ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য ও হুকুম-আহ্কাম (৫৮)
, ২৪ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ০৫ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
আখিরী রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন যে দেখো, আমার উম্মতের যে সালাম সেটা হচ্ছে- اَلسَّلامُ عَلَيْكُمْ (আসসালামু আলাইকুম) এটা বলা। আর ইহুদীদের সালাম হচ্ছে, اَلْإِشَارَةُ بِالأَصَابِعِ আঙ্গুলি দিয়ে ইশারা করা। ” আর খৃষ্টানদের সালাম হচ্ছে, اَلْإِشَارَةُ بِالأَكُفِّ হাতের তালু দ্বারা ইশারা করা। ” কাজেই সে রকম করবে না। স্পষ্টভাবে বলবে- اَلسَّلامُ عَلَيْكُمْ (আসসালামু আলাইকুম)
হ্যাঁ, যদি কেউ বলে, দূরবর্তী কোন ব্যক্তি যদি সালাম দিতে চায়, তাহলে কি করে সালাম দিবে? যেটা মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। যার উপর ফতওয়া দেয়া হয়েছে, সেটা হচ্ছে মুসলমানরা আঙ্গুলও তুলবে না, হাতের তালু দ্বারাও ইশারা করবে না। তবে যারা ইশারা করবে তারা এভাবে করবে, অর্থাৎ প্রত্যেকেই তার সিনা থেকে মাথা পর্যন্ত হাত দ্বারা ইশারা করবে। তবে হাতের তালু না দেখিয়ে বা আঙ্গুলী না দেখিয়ে অর্থাৎ ইহুদীদের সালাম হলো ইশারা করা। আর ইশারা হলো, আঙ্গুল দিয়ে- এক, দু, তিন আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা। আর খৃষ্টানদের সালাম হলো, হাতের তালু দিয়ে বা তালু দেখিয়ে ইশারা করা।
আর মুসলমানদের নিয়ম হচ্ছে, তারা সালাম দেয়ার জন্য হাত দিয়ে যখন ইশারা করবে তখন হাতের তালু নিজের দিকে রেখে ও হাতের পিঠ বাইরের দিকে রেখে ইশারা করবে। আর সেটার হদ হচ্ছে কপাল থেকে সিনা, কপাল থেকে সিনা; এর মধ্যে হলে উত্তম। যদি ব্যতিক্রম হয় মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করবেন। তবে অবশ্যই হাতটা ঘুরিয়ে দিবে।
কাজেই মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন যে, তোমরা মুসলমানরা ইহুদী-নাছারাদের অনুসরণ করো না। অর্থাৎ সেভাবে ইশারা করো না। এটাই হচ্ছে মুসলমানদের জন্য নির্দেশ। আর যখন নিকটবর্তী হবে তখন কিন্তু ইঙ্গিত-ইশারা চলবে না, তখন সরাসরি اَلسَّلامُ عَلَيْكُمْ (আসসালামু আলাইকুম) এ শব্দটা বলতে হবে। এরপর যদি অনুমতি দেয় তখন সে প্রবেশ করবে। তাহলে তার জন্য পর্দার সহায়ক হবে। এটা হচ্ছে তার পর্দার সহায়ক।
আর কিছু লোক রয়েছে এমন, যারা কারো বাড়ীতে গেলে অনুমতি না পেলে গোস্বা করে এই বলে যে, ‘আমাকে অনুমতি দিলো না কেন?’ অথচ এমনও হতে পারে যে, তার হয়তো কোন জরুরী কাজ রয়েছে।
অনেক ছাহাবায়ে কিরাম, তাবিয়ীন, তাবে’ তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম; উনারা উনাদের জীবনে আফসুস করেছেন, কি আফসুস করেছেন? যে কুরআন শরীফের একটা আয়াত শরীফ আমার পক্ষে আমল করা সম্ভব হলো না। জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন আয়াত শরীফ আমল করা সম্ভব হলো না? উনারা বললেন, দেখো; মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন-
وَإِنْ قِيلَ لَكُمُ ارْجِعُوا فَارْجِعُوا
“(কারো বাড়ীতে গেলে) যদি তোমাদেরকে বলে, আপনারা চলে যান (এখন সাক্ষাৎ হবে না, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন) তোমরা চলে যেও। ”
এ আয়াত শরীফের আমল আমি অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু আমার পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। আমি যার বাড়ীতে গিয়েছি সে অনুমতি দিয়েছে, আমি প্রবেশ করেছি, কেউ একথা বলেনি আমাকে কখনও যে, আপনি আজকে চলে যান, অন্য সময় আসবেন। এ আয়াত শরীফের আমলটা আমার পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। সেজন্য আমার একটা আফসুস রয়ে গেলো।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












