সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩৮)
, ০৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
সাইয়্যিদাতুনা হযরত নুসাইবাহ্ বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার বেনযীর দৃষ্টান্ত মুবারক:
হযরত নুসাইবাহ্ বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট আনছার মহিলা ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা। উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক হচ্ছেন ‘হযরত উম্মু উমারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা’। তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার ‘বনূ নাজ্জার গোত্রে’ বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। তিনি আকাবার দ্বিতীয় বাইয়াতের সময় সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি উহুদ, হুদায়বিয়াহ্, খাইবার, উমারাতুল কাযা, হুনাইন ও ইয়ামামা ইত্যাদি সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ সরাসরি অংশ গ্রহণ করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
৩য় হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৭ই শাওওয়াল শরীফ উহুদের সম্মানিত জিহাদ মুবারক সংঘটিত হন। হযরত নুসাইবাহ্ বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি উনার সম্মানিত আহাল উনাকে এবং দুই আওলাদ উনাদেরকে নিয়ে এই সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ অংশ গ্রহণ করেন। হযরত নুসাইবাহ্ বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি নিজে বলেন, আমি উহুদের সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার দিন মশক ভর্তি করে পানি নিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিলাম। সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার এক পর্যায়ে যখন মুশরিকগুলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর অতর্কিত আক্রমণ করলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মাত্র অল্প কয়েকজন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা ছিলেন। উনারা চারদিক থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ঘেরাও করে নিলেন। তখন আমিও উনাদের মধ্যে শামিল হলাম এবং জীবনের পরোয়া না করে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সম্মানিত জিহাদ মুবারক করতে থাকলাম। কাট্টা কাফির ইবনে কামিআ ইতঃমধ্যেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে চিৎকার করে এগিয়ে আসছিলো এবং বলছিলো, ‘উনাকে দেখিয়ে দাও! উনাকে যদি আজ শহীদ করা না যায়, তাহলে আমার ধ্বংস অনীবার্য।’ তার এই চিৎকার শুনে আমি দ্রুত তার দিকে অগ্রসর হলাম। আমি তার কাছাকাছি না যেতেই সে আমাকে দেখে দূর থেকে আমার কাঁধে আঘাত করলো। তার আঘাতে কাঁধে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হলো। প্রচ- ব্যথাও করছিলো। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি;
وَلَقَدْ ضَرَبْتُهُ عَلَى ذَلِكَ ضَرَبَاتٍ وَلَكِنَّ عَدُوَّ اللَّهِ كَانَ عَلَيْهِ دِرْعَانِ
‘বরং আমি তাকে পাল্টা আক্রমণ করলাম। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমন সেদিন বর্ম পরিহিত ছিলো।’ যার কারণে সে আমার হাত থেকে বেঁচে যায়।
হযরত নুসাইবাহ্ বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার জখমের স্থান থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত নুসাইবাহ্ বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার এক সন্তান উনাকে ডেকে ইরশাদ মুবারক করলেন ‘আপনার সম্মানিতা মাতা উনার জখম স্থানে পট্টি বেঁধে দিন।’
হযরত নুসাইবাহ্ বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি বলেন, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অনেকটা একাকী হয়ে পড়লেন, তখন
انْحَزْتُ إلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُمْتُ أُبَاشِرُ الْقِتَالَ وَأَذُبُّ عَنْهُ بِالسَّيْفِ وَأَرْمِي عَنْ الْقَوْسِ
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য আমি দাঁড়িয়ে যেয়ে কঠিনভাবে সম্মানিত জিহাদ মুবারক করতে থাকলাম। তরবারি দিয়ে আঘাত করে এবং তীর নিক্ষেপ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে কাফিরদেরকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলাম।’ সুবহানাল্লাহ! (সীরাতে ইবনে হিশাম ৩/৪৫)
হযরত নুসাইবাহ্ বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি আরো বলেন, আমি তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে ছিলাম। আমার হাতে কোনো ঢাল ছিলো না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার হাত মুবারক-এ ঢাল দেখে ইরশাদ মুবারক করলেন,
أَلْقِ تُرْسَكَ إِلَى مَنْ يُقَاتِلُ فَأَلْقَاهُ فَأَخَذْتُهُ فَجَعَلْتُ أُتَرِّسُ بِهِ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘(হে ঢালধারী ব্যক্তি!) আপনার ঢালটি এমন একজনকে দিন যিনি (আপনার চেয়ে আরো উত্তমভাবে) সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ রত। তিনি উনার ঢাল মুবারকটি আমাকে দিলেন। আমি সেই ঢাল মুবারক হাতে নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মুখে যে সমস্ত কাফির মুশরিকরা এগিয়ে এসেছিলো তাদেরকে প্রতিহত করতে লাগলাম।’ সুবহানাল্লাহ!
এক পর্যায়ে এক কাফির তরবারি দিয়ে আমাকে আঘাত করলো। আমি আঘাত ফিরিয়ে দিলাম। অতঃপর আমার তরবারি মুবারক দিয়ে তার ঘোড়ার উপর স্বজোরে আঘাত করলাম। ফলে, তার ঘোড়াটি পড়ে গেলো এবং সে নিজেও যমীনে ছিটকে পড়লো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবকিছুই দেখছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি আমার ছেলে উনাকে ডাক দিয়ে ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘হে হযরত ইবনে উম্মু উমারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! তাড়াতাড়ি আপনার সম্মানিতা মাতা উনার কাছে চলে আসুন। তারপর আমার ছেলে তিনি এবং আমি অর্থাৎ আমরা দু’জন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী সম্মিলিতভাবে ঐ কাফিরকে আক্রমণ করলাম এবং তাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলাম। সুবহানাল্লাহ!
এক পর্যায়ে হযরত নুসাইবাহ্ বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার আওলাদ হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনিও আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং উনার জখমের স্থান থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। তখন হযরত নুসাইবাহ্ বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি একটি পট্টি দিয়ে উনার আওলাদ উনার জখমের স্থান বেঁধে দিয়ে বলেন,
انْهَضْ بُنَيَّ فَضَارِبِ القَوْمَ
‘হে আমার সন্তান যান, উঠুন। আবার গিয়ে কাফিরদের সাথে সম্মানিত জিহাদ মুবারক করুন।’ সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিতা মাতা উনার এই উৎসাহ প্রদান হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার অন্তর মুবারক-এ সীমাহীন অনুপ্রেরণা জাগিয়ে দেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখন এই দৃশ্য দেখে ইরশাদ মুবারক করতে থাকলেন-
مَنْ يُطِيْقُ مَا تُطِيْقِيْنَ يَا حضرت أُمَّ عُمَارَةَ رضى الله تعالى عنه
‘হে হযরত উম্মু উমারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা! আপনি যা করতে পেরেছেন তা আর কে করতে পারবে?’ সুবহানাল্লাহ! (ত্ববাক্বাতুল কুবরা ১০/৩৮৫, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৩/৫১৬)
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (২৯)
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র তাশরীফ মুবারক প্রকাশের তারিখ অবশ্যই পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, কখনোই ৮ তারিখ নয়
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৪৫)
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৪৩)
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (২৮)
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে বড় ইবাদত
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চার খানা বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক (৭)
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (২৭)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৪৩)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া মুবারক ছিলো না
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












