¬ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (৫২)
, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
উনি অনেক চিন্তা করতে করতে গভীর রাতে ঘুমিয়ে গেলেন। ঘুমের মধ্যে তিনি স্বপ্নে শামাউনকে দেখলেন। সে স্বর্ণের মুকুট মাথায় প্রফুল্ল অবস্থায় দামী দামী পোশাক পরিচ্ছদ পরে বেহেশ্তের মধ্যে বিচরণ করছে, খুব হাসি-খুশি। সে বললো, হে হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনার কথা আমি সত্য পেয়েছি। হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, কেমন আছ? আপনি যেমন দেখছেন। বললো, হুযূর! আপনার এই কাগজটার এখন আর জরুরত নেই, আপনি এটা নিয়ে নেন।
হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি চিন্তা করছিলেন, কাগজটা আবার যদি ক্বিয়ামতের দিন পেশ করে, তাহলে আমার কি অবস্থা হবে?
সে বললো, হুযূর! আপনার কাগজের আমার আর কোন জরুরত নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার ফয়সালা করে দিয়েছেন। কাগজটা আপনি দয়া করে নিয়ে যান।
হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেই কাগজটা নিয়ে নিলেন। উনার ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঘুম থেকে উঠে দেখেন, উনার হাতে সেই কাগজটা রয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!
وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
তারাই কামিয়াব
هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
যাঁরা তাকওয়া অর্জন করেছে।
ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
যাঁরা মুত্তাক্বীন উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পছন্দ করেন। কাজেই এটা এমন এক কিতাব, যে কিতাবের মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। ঐ কিতাবের দ্বারা তারাই ফায়দা হাছিল করতে পারবে, হেদায়েত প্রাপ্ত হবে, যাঁরা মুত্তাক্বীনের অন্তর্ভুক্ত।
মূলতঃ সময় খুব সংক্ষিপ্ত, এর মধ্যে হয়তো আরো অনেক জরুরী কথা রয়ে গেছে, মোটামুটি যতটুকু বলা হয়েছে তাকওয়া সম্পর্কে, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে তাকওয়া, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে তাকওয়া, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে তাকওয়া, হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের সাথে তাকওয়া অর্জন করার তৌফিক দান করেন ।
মূলতঃ প্রত্যেক মানুষের সাথে তাকওয়া, সেই হাক্বীক্বী তাকওয়া মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে যেন অর্জন করার তৌফিক দান করেন। কারণ, মানব জীবনে তাকওয়া অনেক বড় বিষয়।
আকায়েদের মধ্যে তাকওয়া, কলেমার মধ্যে, নামাযের মধ্যে, হজ্জের মধ্যে, যাকাতের মধ্যে, উঠা-বসা, খাওয়া-দাওয়া, চলা-ফেরা প্রত্যেক বিষয়ে তাকওয়া আছে। তাকওয়ার আলোচনা শেষ করা যাবে না। এই তাকওয়ার আলোচনা করতে গেলে বছরের পর বছর সময়ের দরকার। এক ঘন্টা, দুই ঘন্টা, একদিন, দুইদিনে সম্ভব নয়।
কাজেই আমরা যতটুকু বলতে পেরেছি, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে তার উপর আমল করার তৌফিক দান করেন এবং আমাদেরকে হক্বের উপর কায়েম রাখেন, ভুল-ত্রুটি আমাদের মাফ করেন। আমীন!
হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাই করলেন। কিন্তু তাকে যখন দাফন করে তিনি চলে আসলেন, তখন উনার মনে চিন্তা উদয় হলো যে, আয় মহান আল্লাহ পাক! আমি এটা কি করলাম। আমারইতো নাজাতের কোন নিশ্চয়তা নেই, আমি নাজাত পাই কি-না? অথচ আমি ওই লোককে লিখে দিলাম যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে কবরের আযাব থেকে নাজাত দিয়ে দেবেন। এটা কেমন কাজ হলো?
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












