সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫৯)
(বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)
, ০৮ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৮ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ০৭ মে, ২০২৫ খ্রি:, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কারামত মুবারক:
* সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদিন ওয়াজ-নছীহত করছিলেন। এক সময় উনার দৃষ্টি মুবারক ডান দিকে পড়লো। সাথে সাথে তিনি সসম্মানে দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বসে গেলেন। লোকজনের নিকট উনার এভাবে দাঁড়ানো এবং বসা রহস্যজনক মনে হলো। মজলিস শেষে খাদিম ছাহিব উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হুযূর! ক্ষমা করবেন। আপনি একই মজলিসে কয়েকবার দাঁড়ালেন। আবার বসলেন। এর হিকমত কি? তিনি বললেন, ডান দিকে আমার সম্মানিত শায়েখ উনার রওজা শরীফ। যখন আমার দৃষ্টি ডান দিকে পড়ে গেলো তখন তিনি আমার সামনে ভেসে উঠলেন। আমি তা’যীমের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। এভাবে যতবার আমি ডান দিকে তাকিয়েছি ততবারই ঐ দৃশ্য দেখতে পেয়েছি। আর আমি ততবারই উনার তা’যীমের জন্য সম্মানের জন্য দাঁড়িয়েছি। সুবহানাল্লাহ!
* একবার অনেক বুযূর্গানে দ্বীন এক মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও সে মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। এমনকি উনার সম্মানিত শায়েখ হযরত উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উনার সাথে ছিলেন। ঐ মজলিসে সম্মানিত কারামত মুবারক প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত হলো। সবাই স্বীয় ইচ্ছা অনুযায়ী কারামত মুবারক প্রদর্শন করবেন। প্রথমে শায়খুল মাশায়িখ সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি কারামত মুবারক প্রকাশ করলেন। তিনি জায়নামায মুবারক উনার নীচে হাত দিলেন। হাতভর্তি স্বর্ণমুদ্রা বের করলেন। তা সফররত একজন দরবেশের হাতে তুলে দিলেন।
হযরত আহাদুদ্দীন কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সামনে একটি কাঠের টুকরা ছিলো। তিনি সেই কাঠের টুকরাটি হাতে নেয়ার সাথে সাথে সেটি স্বর্ণে পরিণত হলো। সুবহানাল্লাহ!
শায়খুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দিকে মনোনিবেশ করলেন। নির্দেশ মুবারক দিলেন- আপনিও কিছু কারামত মুবারক প্রদর্শন করুন। সুলত্বানুল হিন্দ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সূক্ষ্ম কাশফ মুবারক দ্বারা দেখতে পেলেন যে, এখানে একজন দরবেশ রয়েছেন, যিনি তিনদিন যাবত অনাহারে আছেন। উনার খাবার প্রয়োজন। তাই তিনি নিজের ব্যাগ বা থলে থেকে গরম ও ধুমায়িত রুটি বের করে ঐ দরবেশের হাতে তুলে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, তিনি উনার সম্মানিত শায়েখ সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কারামত মুবারক প্রকাশ করার ক্ষেত্রেও আদবের বিষয়টি কঠোরভাবে পালন করেছেন। অর্থাৎ সম্মানিত শায়েখ উনার প্রদর্শিত কারামত মুবারক উনার চেয়ে যেন অধিক আশ্চর্যজনক ও হৃদয়গ্রাহী না হয় তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন। তাই তিনি একটি মামুলী বিষয় কারামত রূপে প্রদর্শন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
* সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার সফররত ছিলেন। তিনি সফর করতে করতে এমন একটি স্থানে পৌঁছলেন যে, সেখানে নিজস্ব কোন লোক ছিলেন না। শুধু একজন খাদিম ছিলেন। তিনি সেই এলাকায় পৌঁছার সাথে সাথে প্রচার হয়ে গেলো যে, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি সেখানে পৌঁছেছেন। এক হিন্দু যুবক উনাকে শহীদ করার জন্য গোপনে অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত হলো।
কিন্তু সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জালালী দৃষ্টি মুবারক তার উপর পরার সাথে সাথে সে যুবক মাটিতে পড়ে গেলো। ঐ বেহুঁশীর মধ্যেই সে বলতে লাগলো, আমি আপনার গোলাম। আমাকে ক্ষমা করুন। সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
সে সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বার বার অসুস্থতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করত দোয়া প্রার্থনা করলো।
সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাকে কালিমা শরীফ পাঠ করিয়ে মুসলমান করলেন। পরে যুবককে তরীক্বার সবক দিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! (খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি পূর্ণাঙ্গ জীবনী-২৭২)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত তিনটি বিষয়
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি কেউ হাক্বীক্বী ভয় করতে চায়, তার তিনটি দায়িত্ব
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












