ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (২০)
, ২৪ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ০১ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মূলতঃ তার তাকওয়ার কেন্দ্রবিন্দু কি?
মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-
اَلتَّقْوَى ههُنَا، وَأَشَارَ إِلَى صَدْرِهِ
তাকওয়া হলো সিনার মধ্যে অর্থাৎ ক্বলবের মধ্যে তাকওয়া। যেমন একটা মেছাল ধরেন, একটা লোক যদি বয়স্ক হয়, তার দাড়ি ওঠে। আঠার, বিশ বছর, বাইশ বছরে তার দাড়ি উঠে যায়। সে যদি দাড়ি কাটেও যদিও এটা গুনাহের কাজ, তবুও তার আবার দাড়ি উঠে যায়। একটা গাছ বড় হচ্ছে- ফুল গাছ, গোলাপ ফুল। প্রত্যেকদিন মানুষ গোলাপ ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যায়। কিন্তু পরের দিন আবার তার মধ্যে ফুল হয়। কারণ তার এটা উপযুক্ত হয়ে গেছে। কাজেই মূল সময় যখন হয়ে যাবে, সেটা থেকে তার পূর্বেই সেটা আসবে। আর তাকওয়া যদি তার দিলের মধ্যে প্রবেশ করে যায়, হাছিল হয়ে যায় তাহলে তার তাকওয়া, ওখান থেকে আমল-আখলাক, তার প্রকাশ্য শরীরের মধ্যে যাহির হয়ে যাবে। এজন্য একটা কথা বলা হয়ে থাকে-
كُلُّ اِنَاءٍ يَتَرَشَّحُ بِمَا فِيْهِ
“পাত্রে আছে যা, ঢালিলে পড়িবে তা”।
যার মধ্যে যেটা থাকে, সে সেটাই পেশ করে থাকে। ভাল লোক সবসময় ভাল কথা বলে থাকে। খারাপ লোক খারাপ কথা বলে থাকে। তার কারণ দিলের মধ্যে যেটা রয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়ে থাকে যে, কিতাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে, এক লোক ইন্তিকালের সময়ে তাকে বার বার তালক্বীন দেয়া হচ্ছে পবিত্র কলেমা শরীফ। পবিত্র কলেমা শরীফ উনার তালক্বীন দেয়া হলে সে বার বার বলে- এক এক, দুই দুই, তিন তিন বলে বেহুঁশ হয়ে গিয়েছিল আবার সে সুস্থ হলো।
সুস্থ হওয়ার পর জিজ্ঞেস করা হলো, বাপু! তোমাকে বলা হলো কলেমা শরীফ, আর তুমি বলছ এক এক, দুই দুই, তিন তিন, কি ব্যাপার?
সে বলল যে, দেখ মূলতঃ তুমি যখন আমাকে পবিত্র কলেমা শরীফ উনার তালক্বীন দাও তখন মনে হলো, আমার জিহ¡ার মধ্যে যেন একটা পিন লাগান আছে, আমি এটা বলতে চাই না। আমার মুখ দিয়ে আপসে আপ বের হয়ে যায় এক এক, দুই দুই, তিন তিন। কি ব্যাপার এটা কেন বের হয়?
সে বলল যে দেখ, আমি মূলতঃ ব্যবসা করতাম। মাপ দিয়ে জিনিস বিক্রি করতাম, তার মধ্যে আমি হেরফের করতাম। যার জন্য আমি এক এক, দুই দুই, তিন তিনই বলি। আমার মধ্যে পবিত্র কলেমা শরীফ আসে না।
كُلُّ اِنَاءٍ يَتَرَشَّحُ بِمَا فِيْهِ
“পাত্রে আছে যা, ঢালিলে পড়িবে তা”।
দিলের মধ্যে যেটা থাকবে সেটাই বের হবে। যদি আপনার দিলে তাক্বওয়া আপনি প্রবেশ করাতে পারেন তাহলে আপনার বাহ্যিক শরীরের মধ্যে তাক্বওয়া ফুটে উঠবে।
আর যদি দিলের মধ্যে তাক্বওয়া না থাকে, তাহলে কি করে বান্দার তাক্বওয়া জাহির হবে? কখনও সম্ভব নয়। দেখেন পরহেযগারী যে ইখতিয়ার করেছে উনার হালাল কামাই করা ফরজ।
طَلَبُ كَسْبِ الْحَلاَلِ فَرِيضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ
“হালাল কামাই করা ফরজ অন্যান্য ফরজের পরে।”
হযরত ইমাম আ’যম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যে কত বড় পরহেযগার, মুত্তাকী ছিলেন, তাক্বওয়াধারী ছিলেন। উনার লক্ষ, লক্ষ, কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ছিল। সে যামানায় আজকের থেকে প্রায় সাড়ে বারশ’ বছর, তেরশ’ বছর আগেকার কথা। উনি একবার এক দোকানের এক কর্মচারী বিক্রেতার কাছে কিছু কাপড় বিক্রি করার জন্যে দিলেন। তার মধ্যে একটা কাপড়ে কিছু দোষ ছিল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৫)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৬)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট মাসায়িল
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












