ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে মুসলমানের বৈশিষ্ট্য (১৫)
, ২৬ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০১ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ১৩ পৌষ , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি খারকান প্রদেশের লোক ছিলেন। প্রথম জীবনে উনি তেমন লেখাপড়া জানতেন না। ক্ষেত-খামারে কাজ করতেন। কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেন। আর কি করতেন?
সুলত্বানুল আরেফীন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফ-এ যেতেন প্রতিদিন। ইশা’র নামায পড়ে ওখানে সারা রাত্র থাকতেন। ফজর পড়ে আবার চলে আসতেন।
উনি যখন চলে আসতেন, উনি কি বলতেন জানেন? বলতেন যে, মহান আল্লাহ পাক! সুলত্বানুল আরিফীন বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি আপনার খাছ ওলী, উনার উছীলায় আমাকে কিছু নিয়ামত দান করুন।
এভাবে হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রতিদিন ইশা’র নামায পড়ে ওযূ সহ চলে যেতেন, আবার সেখানে যিকির- আযকার করে ফজর নামায পড়ে আবার প্রত্যাবর্তন করতেন প্রতিদিন। এরকম করতে করতে, কোন কোন রেওয়ায়েতে উল্লেখ করা হয়েছে, চল্লিশ বৎসর উনি করলেন এরকম।
উনি যখন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফ থেকে বাড়ীর দিকে ফিরতেন, উনি কখনো পিছন দিয়ে আসতেন না। সামনে মুখ করে পিছনে হেঁটে হেঁটে আসতেন, যতদূর পর্যন্ত মাযার শরীফ দেখা যেত। যখন আর মাযার শরীফ দেখা যেত না তখন উনি স্বাভাবিক হেঁটে বাড়ীতে চলে যেতেন। উনি পিছনে করে হেঁটে আসতেন।
যেদিন চল্লিশ বৎসর পুরা হয়ে গেল সেদিন হঠাৎ উনি দেখলেন- সেই কবরের মধ্যে, মাযার শরীফের মধ্যে একটা আওয়াজ হলো- বিরাট আওয়াজ, বিকট আওয়াজ। উনি ভাল করে লক্ষ্য করে দেখলেন, সেই কবরটা ফেঁটে, মাযার শরীফ ফেঁটে দু’ভাগ হয়ে একজন লোক দাঁড়ায়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। উনি থেমে গেলেন। যিনি বের হয়েছেন মাযার শরীফ থেকে, তিনি ডাক দিলেন এদিকে আসুন। উনি আস্তে আস্তে হেঁটে হেঁটে মাযার শরীফ-এর সামনে গেলেন।
মূলতঃ সেই মাযার শরীফে ছিলেন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার নাম কি? উনি বললেন, আবুল হাসান।
থাকেন কোথায়? খারকান শহরে।
কি করেন? ক্ষেত-খামারে কাজ করি। কিছু যিকির-আযকার, কিছু তাসবীহ-তাহ্লীল করি।
এখানে কি করেন? এখানে প্রতিদিন ইশা’র পরে আসি, ফজর নামায পড়ে চলে যাই।
কি বলেন এখানে আপনি? আমি এখানে বলি, “আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনার ওলী সুলত্বানুল আরিফীন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি এখানে শায়িত আছেন উনার উসিলায় আমাকে কিছু নিয়ামত দান করুন। ”
এভাবে কতদিন হলো? আজকে ৪০ বৎসর।
এরপর হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাতটা নিয়ে উনার পিঠের মধ্যে আস্তে করে থাপ্পড় দিয়ে বললেন, আমিও সুলত্বানুল আরিফীন, আজ থেকে আপনিও সুলত্বানুল আরিফীন যান। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উনি যখন সেখান থেকে বাড়ীর দিকে প্রত্যাবর্তন করলেন, উনার ভিতরে ইল্মে লাদুন্নী প্রবেশ করতে লাগলো। সুব্হানাল্লাহ! আস্তে আস্তে উনি মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী হয়ে গেলেন।
উনি লোকদেরকে বাইয়াত করাতে লাগলেন। উনার হাতে লোকেরা বাইয়াত হতে লাগলো। ঐ এলাকায় একটা বড় মাদ্রাসা ছিল। সেখানে কিছু উলামায়ে হক্ব ছিলেন। উনারা মনে মনে চিন্তা করলেন- আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তো কোন লেখাপড়া জানতেন না, তিনি লোক বাইয়াত করান, একটু পরীক্ষা করতে হবে। এজন্য উনারা একশ’টা মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করার জন্য রওয়ানা হলেন।
তখন আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি উনার ঘরের বারান্দায় পায়চারী করতেছিলেন। উনার ঘরের সামনে একটা বাগান ছিল, বাগানের মধ্যে একজন মালী কাজ করতেছিল। যখন সেই সমস্ত আলেম সম্প্রদায় মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করার জন্য আসতেছিল, হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেই মালীর প্রতি একটা দৃষ্টি দিলেন। দৃষ্টি দেয়ার সাথে সাথে মালীটা মস্তান হয়ে গেল, মজ্জুব হয়ে গেল। সে লাফাতে লাগলো।
লাফাতে লাফাতে বলতে লাগলো, হুযূর! বেয়াদবী মাফ করবেন। এই যে আলেম সম্প্রদায় আসতেছেন, উনারা আপনাকে মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করবেন। আপনি কি আর জবাব দিবেন, আমিই জবাব দিয়ে দিই।
সেই মালী এক এক করে সেই একশ’জন আলেমের নাম বলে তাদের মাসয়ালা বলে জবাব দিয়ে দিল। সুব্হানাল্লাহ! তখন সেই সমস্ত আলেম উনার কাছে গিয়ে বাইয়াত হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (২)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবের ফতওয়া অনুযায়ী- কাঁকড়া, কচ্ছপ, অক্টপাস, ঝিনুক, শামুক, কেঁচো, কুঁচিয়া, স্কুইড, সামুদ্রিক প্রাণী শাপলা পাতা, সাপ, মেছোবাঘ (উদ) খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পুরুষের জন্য কমপক্ষে একমুষ্ঠি পরিমাণ দাড়ি রাখা ফরয
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার রচিত এক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক ‘আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী’- যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলামী সৌর বর্ষপঞ্জি
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৮)
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












