সুন্নত মুবারকের আমল ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী হওয়া সম্ভব নয়
, ০৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৮ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের জন্যে যা এনেছেন (সুন্নত মুবারকসমূহ) তা আঁকড়ে ধরো আর যা থেকে (বিদয়াত-বেশরা’) নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাকো। আর এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।” (পবিত্র সূরা হাশর শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ-৭)
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
مَنْ أَحَبَّ سُنَّتِي فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ
অর্থ: “যে ব্যক্তি আমার সুন্নত মুবারককে মুহব্বত করলো সে মূলতঃ আমাকেই মুহব্বত করলো আর যে আমাকে মুহব্বত করলো সে সম্মানিত জান্নাতে আমার সাথে থাকবে। (তিরমিযী শরীফ, আল মু’জামুছ ছগীর)
সুতরাং, কেউ যদি হক্কানী ওলী হতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই সুন্নত মুবারকের পরিপূর্ণ অনুসরণ করতে হবে। সুন্নত মুবারকের খেলাফ কাজ করে কারো পক্ষেই হক্কানী ওলী হওয়া সম্ভব নয়। তাই দেখা যায় ওলীআল্লাহগণ যদি ভুলবশতঃ বা অনিচ্ছাকৃতভাবেও কোন সুন্নত মুবারক তরক করেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাথে সাথেই উনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। যেমন এ প্রসঙ্গে কুতুবুল আকতাব হযরত কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব দলীলুল আরেফীনে উল্লেখ করেন, সুলত্বানুল হিন্দ গরীবে নেওয়াজ হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, বিখ্যাত বুযুর্গ, সাইয়্যিদুত ত্বয়িফা হযরত ফুযায়েল বিন আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি একবার ওযূর সময় হাত ধৌত করতে গিয়ে তিনবারের স্থলে দু’বার ধুয়েছিলেন। রাতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বপ্নে উনাকে বললেন, “হে ফুযায়েল! নিশ্চয়ই আপনি জানেন, আমার সুন্নত মুবারকের অবহেলার অর্থ কি?” হযরত ফুযায়েল বিন আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আমি স্বপ্নে দেখার পর আতঙ্কে উঠে দাঁড়ালাম এবং নতুন করে ওযূ করলাম এবং সুন্নত মুবারকের তরকের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ এক বছর পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০০ রাকায়াত করে নামায পড়া আবশ্যকীয় করে নিলাম। অন্যত্র বর্ণিত আছে, তিনি এক বৎসর নফল রোযা আদায় করেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ করেন যে, আমীরুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত ছুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার মসজিদে প্রবেশ করার সময় ডান পায়ের স্থলে বাম পা প্রথমে প্রবেশ করালেন, আর সাথে সাথেই গায়েবী নেদা বা আওয়াজ হলো- “হে ছাওর (ষাঁড়)। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনাকে জানিয়ে দিলেন যে, আমার সম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারকের খেলাফ আমল করে আমার ওলী হওয়া সম্ভব নয়।”
কিতাবে আরো উল্লেখ আছে যে, বিখ্যাত বুযুর্গ হযরত আযল সিরাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদিন ওযূ করলেন, ওযূর মধ্যে হাত ধৌত করার সময় হাতের অঙ্গুলী খিলাল করেননি। সাথে সাথে গায়েবী আওয়াজ হলো- হে আযল সিরাজী! আপনি আমার মুহব্বতের দাবীদার হয়ে কেন আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক তরক করলেন? এতে তিনি এত ভীত হলেন যে, পরবর্তীতে কখনো আকাশের দিকে তাকাননি। এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ওযূর সময় সুন্নত মুবারক তরক করায় আমার প্রতি নেদা করা হয়েছে, তাই আমি লজ্জায় আকাশের দিকে তাকাই না।
পবিত্র সুন্নত মুবারকের গুরুত্ব সর্ম্পকে আরো বর্ণিত রয়েছে যে, হযরত খাজা মুহম্মদ আক্বিল রহমতুল্লাহি আলাইহি নামক একজন বুযূর্গ, তিনি সুন্নত মুবারকের অনুসরণের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বারোপ করতেন। ইন্তিকালের কিছুক্ষণ আগে তিনি স্বপ্নে দেখলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে বলছেন, ‘আপনি আমার সুন্নত তরীক্বা পূনরুজ্জীবিত করেছেন, সে কারণে আমি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখে মাশায়িখে চিশ্তী)
সুন্নত মুবারকের গুরুত্ব না দেয়ার কারণ সর্ম্পকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা হযরত শাহ্ আব্দুর রহীম মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, লাহোরে দু’জন কামিল ব্যক্তি বসবাস করতেন। একজন মস্ত বড় আলিম তবে তামাক সেবন করতেন। অন্যজন আলিম নন তবে উনার কোন নেশার অভ্যাস ছিলোনা।
এক রাতে উভয় ব্যক্তিই স্বপ্নে দেখলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র দরবার শরীফে বসে আছেন। সেই দরবার শরীফে সাধারণ দরবেশ শান্ত ও পরিতৃপ্ত অবস্থায় বসে রয়েছেন; কিন্তু আলিম ব্যক্তি স্থান পাচ্ছেন না। তার স্থান না পাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করে জানা গেল যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তামাকের গন্ধ পছন্দ করতেন না তাই তাকে স্থান দেয়া হচ্ছে না। পরবর্তীতে তিনি তওবা করলে মহান আল্লাহ পাক উনার তওবা কবুল করেন। এরপর অত্যন্ত মর্যাদার সাথে সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে উনাকে বসে থাকতে দেখা গেল। সুবহানাল্লাহ!
অতএব, প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর উচিত যাদের তামাক, বিড়ি-সিগারেট জর্দা ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস আছে তা পরিত্যাগ করে খালিছ তওবা করা এবং সুন্নত মুবারকের পূঙ্খানুপূঙ্খ, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুসরণের মাধ্যমে সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ সন্তুষ্টি মুবারক ও নৈকট্য মুবারক হাছিলের কোশেশ করা। আমীন!
-আল্লামা সাইয়্যিদ আবূ খুবাইব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (১)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইহুদী ও মূর্তিপূজারী মুশরিকরা
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি অকৃত্রিম মুহব্বতই উসমানীয়দের বিজয় রহস্য
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬,৬৬৬। আর এ মতটি বহুল প্রচলিত, মশহূর ও গ্রহণযোগ্য (৫)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ভোট, নির্বাচন, পদপ্রার্থী হওয়া ইত্যাদি কোনটিই জায়িয নেই
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












