ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (২৯)
, ০২ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ০৯ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
আর যেটা মূল অর্থ মুসলমান শব্দের। মুসলমান শব্দের অর্থ কি?
كردان نهادن بطاعت
আনুগত্যের সহিত আত্মসমর্পন করা। একটা চোরকে যখন পুলিশে ধরে, চোরের হাত বাঁধা থাকে। চোর সুযোগ খুঁজতে থাকে পালানোর জন্যে। কিন্তু মুসলমান তদ্রƒপ নয়। মুসলমান গরমের দিনেও রোযা রাখলে পানিতে ডুব দিয়ে পানি পান করে না। মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আনুগত্যতার সাথে আত্মসমর্পণ করে।
কাজেই ঠিক এই যে তাকওয়াটা অর্জন করতে হবে সেটাই আল্লাহওয়ালা লোকদের ছোহবত ইখতিয়ার করার বদৌলতেই মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে এই নিয়ামত দান করবেন।
এজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
إِنَّ رَحْمَتَ اللهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ
“মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত যাঁরা নেককার উনাদের নিকটবর্তী। ”
যাঁরা নেককার উনাদের নিকটবর্তী মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত। আর নেককার না হলে সেই রহমত পাওয়া যাবে না।
এ প্রসঙ্গে একটা কথা উল্লেখ করা হয়ে থাকে, সেটা হলো- কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এক বুজুর্গ ব্যক্তিকে এক লোক জিজ্ঞেস করল- হুযূর! একটা মাসআলা। কি মাসআলা? মাসআলাটা হলো আজকাল অনেক লোক দেখা যায়, মারা গেলে বলে থাকে, আমাকে অমুক বুজুর্গ লোকের কবরের পাশে দাফন করো। এটা কতটুকু সত্য?
তখন ছিল গরমকাল। লোকটা সামনে বসে প্রশ্ন করেছেন। বুজুর্গ ব্যক্তির পিছন থেকে পাখা দিয়ে বাতাস করা হচ্ছে। সামনে লোকটা বসা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বাবা! তোমার শরীরে কি বাতাস লাগে? সে বললো, জী হুযূর! বাতাস লাগে। তোমাকে কি কেউ বাতাস করে? সে বললো, জী-না হুযূর, আমাকে কেউ বাতাস করে না। কাকে করে? আপনাকে করে। তো তোমার গায়ে কেন লাগে? আমি যে আপনার নিকটবর্তী হয়েছি সে জন্যে।
তখন মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী বললেন-
إِنَّ رَحْمَتَ اللهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ
“মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত যাঁরা নেককার উনাদের নিকটবর্তী। ”
আল্লাহওয়ালা উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত, যাঁরা আল্লাহওয়ালা উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত সবসময় বর্ষণ হতে থাকে। উনাদের নিকটবর্তী যারা হয় তারাও পর্যায়ক্রমে আল্লাহওয়ালা হয়ে যায়। উনি যিন্দাই হোন আর ইন্তেকাল করে থাকেন না কেন উনার কাছে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত বর্ষিত হতে থাকে। এবং উনার নিকটবর্তী হলে সেই ফয়েযটা সে হাছিল করতে পারে।
এজন্যে বলা হয়, যদি কেউ সত্যি সত্যি আল্লাহওয়ালা হয়েই থাকে, যেটা তাছাওউফের কিতাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে, যারা কামেল বুজুর্গ, উনাদের একটা লক্ষণ হলো, যদি উনারা সত্যই কামেল হয়ে থাকেন তাহলে উনার ছোহবত যারা ইখতিয়ার করবে, যেহেতু উনার প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত বর্ষিত হবে সুতরাং উনার নিকটবর্তী যারা হবে তাদের কাছে সেই রহমতের হিস্যা অবশ্যই পৌঁছবে। এবং আস্তে আস্তে তারাও আমলদার হয়ে যাবে। তারাও নেককার হয়ে যাবে। আবার যে লোক বুজুর্গ দাবী করে বা যে মানুষের বাইয়াত গ্রহণ করে, ইছলাহ এবং হিদায়াতের জন্য সেই লোকের নিকটবর্তী হওয়ার পরে যদি কোন লোক আমল আখলাকে শুদ্ধ না হয়, তাহলে অবশ্যই সেই লোকের ছোহবত ইখতিয়ার করা জায়েয নয়।
কাজেই এখন মূল যে বিষয়টা সেটা মনে রাখতে হবে, সেটা হলো তাকওয়া। প্রত্যেক স্তরে, আর মূল তাকওয়া অর্জন করতে হলে কোন বুজুর্গ, আল্লাহওয়ালা লোকের ছোহবত ইখতিয়ার করতে হবে। ইলমে ফিকাহ যেমন ফরজ, ইলমে তাছাওউফটাও তেমনি অর্জন করা ফরজ। তা না হলে দিল ইছলাহ হবে না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত তিনটি বিষয়
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি কেউ হাক্বীক্বী ভয় করতে চায়, তার তিনটি দায়িত্ব
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












