সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনন্য এক বেমেছাল বৈশিষ্ট্য মুবারক
, ২২ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে, ‘সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক খনন করার সময় কুরাইশদের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিবাদ হয়েছিলো, তার প্রেক্ষিতে তিনি মানত করেছিলেন, যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে দশ জন আওলাদ (পুত্র সন্তান) দান করেন, তাহলে উনাদের একজনকে পবিত্র কা’বা শরীফ উনার নিকটে কুরবানী করবেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার ইচ্ছা মুবারক পূরণ করলেন।
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক রজনী মুবারকে কা’বা শরীফ উনার নিকটে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি স্বপ্ন মুবারকে দেখলেন, উনাকে একজন বলছেন, “হে হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম! আপনি আপনার মানত মুবারক পূর্ণ করুন।” এই স্বপ্ন দেখে তিনি চিন্তিত অবস্থায় ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এবং তিনি একটি দুম্বা যবেহ করে ফকির-মিসকীনদেরকে খাওয়ালেন। তারপর তিনি পরবর্তী রাতে ঘুমিয়ে স্বপ্নে দেখলেন, উনাকে বলা হচ্ছে- “আপনি এর চেয়ে বড় কিছু কুরবানী করুন।” তিনি একটি ষাড় (গরু) কুরবানী করেন। পরবর্তী রাতে পুনরায় উনাকে স্বপ্ন মুবারকে বলা হলো, “আপনি এর চেয়ে বড় কিছু কুরবানী করুন।” তারপর তিনি একটি উট কুরবানী করে মিসকীনদেরকে খাওয়ালেন।
এর পরবর্তী রাত্রিতে উনাকে নেদা করা হলো, “আপনি এর চেয়ে বড় কিছু কুরবানী করুন।” তিনি বললেন, “এর চেয়ে বড় আর কি?” তখন উনাকে বলা হলো, “আপনি আপনার আওলাদ উনাদের মধ্য থেকে একজনকে কুরবানী করুন, যেটা আপনি মানত করেছিলেন।”
তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলকে উনার মানত মুবারক সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং উনাদেরকে উনার ওয়াদা পূরণ করার ব্যাপারে আহ্বান করলেন। তখন উনারা সকলে বললেন- “নিশ্চয়ই আমরা প্রত্যেকেই আপনার অনুগত। আপনি আমাদের মধ্য থেকে কাকে কুরবানী করতে চান?”
তখন তিনি উনার দশজন আওলাদ উনাদের মাঝে লটারী করলেন। লটারী মুবারকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক উঠলেন। অতঃপর তিনি উনাকে কুরবানী করার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং উনাকে নিয়ে পবিত্র কা’বা শরীফ উনার সামনে উপস্থিত হন। অতঃপর যখন তিনি উনাকে শুইয়ে ছুরি মুবারক দিয়ে কুরবানী করবেন, তখন তা দেখে কুরাইশরা তাদের মজলিশ থেকে দৌড়ে এসে বললো, “আপনি করছেন কি?” তিনি বললেন, “আমি উনাকে যবেহ করবো।”
কুরাইশ এবং উনার অন্যান্য আওলাদ যাঁরা ছিলেন উনারা বললেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! কোনো নিশ্চিত বিকল্প ধারা না হওয়া পর্যন্ত আপনি উনাকে যবেহ করতে পারবেন না। যদি করেন তাহলে পুত্র কুরবানী দেয়ার ধারা চালু হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় মানুষের নিরাপত্তা কিভাবে রক্ষা হবে?”
পবিত্র মদীনা শরীফে সাজাহ নামে একজন বিশেষ ব্যক্তি বসবাস করতেন। যিনি আসমানী কিতাব সম্পর্কে ইলিম রাখতেন। কুরাইশরা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ওই ব্যক্তির নিকট যেয়ে এই বিষয়টি বলার জন্য অনুরোধ করলো।
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লোকজন নিয়ে সাজাহ নামীয় ওই বিশেষ ব্যক্তির নিকট যেয়ে সবকিছু খুলে বললেন। সব শুনে ওই ব্যক্তি বললেন, “আপনাদের সমাজে মুক্তিপণের পরিমাণ কত?” সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “দশটি উট।” ওই ব্যক্তি বললেন, “আপনারা দেশে ফিরে যান। গিয়ে দশটি উট ও আপনার আওলাদ উনার মধ্যে লটারী করুন। লটারীতে যদি আপনার আওলাদ উনার নাম মুবারক আসে, তাহলে আরো দশটি উট নিয়ে আবারো লটারী করুন। এভাবে দশটি করে উট বাড়িয়ে লটারী করতে থাকুন। অতঃপর যখন উটের নাম আসবে, তখন আপনি আপনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার পরিবর্তে উটগুলো কুরবানী করুন। এতে মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন বলে প্রমাণিত হবে। সুবহানাল্লাহ! আর আপনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার জীবন মুবারকও বেঁচে যাবেন।”
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবাইকে নিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফে আসলেন। অতঃপর সকলের উপস্থিতিতে লটারী শুরু হলো। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া মুবারক করতে লাগলেন। প্রথমে দশটি উট ও সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে লটারী করা হলো। সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নাম আসলো। এবার আরো দশটি উট বাড়িয়ে লটারী দেয়া হলো। এভাবে দশটি করে উট বাড়িয়ে লটারী করা হলো। কিন্তু প্রতিবারই হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক উঠতে লাগলেন। অবশেষে একশত উট আর হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে লটারী দেয়া হলে উটের নাম উঠলো। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার সম্মুখে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করছিলেন। কুরাইশরা উনাকে জানালো যে, “সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন।”
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “না এতে আমি সন্তুষ্ট না। আরো তিনবার লটারী না করা পর্যন্ত আমি নিশ্চিত হতে পারছি না।”
তারপর উনার কথা মুবারক অনুযায়ী আরো তিনবার লটারী করা হলো। প্রতিবারই উটের নাম আসলো। তখন তিনি নিশ্চিত হলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করলেন। তারপর তিনি একশ’ উট কুরবানী করে সকলকে আহার করালেন। সুবহানাল্লাহ!
এভাবে হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যাবীহুল্লাহী শান মুবারকের বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটে। সুবহানাল্লাহ! এরপর থেকেই আরব দেশে এক ব্যক্তির রক্তপণ নির্ধারিত হলো একশত উট। যদিও ইতঃপূর্বে রক্তপণের জন্য নির্ধারিত ছিলো দশ উট। পরবর্তীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একশত উটই রক্তপণরূপে নির্ধারণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (মাদারিজুন নুবুওওয়াহ, মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ, শারহুয যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব, আর রওদুল উনফ, আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ইত্যাদি)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












