শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
, ২৭ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
উসমানীয় সালতানাত ছিলো মুসলিম ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ একটি সালতানাত। এই সালতানাতের সব সুলতানই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অপরিসীম মুহব্বত পোষণ করতেন। পাশাপাশি, সুলতানগণ সবাই হযরত খোলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের অনুসরণ করতেন শাসনব্যবস্থায়। উসমানীয় শাসকদের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন সুলতান মুরাদ। উনার শাসনামল ন্যায়পরায়নতা এবং মুসলিম বিজয়ের জন্য ইতিহাসে বিখ্যাত। একটি রাতের ঘটনা তার শাসনামলে অত্যন্ত বিখ্যাত।
সুলতান মুরাদ এক রাতে বিছানায় শুয়েছিলেন, দেখেন তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। কেন এমন অস্থির লাগছে, বুঝতে পারছেন না। এ অবস্থায় তিনি নিরাপত্তাকর্মীকে ডাকলেন। শাসক হিসেবে সুলতান মুরাদের অভ্যাস ছিলো, পোশাক পরিবর্তন করে জনসাধারণের খোঁজখবর নেওয়া। এ হিসেবে তাদের বললেন, চলো, কিছু সময় লোকদের ভিড়ে কাটিয়ে আসি। যেতে যেতে শহরের এক কোনায় পৌঁছে গেলেন। সেখানে গিয়ে দেখলেন একজন মানুষ মাটিতে লুটিয়ে আছে। এ অবস্থা দেখে সুলতান মুরাদ ওই লুটিয়ে পড়ে থাকা লোকটিকে নেড়ে দেখলেন। দেখছেন লোকটি মৃত। আর লোকটির পাশ অতিক্রম করে অনেক লোক আসছে, যাচ্ছে। কিন্তু কেউ লোকটিকে স্পর্শও করে দেখছে না।
সুলতান মুরাদ মানুষদের ডেকে বললেন, ভাই এদিকে এসো। মানুষ একত্রিত হলো; কিন্তু তারা সুলতানকে চিনতে পারলো না। সুলতান জিজ্ঞেস করলেন, লোকটি এভাবে মৃত পড়ে আছে আপনারা দেখছেন, তারপরও কেউ লোকটিকে উঠাচ্ছেন না কেন? চলুন তাকে উঠিয়ে তার ঘরে পৌঁছে দিই। তখন লোকেরা বললো, এই লোক বড় গুনাহগার মানুষ। তখন সুলতান মুরাদ বললেন, ভাই গুনাহগার হলেও সে কি মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা নয়? সে কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত নয়? চলো, তাকে উঠিয়ে তার ঘরে দিয়ে আসি। মানুষ সুলতানের কথায় প্রভাবিত হলো আর লাশটি ওয়ারিশের কাছে পৌঁছে দিলো। যখন ঘরে গেলেন, তখন লাশটি নিয়ে তার আহলিয়া অঝোরে কাঁদতে লাগলো, লোকেরা চলে গেলো। সুলতান মুরাদ এবং নিরাপত্তাকর্মী বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে সেই কান্না শুনতে পেলেন। কাঁদতে কাঁদতে মহিলাটি বললো, মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ, আপনি অনেক বড় একজন ওলীআল্লাহ এবং বুযূর্গ ব্যক্তি।
একথা শুনে সুলতান মুরাদ আশ্চর্য হয়ে গেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কিভাবে সম্ভব? মানুষ তো সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, লোকটি বড়ই পাপী। এমনকি কেউ তার লাশ স্পর্শও করছে না। তখন ওই লোকটির স্ত্রী বললো, আমিও মানুষের মতো এই একই বিষয়ে একমত। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রকৃত বিষয় হলো আমার স্বামী প্রতি রাতে মদের দোকানে যেতেন। পকেটে যত টাকা থাকতো, তা দিয়ে মদ কিনে আনতেন। ঘরে এনে মদগুলো নষ্ট করতেন। আর বলতেন দেখো কিছু মুসলমানের গুনাহের বোঝা তো কমাতে পেরেছি।
একইভাবে তিনি প্রতি রাতে সরাইখানায় গিয়ে একটি খারাপ মহিলা যারা মুসলমান যুবকদের চরিত্র নষ্ট করতো তাদেরকে অর্থ দিয়ে সরাইখানা থেকে দূরে একটি ঘরে রাখতেন আর নির্দেশ দিতেন যেন কেউ তার নিকট না আসে। এরপর ঘরে এসে বলতেন, মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া। কিছু মুসলমান যুবকের পাপের বোঝা কিছুটা হালকা করতে পারলাম।
আর মানুষ তাকে এসব জায়গায় আসতে যেতে দেখে বড়ই পাপী মনে করতো। আমিও তাকে বলতাম, মানুষ কি এসব দেখে আপনার মৃত্যুর পর আপনার জানাজা পড়বে কি? তখন ওই ব্যক্তি বলতেন, আপনি দেখবেন স্বয়ং সুলতান মুরাদ আমার জানাজা পড়বেন।
ঘটনা শুনে সুলতান মুরাদ খুবই আবেগাপ্লুত হলেন এবং বললেন যে, ক্ষমা করবেন! আমিই সুলতান মুরাদ। কাল আমিই নিজ হাতে ওই ব্যক্তিকে গোসল দেবো এবং উনার জানাজা পড়াবো। সত্যিই পরদিন বুযূর্গ ব্যক্তি উনার জানাজা হয়েছিলো তুরস্কের রাজদরবারে সুলতান মুরাদের রাজকীয় মসজিদের মাঠে। এতে শরিক হন তৎকালীন তুর্কি বিখ্যাত ওলীআল্লাহগণ এবং ওলামায়ে কিরামগণ। সাথে ছিলো লাখ লাখ জনসাধারণ।
এমনই ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারকে গরক মুসলিম শাসক এবং উনাদের শাসন। মুসলিম শাসক এবং শাসিত। উনাদের সোনালি ইতিহাস মানুষকে আজও অনুপ্রাণিত করে।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সত্যের মাপকাঠি
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৩)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৪)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আল্লাহওয়ালা হতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে আদব রক্ষা করা আবশ্যক
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একমাত্র খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই ইবাদত করতে হবে
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬ষ্ঠ পর্ব)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৮)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












