ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (৭৭)
, ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এ সম্পর্কে বলা হয় একটা ওয়াক্বিয়া, হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সময় সেটা প্রকাশ পায়। যে, হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি অনেক সম্পদশালী ছিলেন। উনার অনেক জায়গা, যমীন, সম্পদ অনেক ছিলো। উনার এই সম্পত্তি পাহারা দেয়ার জন্য, পশুপাল পাহারা দেয়ার জন্য দশ হাজার কুকুর ছিলো। দশ হাজার কুকুর। আর প্রত্যেকটা কুকুর চিহ্নিত করার জন্য স্বর্ণের লকেট পরানো ছিলো। স্বর্ণের লকেট। এটা উনার কুকুরকে চিনার জন্য পাহারাদার হিসেবে, দশ হাজার কুকুর। তিনি প্রায়ই বের হতেন দেখার জন্য উনার জায়গা-যমীন, এই পশুপাল ইত্যাদি।
একদিন হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বের হয়েছেন, যাচ্ছেন হঠাৎ দেখলেন সামনের দিকে একটা বিকট ছূরত। এমন বিকট ছূরত যা দেখলে মানুষ ভয় পেয়ে যাবে। তিনি থেমে বললেন যে, কে তুমি? এমন ছূরত তোমার? বিকট ছূরত। তোমাকে দেখলেতো মানুষ ভয় পাবে। তখন সেই ছূরতটা বললো যে, আপনি সত্যিই বলেছেন আমাকে দেখলে মানুষ সব সরে যায়। কে তুমি? সে বললো, আমি একজন ফেরেশতা। তুমি একজন ফেরেশতা, তোমার এই ছূরত কেন? তুমি একজন ফেরেশতা তাহলে তোমার এই ছূরত কেন? তখন সেই ফেরেশতা তিনি বললেন, হে হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আমি আসছি আপনার সুপারিশের জন্য। কি সুপারিশের জন্য? আমার যে এ অবস্থা হয়েছে অর্থাৎ আকৃতি-বিকৃতি, এতো লাঞ্চনার কারণ হলো, আমাদের অর্থাৎ সমস্ত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামের জন্য ফরযে আইন মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত পাঠ করা, এটা ফরয। যে না পড়বে, তার জন্য শাস্তি। তখন এই ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন যে, আমি একবার মনে মনে চিন্তা করলাম যে, একবার না পড়লে কি হয় দেখি? এই চিন্তা করার সাথে সাথে চোখের পলকে আমাকে আকাশ থেকে যমীনে ফেলে দেয়া হলো, আমার আকৃতি-বিকৃতি করে দেয়া হলো। নাউযুবিল্লাহ! যখন আমার এই অবস্থা হয়ে গেল, তখন আমি কি করে উদ্ধার পাবো আমার সেই আকল-সমঝ, বুদ্ধি কিছুই আসতেছেনা কি করে আমি উদ্ধার পাবো, নাজাত পাবো। আমি মানুষ দেখলে কাছে যাই কিন্তু মানুষ আমাকে দেখলে সকলে সরে যায়। এখন আমি আসছি আপনার কাছে। কেন আসছো? যে, দয়া করে আপনি আমার জন্য একটু সুপারিশ করুন। কি সুপারিশ করতে হবে? আমার যে অবস্থা হলো যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে যেন ক্ষমা করে দেন। তখন হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, এটা কঠিন বিষয়, এটা স্বভাবিক বিষয় না। তুমি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে এই কাজটা করেছ। এখন এর তো মাফ পাওয়া কঠিন। কিন্তু সেই ফেরেশতা কাকুতি-মিনতি, কান্না-কাটি করতে থাকলো। তিনি বললেন, ঠিক আছে, আমি তোমার জন্য সুপারিশ করতে পারি, কিন্তু কবুল করার মালিক যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার ইখতিয়ার। ঠিক আছে। তিনি দু’ রাকায়াত নামায পড়ে দোয়া মুবারক করলেন যে, বারে ইলাহী! এ ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনিতো বুঝতে পারেন নি, ভুল হয়ে গেছে, যেই মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে সে বেয়াদবী করেছে উনার সম্মানার্থে আপনি ক্ষমা করে দিন। উনার সম্মানার্থে আপনি ক্ষমা করে দিন। যখন এই দোয়া তিনি করলেন, যেহেতু তিনি একজন জলীলুল ক্বদর রসূল আলাইহিস সালাম, তখন যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, হে হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আমি কিন্তু তাকে মাফ করতাম না। কারণ সে চরম বেয়াদবী করেছে। আপনি দোয়া মুবারক করেছেন আর দোয়ার মধ্যে আপনি বলেছেন, যেই মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে বেয়াদবি করেছে সেই মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে যেন ক্ষমা করা হয়। যেহেতু উনার দোহাই, উছীলা মুবারক আপনি দিয়েছেন কাজেই সেই সম্মানার্থে আমি আপনার দোয়া মুবারক কবুল করে তাকে আমি ক্ষমা করে দিলাম। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বিষয়টা কিন্তু স্বাভাবিক না। আমি কিন্তু তাকে কখনও ক্ষমা করতাম না। চরম বেয়াদবী সে করেছে। শুধুমাত্র আপনি আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উছীলা মুবারক দিয়েছেন। উনার উছীলা মুবারক দিয়ে কিছু বললেতো সেটা ফিরিয়ে দেয়া যায় না। উনার সম্মানার্থে আমি এটা কবুল করে, তাকে ক্ষমা করে দিলাম। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সাথে সাথে সেই ফেরেশতার ফেরেশতা ছূরত হয়ে গেল এবং সেই ফেরেশতা উনার কাছে দোয়া চেয়ে সে আবার আকাশে চলে গেল। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি; অস্বীকারকারীরা কাট্টা কাফির (১২)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শরীয়ত বিরোধী কাজ দেখলেই বাধা দেয়া ঈমানের আলামত
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন উনার অপরিহার্য অংশ- ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডার “আত তাক্বউইমুল কামারী” {১}
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস উনার সম্মানার্থে তিনটি দরজা খোলা হয়-
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












