ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
, ০২ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৭ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৬ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০১ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক পর্ব)
মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারকই ঈমান। ঈমান কমেও না আবার বৃদ্ধিও পায়না। বরং ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি কমে ও বাড়ে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত তথা প্রশংসা ও আলোচনা মুবারক দ্বারা ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধি পায়। আর উনার প্রতি বিদ্বেষ কিংবা উনার শান-মানের খিলাফ কথা-বার্তা, আচার-আচারণের কারণে অন্তরে নিফাকী বা কপটতা পয়দা হয়। দিল মরে যায়, কুৎসিত ও কদাকার হয়। পরিশেষে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্থানে অবস্থান হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
কাজেই যাঁরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বাপেক্ষা ও সবচেয়ে বেশী মুহব্বত করেন উনারা ঈমানদার। আর যারা সর্বাপেক্ষা ও সবচেয়ে বেশী মুহব্বত করে না, তারা দুই শ্রেণীতে বিভক্ত- (১) কাফির (২) মুনাফিক
(১) কাফির- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা প্রকাশ্য অস্বীকার করে। উনার প্রতি সর্বদা বিদ্বেষ পোষণ করে।
(২) মুনাফিক- যারা মুখে মুখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্যতা স্বীকার করে কিন্তু অন্তরে অস্বীকার করে। মুহব্বত করে না বরং বিদ্বেষ পোষণ করে। উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবার খিলাফ কথা-বার্তা বলে, আচার-আচরণ করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ!
কুল উম্মাহর প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বাপেক্ষা ও সবচেয়ে বেশী মুহব্বত করা। দুনিয়া ও আখিরাতের সবার এবং সবকিছুর উপরে উনাকে প্রাধান্য দেয়া। পবিত্র হাদীছ শরীফে সেটাই বর্ণিত আছে-
عن حضرت أنس ابن مالك رضي الله عنه قال قَالَ رسول الله صلي الله عليه و سلم لا يؤمنُ أحدكم حتى أكون أحبَّ إليه من والده وولده والناس أجمعين
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ আমাকে তোমাদের পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে এমনকি দুনিয়ার সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশী মুহব্বত না করবে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
আলোচ্য নিবন্ধে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে কতিপয় ঘটনা মুবারক উল্লেখ করা হলো- যা ইমানদারগণের যেমন ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধি করবে তেমনি কাফির, মুনাফিকদের কুফরী ও নিফাকীর মাত্রা বাড়িয়ে দিবে। সাথে সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে “ছহিবে ইলমে গাইব” তা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মানুষের মনের চিন্তা ভাবনাও বলে দিতেন:
(১) হযরত সালামাহ ইবনে আকওয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে ছিলেন। এক ব্যক্তি উনার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, আপনি কে?
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি মহাসম্মানিত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
সে ব্যক্তি আবার প্রশ্ন করলো, কিয়ামত কবে হবে?
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এটা গাইব বা অদৃশ্যের বিষয়। যা মহান আল্লাহ পাক তিনিই ভালো জানেন। লোকটি বললো, আমাকে আপনার তরবারি মুবারক খানা দেখান। তিনি তরবারি মুবারক খানা তাকে দিলেন। সে তরবারি মুবারক খানা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে ফিরিয়ে দিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তুমি যে ইচ্ছা করেছিলে, তার ক্ষমতা তোমার নেই।
সে ব্যক্তি বললো, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সত্যি আমার তাই ইচ্ছা ছিলো। তাবারানী শরীফে বর্ণিত আছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, লোকটির মনে ছিলো যে, সে আমার তরবারি মুবারক নিয়ে আমাকে শহীদ করবে। কিন্তু তা সে করতে পারলো না। সুবহানাল্লাহ!
(২) হযরত ওয়াবেসা আসাদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, আমি একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে ‘বির’ (সৎকর্ম) ও ‘ইছম’ (পাপকর্ম) সম্পর্কে প্রশ্ন করার জন্যে হাযির হলাম। তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, হে ওয়াবেসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আপনি যে বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্যে এসেছেন, আমি তা আপনাকে বলে দিচ্ছি।
আমি আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দয়া করে বললে খুশি হবো। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি সৎকর্ম ও পাপকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছেন। আমি বললাম, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, যিনি আপনাকে সত্য নবী ও রসূল করে পাঠিয়েছেন- আমি এজন্যই এসেছি। অতঃপর তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘বির’ তথা সৎকর্ম সেই কাজ, যে কাজে আপনার বক্ষ উন্মুক্ত থাকে, কোনরূপ সন্দেহের কাঁটা অনুভূত হয় না। আর ‘ইছম’ তথা পাপ কাজ সেই কাজ, যে কাজে আপনার মনে খটকা লাগে যদিও মানুষ আপনাকে তা (জায়েয বলে) ফতওয়া দিয়ে দেয়। (ইনশাল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১২)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারক মুসলমানদের জন্য ফরযে আইন
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১৪ পর্ব)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় খরচ করার অপরিসীম ফযীলত
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (৩)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












