খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, ছাহিবু সুলত্বানুন নাছীর,
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক নছীহত শরীফ
(সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ)
, ১৭ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০২ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৫ম পর্ব)
এখানে বলা হচ্ছে যে আমাদের করণীয় কি? আমাদের করণীয় হচ্ছে, এই যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে এতো শিক্ষা দিলেন। সেইজন্য আমাদের করণীয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুসরাত এবং তা’যীর করা। অর্থাৎ উনার খিদমত করা এবং উনার সাথে নাযিলকৃত নূর মুবারক অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অনুসরণ করা তাহলে আমরা সফলকাম হতে পারবো। অর্থাৎ তাহলেই হক্ব আদায় হবে। এখানে এই নুসরাত এবং তা’যীরের বিষয়টা যেটা একটা হক্ব। আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য উনি যেহেতু আমাদের শিখিয়েছেন এখানে এটা বলা হয়েছে।
আচ্ছা! এখন প্রশ্ন হচ্ছে নুসরাত এবং তা’যীর কি? নুসরাত এবং তা’যীর হচ্ছে- খিদমত করা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাজসমূহ সম্পাদনে আনজাম দেওয়া, কাজসমূহ সম্পাদনে জরুরী প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করা, উনার কাজসমূহ সম্পাদনে যত ধরণের বাধা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলো দূর করা, এগুলো সবই নুসরাত এবং তা’যীরের অন্তর্ভুক্ত। এখানে কাজ বলতে; উনার যত ধরণের কাজ রয়েছে ঘরের কাজ, বাহিরের কাজ, দাওয়াতের কাজ, তা’লীমের কাজ, জিহাদের কাজ, আরো যত রকমের কাজ রয়েছে সব কাজেই এটার অন্তর্ভুক্ত।
আমরা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের জীবনী মুবারক পড়লে দেখতে পাই যে, উনাদের হায়াত মুবারকের একটা বড় অংশ কেটেছে এই নুসরাত এবং তা’যীর করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাতো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সরাসরি পেয়েছেন। এবং সরাসরি উনার নুসরাত এবং তা’যীরের হক্ব আদায় করেছেন। কিন্তু আমরাতো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সরাসরি পাইনি। তাহলে আমরা কিভাবে উনার নুসরাত এবং তা’যীরের হক্ব আদায় করবো?
আচ্ছা! এটার উত্তর হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা রেখে গিয়েছেন সেগুলার খিদমতের আনজাম দেওয়া। যে ইলিম-তা’লীম, আদর্শ, সুন্নত, দ্বীন, দাওয়াত এগুলো রেখে গেছেন এগুলোর খিদমতের আনজাম দেওয়া। উনার প্রচার-প্রসার করা অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রচার-প্রসার করা। উনার হক্বসমূহ মানুষকে জানানো, উনার বিরোধিতাকারীদের প্রতিহত করা, উনার রেখে যাওয়া বিষয়সমূহের যারা বিরোধিতা করে তাদের প্রতিহত করা, এগুলোর মাধ্যমে আমরা নুসরাত এবং তা’যীরের হক্ব আদায় করতে পারি।
আচ্ছা! এরপরে চতুর্থ ভাগ যেটা রয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাওকীর এবং তা’যীম অর্থাৎ সম্মান করা। আচ্ছা! এই সম্পর্কে আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا لِّتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ
এখানে যেটা বলা হচ্ছে যে, নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি شَاهِدًا প্রত্যক্ষদর্শী বা مُبَشِّرً نَذِيرًا সুুসংবাদদাতা সতর্ককারী হিসেবে। যেন তারা لِّتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ যেন তারা ঈমান আনে আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপরে وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ এবং তা’যীর করে যেটা আগে আলোচনা হয়েছে এবং وَتُوَقِّرُوهُ এখানে এই তাওকীর শব্দটা এসেছে। যে উনাকে যে প্রেরণ করা হয়েছেشَاهِدًا مُبَشِّرًا نَذِيرًا হিসেবে, এইজন্য আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছে উনাকে, উনার ঈমান আনা তা’যীর করা এবং তাওকীর করা।
আচ্ছা! এই তাওকীর মানে হচ্ছে সম্মান করা। আরকি; তা’যীম করা। এখন এই সম্মানটা আমরা কিভাবে করবো? সেই সম্মান করাটা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আমাদের শিখিয়ে গিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, উনারা কিভাবে তা’যীম করতেন? সেটার উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে যে, উনারা যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারকে অবস্থান করতেন, তখন উনারা এমনভাবে থাকতেন; মনে হতো যেন উনাদের মাথার উপরে যেন পাখি বসে আছে। অর্থাৎ উনারা ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার সময় কোন নড়াচড়া করতেন না, খুব একাগ্রচিত্তে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতেন।
তারপর আর একটা বলা যেতে পারে, যে একবার হযরত খতিমুল মুহাজিরীন আলাইহিস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বড় নাকি আপনি বড়? তিনি জবাবে বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার চেয়ে অনেক বড়। তবে আমি উনার পূর্বে বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছি। কত সূক্ষ্ম কথা! উনারা কিভাবে খেয়াল করতেন, কিভাবে তাওকীর করতেন।
আর একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে যে, উনাদের এই সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টা হযরত উবাই ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনি ঈমান আনার পূর্বে উনি হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় কুরাইশদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন। তো পরে, যাওয়ার পরে, যখন নাকি কুরাইশদের কাছে ফিরে গেলেন। উনি গিয়ে বললেন যে, হে আমার ক্বওম! মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমি দুনিয়াবী অনেক শাসকদের কাছে প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছি, কায়সার, কিসরা, নাজ্জাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের কাছেও আমি প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি।
কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেভাবে তা’যীম-তাকরীম মুবারক করেন সেভাবে আমি আর কাউকে করতে দেখিনি এবং তিনি আবার বলতেছেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! তিনি যখনই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল বারাকাত মুবারক অর্থাৎ থুথু মুবারক ফেলেন তখন উনাদের কেউ না কেউ, তা উনাদের হাতে নিয়ে নিতেন। (পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকুন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (২)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












