সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৮৯)
, ০১ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত নুয়াইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কর্তৃক মুশরিকদের প্রতারণা প্রসঙ্গে:
হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা চিন্তিত ছিলেন। উপর-নীচ সবদিক থেকে শত্রুবাহিনী ঘিরে রেখেছিলো। আর তারা উনাদের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে রেখেছিলো।
এরপর নুয়াইম ইবনে মাসঊদ ইবনে আমির ইবনে উনাইফ ইবনে সা’লাবা ইবনে কুনফুয ইবনে হিলাল ইবনে খালাওয়া ইবনে আশজা ইবনে রাইছ ইবনে গাতফান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমিতো সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছি। কিন্তু আমার সম্প্রদায় সেটা জানে না। আপনি আমাকে যে কোন হুকুম করতে পারেন।’
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘আপনি আমাদের মধ্যে একা। আপনি যদি পারেন তবে তাদের মাঝে গিয়ে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দিন। কেননা, জিহাদে শত্রুদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে।’
হযরত নুয়াইম ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বের হয়ে পড়লেন। তিনি প্রথমে বনূ কুরাইজার কাছে গেলেন। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি তাদের একজন বন্ধু ছিলেন। তিনি তাদের বললেন, ‘হে বনূ কুরাইজা! তোমাদের সাথে আমার বন্ধুত্ব ও অন্তরঙ্গতা তোমাদেরতো জানা আছে।’ তারা বললো, ‘তুমি সত্য বলেছো। তোমার বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ নেই।’
হযরত নুয়াইম ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘কুরাইশ ও গাতফানের অবস্থা তোমাদের মত নয়। এটা তোমাদের দেশ। এখানেই তোমাদের ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি ও অবলা নারীরা রয়েছে। তোমরা তাদের অন্যত্র সরাতে পারবে না। কুরাইশ ও গাতফানরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে য্দ্ধু করতে এসেছে। তোমরা তাদের সহযোগিতা করছো। তাদের দেশ ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন এখানে নেই। কাজেই তাদের অবস্থা তোমাদের মত নয়। তারা সুযোগ পেলে তার সদ্ব্যবহার করবে। কাজেই তাদের অবস্থা তোমাদের মত নয়। পক্ষান্তরে অবস্থা প্রতিকূল দাঁড়ালে তারা দেশে ফিরে যাবে এবং তোমাদেরকে তোমাদের দেশে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুঠোর মধ্যে ছেড়ে যাবে। উনাদের সাথে শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। সুতরাং আমার পরামর্শ, তাদের কতিপয় নেতৃস্থানীয় লোককে তোমাদের কাছে বন্ধক না রাখা পর্যন্ত তোমরা তাদের সাথে মিলিত হয়ে যুদ্ধ করো না।’
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে, তাদের সাথে তোমাদের চুক্তির নিশ্চয়তাস্বরূপ সে লোকগুলোকে তোমরা তোমাদের মাঝে জিম্মি করে রাখবে। যুদ্ধ শেষে তাদের ছেড়ে দিবে।’
উনার কথা শুনে বনূ কুরাইজার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা বললো, ‘অতি উত্তম পরামর্শ।’
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












