পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
, ১২ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০২ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র নামাযের আহকাম ও আরকান :
আমরা যেকোনো ইবাদত করতে যাই না কেন, তার পূর্বে সে বিষয়ে ইলম তথা মাসয়ালা-মাসায়িল জানা ফরয। অন্যথায় সে ইবাদত পালন বা আদায় করা আদৌ সম্ভব নয়। যেমন- নামায একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এ ইবাদত আদায় করতে হলে নামাযের আহকাম বা শর্ত এবং আরকান বা ছিফত সস্পর্কে জানা একান্ত জরুরী। কারণ আহকাম ও আরকান উনাদের মধ্য থেকে একটি শর্ত বা একটি রুকনও যদি পালন করা না হয়, তবে নামায ছহীহ হবে না।
নামাযের আহকাম বা শর্ত ৭টি।
১. নামাযের ওয়াক্ত হওয়া।
২. শরীর পাক হওয়া।
৩. কাপড় পাক হওয়া।
৪. ছতর ঢাকা।
৫. জায়গা পাক হওয়া।
৬. ক্বিবলামুখী হওয়া।
৭. নিয়ত করা।
আরকান বা ছিফত ৬টি।
১. তাকবীরে তাহরীমা বাঁধা।
২. ক্বিয়াম করা।
৩. ক্বিরাআত পড়া।
৪. রুকূ’ করা।
৫. সিজদা করা।
৬. আখিরী বৈঠক করা।
এই আহকাম ও আরকান উভয়কে নামাযের ফরযও বলা হয়ে থাকে।
পবিত্র নামাযের আহকাম সম্পর্কিত মাসয়ালা :
১. শরীরকে যাহিরী বা বাহ্যিক এবং বাতিনী বা আভ্যন্তরীণ উভয় প্রকার নাপাকী থেকে পাক করা। অর্থাৎ শরীরে কোনো প্রকার নাজাসাত লেগে থাকলে, তা দূর করে শরীরকে পাক করতে হবে। অতঃপর গোসলের প্রয়োজন হলে গোসল করতে হবে এবং উযূ না থাকলে উযূ করে নিতে হবে।
অনুরূপ কুফর, শিরক, বিদয়াত, রিয়া, অহঙ্কার ইত্যাদি আভ্যন্তরীণ নাপাকী হতে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে খালিছভাবে ইবাদতে নিমগ্ন হতে হবে।
যদি কোথাও এত অল্প পরিমাণ পানি থাকে, যা দ্বারা উযূ করলে নাপাকী ধৌত করা যায় না, আর নাপাকী ধৌত করলে উযূ করা যায়না, এমতাবস্থায় ওই পানি দ্বারা নাপাকী ধুয়ে নিতে হবে এবং উযূ উনার পরিবর্তে তাইয়াম্মুম করতে হবে।
আর যদি শরীরের কিছু অংশে নাপাকী লাগে এবং তা ধৌত করার জন্য কোথাও পানি পাওয়া না যায়, তবে ওই নাপাক শরীর নিয়েই নামায পড়তে হবে, তবুও নামায ছাড়া যাবে না।
২. শরীরের মতই কাপড়েও কোনো প্রকার নাজাসাত লাগলে, তা দূর করে কাপড়কে পাক করতে হবে।
কাপড়ে নাজাসাতে গলীজা, যেমন- পেশাব, পায়খানা, রক্ত ইত্যাদি এক দিরহামের চেয়ে বেশি এবং নাজাসাতে খফীফা কাপড়ের এক চতুর্থাংশের বেশি লাগে তবে ওই কাপড় পরিধান করে নামায পড়লে নামায শুদ্ধ হবে না।
যদি নাপাক কাপড় ব্যতীত আর অন্য কোনো পাক কাপড় না থাকে, তবে ওই নাপাক কাপড় পরিধান করেই নামায পড়া উত্তম। কেননা এতে ছতর আবৃত করার ফরয আদায় হয়।
৩. নামাযের মধ্যে পুরুষের জন্য ছতর হলো নাভির নিচ হতে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। আর ক্রীতদাসীর জন্যও ছতর হলো পুরুষের ন্যায়। তবে তার অতিরিক্ত পেট ও পিঠ ছতরের মধ্যে গণ্য। আর স্বাধীনা স্ত্রী লোকের জন্য নামাযে ছতর হলো উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত, এছাড়া দু’ পা এবং মুখম-ল ব্যতীত সমস্ত শরীর।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুগন্ধে ভরে উঠলো পুরো মাঠ!
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৪)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












