ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (১৪)
, ২৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৩ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
অনেক হাদীছ শরীফে রোযাদারের অনেক ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ করে রোযাদারের জন্য জান্নাতে একটা আলাদা দরজা থাকবে,
فِي الْجَنَّةِ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ، مِنْهَا بَابٌ يُسَمَّى الرَّيَّانَ
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জান্নাতের মধ্যে আটটা দরজা থাকবে তার মধ্যে একটা দরজার নাম হলো রাইয়ান।
لَا يَدْخُلُ فِيهِ إِلَّا الصَّائِمُ
সেখানে প্রবেশ করবে না রোযাদার ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি। অর্থাৎ সেই রাইয়ান যে জান্নাতের দরজাটা রয়েছে, সেই দরজা দিয়ে একমাত্র রোযাদার ব্যক্তি প্রবেশ করবে। তার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হবে। তার জন্য খুশীর ব্যবস্থা করা হবে। এ হলো একটা বিষয়।
আরেকটা হচ্ছে عِنْدَ فِطْرِهِ ফিতরের সময়, ইফতারের সময়। এখন ইফতার কখন করে? যেটা হাদীছ, তাফসীরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শরীয়তে ইফতারি দু’প্রকার। ইফতারিয়ে ছোগরা, ইফতারিয়ে কোবরা। অর্থাৎ, একটা ছোট ইফতারি, একটা বড় ইফতারি। বড় ইফতারি হচ্ছে ঈদুল ফিতর। একমাস রোযা রাখার পর যে ইফতারের দিন বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতর, খুশীর দিন যেটা, সেটা হচ্ছে ঈদুল ফিতর। আর ছোগরা যেটা ছোট ইফতার বলা হয়েছে। প্রতিদিন রোযাদার রোযা রেখে মাগরিবের সময় সে যে ইফতার করে থাকে, সেটা ইফতারিয়ে ছোগরা। সেটাকেও তার জন্য খুশীর দিন বলা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এক বৎসরে রোযা হয় ২৯ বা ৩০ দিন। রোযার দিন মুসলমানদের জন্য খুশীর দিন। এখন ইফতারির সময়টা খুশীর সময়। এক বৎসরে ২৯ বা ৩০ দিন হয়ে থাকে রোযা। তাহলে রোযাদারের যে ইফতারির সময়, সেখানে রোযাদারের জন্য খুশীর সময় রয়েছে, ইফতারিয়ে ছোগরা। তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, যদি খুশীর দিন ধরা হয়, ঈদের দিন ধরা হয়, তাহলে জুমুয়া এবং সোমবার মিলে ১০০ দিন, আরাফার দিন একদিন। আর রমাদ্বান শরীফের রোযা যদি আমরা ২৯ দিনও ধরি তাহলে ১৩০ দিন হয়ে যায় কমপক্ষে। ১৩০ দিন হয়ে যায় কমপক্ষে খুশীর দিন, ঈদের দিন।
তাহলে যারা বলে থাকে, যে সমস্ত লোকেরা বলে থাকে, বদ মাযহাব, বদ আক্বীদা, খারিজী, রাফিজী, মু’তাজিলা, ওহাবী যারা রয়েছে, যারা আশাদ্দুদ দরজার জাহিল, ইলিম-কালাম যাদের নেই বললেই চলে, যাদের অন্তরে নিফাকী রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যাদের কোন মহব্বত নেই, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, চু-চেরা, কীল-কাল রয়েছে, এই শ্রেণীর লোকেরা বলে থাকে, “শরীয়তে ঈদ রয়েছে, দু’টা। তৃতীয় ঈদ কোথা থেকে আসলো?”
আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, হাদীছ শরীফে অর্থাৎ বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফের কিতাবে রয়েছে, যেই সমস্ত কিতাবগুলো তারাও মেনে থাকে। কাজেই এই সমস্ত কিতাবাদির মধ্যে যেমন রয়েছে, “ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আদ্বহা’র কথা বা বর্ণনা তেমন এই দু’ঈদ ব্যতীতও আরো শতাধিক ঈদের কথা বা বর্ণনা রয়েছে।” অর্থাৎ রোযার ঈদ এবং কুরবানীর ঈদ যেমন হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত ঠিক, এই ঈদগুলোও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। এখন এই ঈদগুলো অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে হাদীছ শরীফ অস্বীকার করা। আর হাদীছ শরীফ অস্বীকার করলে কাট্টা কাফির হয়ে যায়।
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফতওয়া দিয়েছেন, “আহলে কুরআন হচ্ছে কাফির। যারা হাদীছ শরীফ মানেনা, কুরআন শরীফ মানে বলে দাবী করে থাকে, তারা কাফির।”
দেশে-বিদেশে একশ্রেণীর লোক রয়েছে তারা বলে থাকে, “হাদীছ শরীফ মানুষ লিখেছে, হাদীছ শরীফ মানুষ সংকলন করেছে, লিখেছে এটাতে ভুল থাকতে পারে।” নাউযুবিল্লাহ! “আর কুরআন শরীফ মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম তাতে কোন ভুল নেই।” এটাও কুফরী কথা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (২)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












