ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (৮)
, ১১ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৪ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ২০ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কাজেই হযরত মুআয ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, গীবত যারা করবে তাদের আমলনামা প্রথম আকাশ দিয়ে উত্তীর্ণ হবে না এবং এই সাত প্রকার লোকের দোষত্রুটি বর্ণনা করলে সেটা গীবত হবে না। তাছাড়া যাদের দোষত্রুটি বর্ণনা করা হবে সেটা গীবত হবে।
যেমন বলা হয়, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, একদিন এক মহিলা এসেছিলেন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার কাছে। মূলতঃ উনি এসেছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে কিছু মাসআলা জিজ্ঞেস করার জন্য।
হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি উনার বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন যে, উনি খাট ধরনের, বেটে ধরনের। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম! এ কথা বলবে না। এ কথা বললে গীবতের পর্যায়ে চলে যাবে, কারণ এটাও উনার একটা দোষের মধ্যে চলে যায়। এটা শুনলে তিনি হয়ত সন্তুষ্ট হবেন না।
মূলতঃ গীবতের মূল সংজ্ঞা যেটা, সেটা হলো- যে লোকটা সম্পর্কে কথা বলা হবে, কথাটা সত্যই হবে কিন্তু সে শুনলে অসন্তুষ্ট হবে। আর তার অজান্তে অথবা অনিচ্ছাকৃত সে দোষ করে ফেলেছে হয়ত সে তওবা করে ফেলেছে, তখন তার দোষত্রুটিগুলি যদি বলা হয় তাহলে সেটা গীবত। আর যেটা সে করে নাই, যেটা সত্য নয় সেটা হলো তোহমত সেটা আরও বড় গুনাহ্। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, সেটা আরও বড় গুনাহ্।
কাজেই যারা গীবতকারী, গীবতকারীর আমলনামা প্রথম আকাশ থেকে উত্তীর্ণ হবে না।
এরপর বলা হয়েছে, যখন গীবতকারীদের আমলনামা রেখে দেয়া হবে বাকী যারা আছে তাদের আমলনামা উঠতে থাকবে আকাশের দিকে। পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় আকাশে গিয়ে যখন পৌঁছবে, তখন দ্বিতীয় আকাশের ফেরেশতা বলবেন, “রাখুন আমলনামাগুলি, আমাকে যাচাই বাছাই করতে দিন। আমাকে পরীক্ষা করতে দিন। ”
তখন অন্যান্য যারা আমলবাহী ফেরেশতা উনারা বলবেন, “হে ভাই ফেরেশতা! আপনি কি যাচাই বাছাই করবেন?” পরীক্ষক ফেরেশতা বলবেন, যে ব্যক্তি মান-সম্মান হাছিল করার জন্য ইবাদত করেছে তার আমলনামাগুলি আমার এ আকাশ দিয়ে উত্তীর্ণ হবে না। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-
مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ أُرْسِلاَ فِي غَنَمٍ أَفْسَدَ لَهَا مِنْ حِرْصِ الْمَرْءِ عَلَى الْمَالِ، وَالشَّرَفِ لِدِينِهِ.
কোন ব্যক্তি যদি মান-সম্মান হাছিল করার জন্য কোন ইবাদত-বন্দিগী করে থাকে, সে তার আমলনামা এতটুকু ক্ষতি করল যেমন দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে একপাল মেষের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হলে যতটুকু ক্ষতি করবে, তার চেয়ে বেশী ক্ষতি করবে ঐ ব্যক্তি তার আমলনামার মধ্যে, যে ব্যক্তি মান-সম্মান হাছিল করার জন্য, মর্যাদা হাছিল করার জন্য কোন আমল করলো।
পরীক্ষক ফেরেশতা বলবেন, যারা মান-সম্মানের জন্য আমল করেছে মূলতঃ তাদের আমল আমি এই রাস্তা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে দেব না।
যেমন এ প্রসঙ্গে একটি ওয়াকেয়া বলা হয়ে থাকে, হযরত মালেক দিনার রহমতুল্লাহি আলাইহি একজন বুযুর্গ ছিলেন। উনি দামেস্কের এক মসজিদে এক বৎসর ই’তিকাফ করলেন, উনার উদ্দেশ্য ছিল উনি মসজিদের মোতওয়াল্লি হবেন এবং মান-সম্মান হাছিল করবেন।
এক বৎসর যাবৎ উনি ই’তিকাফ করলেন, নামায-কালাম খুব বেশী বেশী করে করলেন, মানুষকে দেখালেন বেশী বেশী করে। যাতে মানুষ উনাকে পরহেযগার, মুত্তাকী, তাকওয়াধারী মনে করে এবং এ ধারণা করে, উনাকে মোতওয়াল্লির পদটা দেয়া দেয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












