ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য ও হুকুম-আহ্কাম (৮১)
, ১৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
যখন একথা বলা হলো, হযরত আবূ ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি মনে মনে ফিকির করলেন, এমন একটা মেয়েকে বিবাহ করে তার মাধ্যমে কোন খিদমত নেয়া কখনই সম্ভব হবে না। বরং তাকেই খিদমত করতে হবে। কিন্তু পরক্ষণেই ফিকির করলেন, যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারকের জন্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক দরকার রয়েছে, যদি হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি ক্ষমা না করেন, তাহলে পরকালে জবাবদিহী করবেন কি করে? ইত্যাদি ইত্যাদি চিন্তা করে সম্মতি প্রকাশ করলেন, ঠিক আছে, যদি আপনার আপেল ফলের মূল্য পরিশোধ করার জন্য আপনার মেয়েকে বিবাহ করতে হয়, তাহলে আমি রাজী রয়েছি, কোন অসুবিধা নেই, আপনি ব্যবস্থা করুন।
বিবাহের ব্যবস্থা হলো, বিবাহ হয়ে গেলো। হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবূ ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বাসর ঘরে পাঠিয়ে দরজা থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে রইলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কোন একটা ঘটনা ঘটবে। কারণ ছেলে এত মুত্তাক্বী, এত পরহেযগার, এত তাক্বওয়াধারী, তার দ্বারা কোন ঘটনা ঘটাটাই স্বাভাবিক। তাই তিনি একটু দূরে দাঁড়িয়ে রইলেন।
তিনি প্রবেশ করা মাত্রই দ্রুতগতিতে দৌঁড় দিয়ে বের হয়ে আসলেন। হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি লক্ষ্য করতে লাগলেন যে, হযরত আবূ ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি দ্রুতগতিতে দৌঁড়ে বের হয়ে আসলেন। বের হয়ে আসা মাত্রই সাক্ষাৎ হয়ে গেলো হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, আপনি ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন কেন?
হযরত আবূ ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, হুযূর! বেয়াদবী মাফ করবেন। একটা আপেল ফল খাওয়ার জন্য যদি ১২ বৎসর বাগানে কাজ করতে হয়, একটা লুলা, লেংড়া, অন্ধ, খঞ্জ, বোবা, বধির মেয়েকে বিবাহ করতে হয়, তাহলে একটা বেগানা মেয়েকে দেখলে, তার কাফফারা কতটুকু আদায় করতে হবে? সেটা আমার জানা নেই। আমি প্রবেশ করে দেখেছি, আপনি যা বলেছেন, তার বিপরীত। তাই এই বেগানা মেয়েকে যদি দেখা হয়, তাহলে তার কতটুকু কাফফারা আদায় করতে হবে? সেজন্য আমি দ্রুতগতিতে বের হয়ে এসেছি।
হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি একথা শুনে বুঝলেন, তিনি যা চিন্তা করেছেন, তাই হয়েছে। তিনি বললেন, চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনি ধৈর্যধারণ করুন। আপনি যাকে দেখেছেন, সেই আপনার স্ত্রী। আপনি রাত্র অতিবাহিত করুন। সকাল বেলা আমি যা কিছু বলার সেটা বলবো।
হযরত আবূ ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি রাত্র কাটিয়ে বাদ ফজর যখন আসলেন, হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আপনি রাত্রে তো মেয়েকে দেখে বের হয়ে এসেছিলেন, যেহেতু যা বলা হয়েছে, তার বিপরীত আপনি দেখেছেন। বলা হয়েছিলো লুলা, লেংড়া, অন্ধ, খঞ্জ, বধির, বোবা, কুৎসিৎ ইত্যাদি। কিন্তু আপনি তার বিপরীত পেয়েছেন। আমি যে অর্থে বলেছি, সে অর্থ হচ্ছে, আমি যে তাকে বলেছি, সে বোবা, সে পর পুরুষের সাথে কখনো কথা বলেনি। বধির বলেছি, পর পুরুষের কোন কথা সে শুনেনি। অন্ধ বলেছি, পর পুরুষকে সে দেখেনি। লুলা-ল্যাংড়া, খঞ্জ বলেছি, সে কোন পাপ কাজের দিকে ধাবিত হয়নি। কুৎসিৎ-কদাকার বলেছি, কোন বেগানা পুরুষ তাকে দেখেনি। ইত্যাদি ইত্যাদি কারণে আমি এগুলো বলেছি। প্রকৃতপক্ষে আমার মেয়ের কিন্তু কোন খুঁত নেই, সে নিখুঁত।
যখন একথা স্পষ্ট করে বলে দেয়া হলো, হযরত আবূ ছালেহ মূসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করলেন। উনি যেমন পরহেযগার এবং যেমন মেয়ে চেয়েছিলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি তেমনই মিলিয়ে দিয়েছেন। আর সেই ঘরেই বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করলেন গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৪)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৩)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৫)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মু’তাকিফ ব্যক্তি উনাদের জন্য তিনটি সুসংবাদ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৩)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৭)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












