সম্মানিত হানাফী মাযহাবের ফতওয়া অনুযায়ী- কাঁকড়া, কচ্ছপ, অক্টপাস, ঝিনুক, শামুক, কেঁচো, কুঁচিয়া, স্কুইড, সামুদ্রিক প্রাণী শাপলা পাতা, সাপ, মেছোবাঘ (উদ) খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয
, ২৪ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
আজকাল দেখা যাচ্ছে অনেক খাবারের দোকানে (হোটেলে) এই হারাম খাবারগুলো অবাধে খাওয়ানো হচ্ছে। তাই এই হারাম পরিহারের ব্যাপারে সরকারীভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
সম্মানিত হানাফী মাযহাবের মাশহুর মূলনীতি হলো:
لَا يَحِلُّ مِنْ حَيَوَانِ الْبَحْرِ إِلَّا السَّمَكُ
অর্থ: সমুদ্রের প্রাণীদের মধ্যে শুধু মাছই হালাল। (হিদায়া, বাদায়েউস সানায়ে, ফাতাওয়া হিন্দিয়া)
سمك বা মাছ-এর ব্যাখ্যায় বলা হয় ;
“سمك (মাছ)” ছাড়া সমুদ্রের বা নদীর সব প্রাণী হালাল নয়। যেহেতু সর্বপ্রকার কাঁকড়া, কচ্ছপ, অক্টপাস, ঝিনুক, শামুক, কেঁচো, কুঁচিয়া, স্কুইড, সামুদ্রীক প্রাণী শাপলা পাতা, সাপ, মেছোবাঘ (উদ) ইত্যাদি মাছের অন্তর্ভুক্ত নয় তাই হারাম। চাই এগুলো প্রাণী সমুদ্রের হোক, নদীর হোক, অথবা স্থলজ হোক তা-সবই খাওয়া হারাম।
সম্মানিত হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত কিতাব ‘الهداية’এর মধ্যে উল্লেখ আছে,
وَلَا يُؤْكَلُ مِنْ حَيَوَانِ الْبَحْرِ إِلَّا السَّمَك
অর্থ : সমুদ্রের প্রাণীর মধ্যে মাছ ছাড়া কিছুই খাওয়া যাবে না।
এ প্রসঙ্গে “بدائع الصنائع” কিতাবের মধ্যে আরো উল্লেখ আছে,
أَمَّا غَيْرُ السَّمَكِ مِنْ حَيَوَانِ الْبَحْرِ فَلَا يُؤْكَلُ
অর্থ : মাছ ছাড়া অন্যান্য সমুদ্রের প্রাণী খাওয়া হয় না।
এ প্রসঙ্গে “الفتاوى الهندية”কিতাবের মধ্যে আরো উল্লেখ আছে,
وَلَا يَحِلُّ غَيْرُ السَّمَكِ مِنْ حَيَوَانِ الْبَحْرِ
অর্থ : সমুদ্রের বা নদীর মাছ ছাড়া অন্য কিছুই হালাল নয়।
কাঁকড়া এবং ব্যাঙ দুটিই হারাম। এই প্রসঙ্গে “রাওদাতুত তালিবীন”কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-
وَقَالَ النَّوَوِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ: "ٱلضِّفْدَعُ وَٱلسَّرَطَانُ، وَهُمَا مُحَرَّمَانِ عَلَى ٱلْمَشْهُورِ") روضة الطالبين (৩/২৭৫)
অর্থ: ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “ব্যাঙ এবং কাঁকড়া-এই দুটোই প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী হারাম।” (রাওদাতুত তালিবীন ৩য় খ- ২২৭ পৃষ্ঠা)
وَعَدَّ الشَّيْخُ أَبُو حَامِدٍ وَإِمَامُ ٱلْحَرَمَيْنِ مِنْ هَذَا ٱلضَّرْبِ: ٱلضِّفْدَعَ وَٱلسَّرَطَانَ، وَهُمَا مُحَرَّمَانِ عَلَى ٱلْمَذْهَبِ ٱلصَّحِيحِ ٱلْمَنْصُوصِ
অর্থ : আর শাইখ আবু হামিদ ও ইমামুল হারামাইন উনাদের মতে এই প্রকারের মধ্যে ব্যাঙ ও কাঁকড়াকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, এবং এ দুটোই বিশুদ্ধ ও দলীল স্পষ্ট মত অনুযায়ী হারাম। (আল হেদায়া আলাল হুদা, বাদায়েউছ ছনায়ে)
তবে আমাদের সম্মানিত হানাফী মাযহাব মতে শুধু কাঁকড়া, ব্যাঙ ই হারাম নয়, বরং মাছ ছাড়া সর্বপ্রকার কাঁকড়া, কচ্ছপ, অক্টপাস, ঝিনুক, শামুক, কেঁচো, কুঁচিয়া, স্কুইড, সামুদ্রীক প্রাণী শাপলা পাতা, সাপ, মেছোবাঘ ইত্যাদি এ জাতীয় প্রাণী সবই খাওয়া হারাম।
আরো বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত হারাম প্রাণীগুলো থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত খাবার প্রস্তুত করা হয় সেগুলো খাওয়াও হারাম ও নাজায়িয। তবে- শামুক, ঝিনুক থেকে প্রস্তুতকৃত চুন, ও চাটনী। যা বাজারে ঝিনুকচুন ও ঝিনুক চাটনী নামে মশহুর এগুলো খাওয়াও সম্পূর্ণরুপে মাকরূহ তাহরীমী।
এই প্রসঙ্গে সম্মানিত হানাফী মাযহাবের গ্রহণযোগ্য মত হচেছ-
أَمَّا الْحَنَافِيَّةُ: فَعَلَى أَصْلِهِمْ أَنَّهُ لَا يَحِلُّ مِنْ حَيَوَانِ الْبَحْرِ إِلَّا السَّمَكُ خَاصَّةً، فَيَحِلُّ أَكْلُهُ [أَيِ: السَّمَكُ]، إِلَّا مَا طَفَا مِنْهُ. وَعِنْدَهُمْ أَنَّ مَا سِوَى السَّمَكِ خَبِيثٌ
অর্থ: অতপর সম্মানিত হানাফী হাযহাব উনার মূলভিত্তি অনুযায়ী- সমুদ্রের প্রাণীদের মধ্যে মাছ ছাড়া অন্য কিছু হালাল নয়। সুতরাং শুধুমাত্র মাছ খাওয়াই হালাল অর্থাৎ মরা মাছ খাওয়াও হালাল। তবে যে মাছ মরার পর ভেসে উঠে তা ছাড়া এবং তাদের মতে অর্থাৎ সম্মানিত হানাফী ইমামগনের মতে, মাছ ছাড়া অন্যান্য সব প্রাণী অপবিত্র অর্থাৎ অপবিত্র হওয়ার কারণে সর্বপ্রকার কাঁকড়া, কচ্ছপ, অক্টপাস, ঝিনুক, শামুক, কেঁচো, কুঁচিয়া, স্কুইড, সামুদ্রীক প্রাণী শাপলা পাতা, সাপ, মেছোবাঘ ইত্যাদি এ জাতীয় প্রাণী সবই খাওয়া হারাম।(আল হেদায়া আলাল হুদা, বাদায়েউছ ছনায়ে, বাহরুর রায়েক)
উপরোল্লেখিত অকাট্য দলীল-আদিল্লাহ- এর ভিত্তিতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, সম্মানিত হানাফী মাযহাবের শরীয়তসম্মত মত অনুযায়ী সর্বপ্রকার কাঁকড়া, কচ্ছপ, অক্টপাস, ঝিনুক, শামুক, কেঁচো, কুঁচিয়া, স্কুইড, সামুদ্রীক প্রাণী শাপলা পাতা, সাপ, মেছোবাঘ (উদ) ইত্যাদি এই জাতীয় প্রাণী খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয।
কাজেই এই প্রকার হারাম জাতীয় খাবার থেকে নিজেকে পরিহার করতে হবে। অন্যকেও বিরত রাখতে হবে। আর এই হারাম পরিহারের ব্যাপারে সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আয় মহান আল্লাহ পাক! আমাদের সবাইকে কাঁকড়া, কচ্ছপ, অক্টপাস, ঝিনুক, শামুক, কেঁচো, কুঁচিয়া, স্কুইড, সামুদ্রীক প্রাণী শাপলা পাতা, সাপ, মেছোবাঘ (উদ) ইত্যাদি সর্বপ্রকার হারাম জাতীয় প্রাণী খাওয়া থেকে হিফাযত করুন। আমীন!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পুরুষের জন্য কমপক্ষে একমুষ্ঠি পরিমাণ দাড়ি রাখা ফরয
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার রচিত এক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক ‘আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী’- যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলামী সৌর বর্ষপঞ্জি
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৮)
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার রচিত এক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক ‘আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী’- যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলামী সৌর বর্ষপঞ্জি
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৮)
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৭)
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












