ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৭৬)
, ০৭ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ মে, ২০২৬ খ্রি:, ১১ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সমস্ত কায়িনাত একমাত্র যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, যিনি ইমামুল মুরসালীন, যিনি খ¦তামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থেই সর্বপ্রকার নিয়ামত মুবারক পেয়েছে, পাচ্ছে এবং অনন্তকাল ধরে পেতেই থাকবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
সেই অসংখ্য অগণিত নিয়ামত মুবারকের মধ্যে বিশেষ নিয়ামত মুবারক হচ্ছেন, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আর উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক হচ্ছেন মহাসম্মানিত হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এখানে উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতটুকু, বান্দা-বান্দি, জিন-ইনসান তাদের কতটুকু জানা রয়েছে সেটাই ফিকিরের বিষয়। যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ
যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদেরকে নিয়মতগুলি দেয়া হয়েছে তোমরা সেটা প্রকাশ করো। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে লাভ করা হলো তাহলে উম্মত উনাদের সম্মানার্থে কতটুকু খুশি প্রকাশ করছে সেটা ফিকির করতে হবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উম্মত উনার কাছে আর্জি করেছিল খাদ্যসহ একটা খাঞ্জা নাযিল করার জন্য, কেন? নাযিল করলে কি হবে? ইয়াক্বীন বৃদ্ধি হবে, মহব্বত হবে, খাদ্য খেলে আরো আনুগত্যতা প্রকাশ পাবে ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কিছু। হযরত রূহুল্লাহি আলাইহিস সালাম তিনি বলেছিলেন, কোন উম্মতের জন্য কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছে মু’জিযা শরীফ দেখতে চাওয়াটা কখনও আদব নয়। কিন্তু তারপরও উনার উম্মতরা বার বার আর্জি করায় তিনি দোয়া করেছিলেন।
যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সেটা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اَللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيداً لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنْكَ وَارْزُقْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজে বলে দিচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক উনার দ্বারা, মহাসম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফে উনাকে নাযিল করে দিলেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বিষয়টা কত গুরুত্বপূর্ণ সেটাই বলা হচ্ছে,
قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ
ঈসা ইবনে মরিয়ম হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন,
اَللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ
আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্যসহ খাঞ্জা নাযিল করে দিন, আয় মহান রব তায়ালা, ইয়া বারী ইলাহী! নাযিল হলে কি হবে? তিনি অনেকগুলি বিষয় বললেন। যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, নাযিল করলে কি হবে?
تَكُونُ لَنَا عِيداً
আমাদের জন্য ঈদ হবে, খুশির দিন হবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কত খুশি হবে?
لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا
সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকলের জন্য খুশির দিন হবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! একটা খাদ্যসহ খাঞ্জা নাযিল করলে সেই দিনটা সৃষ্টির সকলের জন্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঈদের দিন খুশির দিন হবে, সেটাই তিনি প্রকাশ করলেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
وَآيَةً مِّنْكَ
এবং আপনার তরফ থেকে একটা বিশেষ নিদর্শন মুবারক হিসাবে এটা সাব্যস্ত হবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
وَارْزُقْنَا
আপনি আমাদেরকে রিযিক দান করেন
وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
আপনি উত্তম রিযিক দাতা। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
তাহলে দেখা যাচ্ছে, যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেই দিয়েছেন,
وَمَا مِنْ دَآبَّةٍ فِي الأَرْضِ إِلاَّ عَلَى اللهِ رِزْقُهَا
যমীনে যত প্রাণী আছে সকলের রিযিকের জিম্মাদার যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই। তারপরও বলা হচ্ছে, আপনি উত্তম রিযিক দাতা। দয়া করে আপনি খাদ্যসহ খাঞ্জা নাযিল করুন। খাদ্যসহ খাঞ্জা নাযিল করলে কি হবে? এই খাদ্য নাযিলের সেই দিনটা আমাদের জন্য ঈদের দিন হবে আর আপনার পক্ষ থেকে একটা নিদর্শন মুবারক হবেন, আমাদের জন্য উত্তম রিযিক হবেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِّنْ مَّالٍ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উট, গরু এবং মহিষ কুরবানীর ক্ষেত্রে শরীকানা বা একাধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত (২)
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দশনসমূহের তিনটি বিষয় উনাদেরকে খাছ করে সম্মান করা ফরয
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তিনটি বিষয় পূর্বের সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেয়
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












