মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার রচিত এক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক ‘আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী’- যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলামী সৌর বর্ষপঞ্জি
, ২৪ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক)
৮. মাস গণনা পদ্ধতি:
আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী: প্রতিটি বিজোড়তম মাস ৩০ দিনে এবং জোড়তম মাসগুলো ৩১ দিনে শুধু ব্যতিক্রম হবে ১২তম মাস। কিন্তু ৪ দ্বারা বিভাজ্য সালগুলোতে ১২তম মাসটি ৩১ দিনে হবে; তবে ১২৮ দ্বারা বিভাজ্য সালগুলো ব্যতীত।
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি: ফেব্রুয়ারী, এপ্রিল, জুন, সেপ্টেম্বর, নভেম্বর এই মাসগুলো বাদে বাকী সব মাস ৩১ দিনে।
আর এপ্রিল, জুন, সেপ্টেম্বর, নভেম্বর মাস ৩০ দিনে। কিন্তু ফেব্রুয়ারী মাস ২৮ দিনে।
তবে অধিবর্ষে (৪ দ্বারা বিভাজ্য সালগুলো) ২৯ দিন হবে। প্রতি ১০০ বছরে ১টি অধিবর্ষ বাদ যাবে, আবার প্রতি ৪০০ বছরে অতিরিক্ত ১টি অধিবর্ষ যোগ হবে।
ফসলী সন: বছরের প্রথম ৫ মাস বৈশাখ হতে ভাদ্র ৩১ দিনের বাকী মাসগুলো অর্থাৎ আশ্বিন হতে চৈত্র প্রতিটি ৩০ দিনের মাস। প্রতি চতুর্থ বছরের ফাল্গুুন মাসে একটি দিন যোগ করে তা ৩১ দিনের। বাংলা একাডেমী সরকারীভাবে এই সংশোধিত মাসের হিসাব গ্রহণ করে ।
৯. বার্ষিক বিচ্যুতি:
আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী: ০.২ সেকেন্ডেরও কম।
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি: প্রায় ২৭ সেকেন্ড।
ফসলী সন: ২৭ সেকেন্ডের বেশি।
১০. অধিবর্ষ পদ্ধতি:
আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী: অতিরিক্ত একদিন বছর শেষে যোগ হওয়ায় পরিবর্তন লক্ষণীয় নয় (যা চার বছর পর পর করা হয়)। কেননা নতুন বছর শুরু হয়ে যায়।
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি: ফেব্রুয়ারী মাস ২৮ দিনে, অধিবর্ষে ২৯ দিনে। বছরের দ্বিতীয় মাসে অতিরিক্ত একদিন যোগ হওয়াতে বাকী ১০ মাসই ১ দিন পিছিয়ে যায়।
ফসলী সন: ফাল্গুুন মাস ৩০ দিনে, অধিবর্ষে ৩১ দিনে। বছরের ১১তম মাসে অতিরিক্ত একদিন যোগ হওয়াতে এতে কোন ছন্দ নেই।
১১. অনুসরণের ফল:
আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী: এই তাক্বউয়ীম ব্যবহারে কাফিরদের অনুসরণ হয় না বরং মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের স্মরণ হয়। ফলে মুসলমানরা রহমত, বরকত, সাকীনা লাভ করে। সুবহানাল্লাহ!
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি: কাফিরদের তৈরি বর্ষপঞ্জি অনুসরণের ফলে শুধু কাফির-মুশরিক ও দেব-দেবীদের নাম প্রতিনিয়ত উচ্চারণ ও স্মরণ করা হয়; যা মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম। এ ছাড়াও এর অনুসরণে কল্যাণ নেই বরং অকল্যাণ রয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!
ফসলী সন: হিন্দুদের পুজার সুবিধার্থে তৈরি বর্ষপঞ্জি অনুসরণের ফলে শুধু দেব-দেবীদের নাম প্রতিনিয়ত উচ্চারণ ও স্মরণ করা হয়; যা মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম। এ ছাড়াও এর অনুসরণে কল্যাণ নেই বরং অকল্যাণ রয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!
বস্তুত কাফির-মুশরিকরা দেবদেবীর নাম ব্যবহার করার মূল কারণ হচ্ছে তারা বিশ্বাস করে দেবদেবীর নামের কারণে তাদের কল্যাণ আসে। নাঊযুবিল্লাহ! তাই যতবেশী দেবদেবীর নাম উচ্চারণ করা হবে ততবেশী মঙ্গল।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, মুসলমানরা যদি দেবদেবীর নামের ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে তাহলে দেবদেবীদের অস্তিত্ব, গুরুত্ব ও তারা কল্যাণ দিতে পারে- এ কথা স্বীকৃতি দেয়া হয় যা স্পষ্ট শিরক।
অথচ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَصْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللّهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّهِ صَلَّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثِنْتَانِ مُوْجِبَتَانِ. قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُوْلَ اللّهِ صَلَّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا الْمُوجِبَتَانِ؟ قَالَ مَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ وَمَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْـجَنَّةَ
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, দুটি জিনিস ওয়াজিব হয়ে গেলো! হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন দুটি জিনিস? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কোন না কোন বিষয়ে শিরক করে মৃত্যুবরণ করলো সে সরাসরি জাহান্নামে প্রবেশ করবে, আর যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলো কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কোন শিরক করলো না, সে ব্যক্তি সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (মিশকাত শরীফ)
১২. মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব:
আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী: কাফিররা সব ক্ষেত্রে মুসলমানদের অনুসরণ করবে। কারণ এদের সৃষ্টি করা হয়েছে মুসলমানদের খিদমতের জন্য। এই শামসী তাক্বউয়ীম তৈরির ফলে উনার ব্যাপক প্রচার-প্রসার হলে ধীরে ধীরে কাফিররা এর অনুসরণ করবে এবং মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্য বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ!
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি: মুসলমানরা কাফিরদের অনুসরণ এবং এর অনুসরণের বদ তাছির থেকে বেঁচে থাকতে পারবে এবং কাফিররা তাদের বর্ষপঞ্জির ত্রুটিগুলো অনুধাবন করবে এবং হীনম্মন্যতায় ভুগবে।
ফসলী সন: মুসলমানরা মুশরিকদের অনুসরণ এবং এর অনুসরণের বদ তাছির থেকে বেঁচে থাকতে পারবে এবং মুশরিকরা তাদের বর্ষপঞ্জির ত্রুটিগুলো অনুধাবন করবে এবং হীনম্মন্যতায় ভুগবে।
মহান আল্লাহ পাক ও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এই আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী সন সমস্ত মুসলমানদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ব্যবসা করা হালাল ও সুন্নত আর সুদ হারাম
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন, খলীফায়ে ছানী, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট কতিপয় নছীহতমূলক ঘটনা
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সত্যের মাপকাঠি
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৩)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৪)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












