)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ، وَالسِّوَاكُ، وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ، وَقَصُّ الْأَظْفَارِ، وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ، وَنَتْفُ الْإِبِطِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ قَالَ حَضْرَتْ زَكَرِيَّا رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ حَضْرَتْ مُصْعَبٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ وَنَسِيتُ الْعَاشِرَةَ إِلَّا أَنْ تَكُونَ الْمَضْمَضَةَ.
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন- ১০ টি বিষয় ফিতরাত বা স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। ১. গোঁফ খাটো করা, ২. দাড়ি লম্বা করা, ৩. মিসওয়াক করা, ৪. নাকে পানি দেয়া, ৫. নখ কাটা, ৬. অঙ্গের গিরাসমূহ ঘষে মেজে ধৌত করা,
৭. বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা,
৮. নাভীর নীচের পশম পরিষ্কার করা, ৯. ইস্তিঞ্জার পর পানি ব্যবহার করা। হযরত যাকারিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত মাসআব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন: আমি দশ নম্বরটি ভুলে গেছি। সম্ভবতঃ ১০. তা হলো কুলি করা। (মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)
উক্ত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফদ্বয় উনাদের আলোকে স্বভাবজাত মহাসম্মানিতমহাপবিত্র সুন্নত মুবারকসমূহ হলো-
১) খৎনা করা বা মুসলমানী দেয়া।
২) ইস্তিঞ্জার পর পানি ব্যবহার করা।
৩) মিসওয়াক করা।
৪) নখ কাটা।
৫) গোঁফ খাটো করা
৬) দাড়ি লম্বা করা।
৭) নাভীর নীচের পশম পরিস্কার করা।
৮) বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা বা পরিস্কার করা।
৯) বিভিন্ন অঙ্গের গিরাসমূহ ঘষে মেজে ধৌত করা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ সমস্ত গিরা, যেগুলোতে ময়লা জমা হয়। যেমন: আঙ্গুলের গিরাসমূহ, কানের গোড়াসমূহ ইত্যাদি।
১০) কুলি করা ও
১১) নাকে পানি দেয়া।
বগলের ও নাভীর নিচের পশম মুন্ডানো:
বগলের পশম ও নাভীর নিচের পশম পরিস্কার করা অর্থাৎ মুন্ডানো মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
বগলের পশম ও নাভীর নিচের পশম পরিস্কার করা অর্থাৎ মুন্ডানোর সর্বোচ্চ সময় সীমা হলো ৪০দিন। যেমন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ وَنَتْفِ الإِبْطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَنْ لاَ نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً
অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের জন্য গোঁফ ছাটা, নখ কাটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা এবং নাভির নীচের পশম কাটার সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে যে, চল্লিশ দিনের অধিক যেন না রাখি। (মুসলিম শরীফ, নাসায়ী শরীফ)
উল্লেখিত প্রত্যেকটি বিষয়ই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। যা ত্বহারাত বা পবিত্রতার সাথে সম্পৃক্ত।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (১)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












