সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় কারামত মুবারক
, ১৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২০ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১৯ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ৪ চৈত্র, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(১)
দু’জন লোককে তাদের পারস্পরিক বাক-বিতন্ডার পর হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট আনা হয়েছিলো। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তখন এক প্রাচীরের পাদদেশে বসেছিলেন। এক ব্যক্তি হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে বললো, প্রাচীরটি পড়ে যেতে পারে। তিনি উত্তর দিলেন, যাও, মহান আল্লাহ পাক তিনি যথেষ্ট রক্ষাকর্তা। এরপর তিনি সেই দু’ ব্যক্তির সালিশ করে মিটমাট করে দিলেন এবং সেখান থেকে উঠে গেলেন। তিনি উঠে যাওয়ার পরপরই প্রাচীরটা সেখানেই ভেঙ্গে পড়লো।
(২)
একবার যখন হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি উনাকে মিথ্যা বর্ণনার অভিযোগে অভিযুক্ত করলো। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তখন বললেন, আমি যদি মিথ্যা বলে থাকি তাহলে তোমাকে অভিসম্পাত দিবো? সে ব্যক্তি বললো, অভিসম্পাত দিন। তিনি তখন তাকে অভিসম্পাত দিলেন। অতঃপর উক্ত ব্যক্তি সে স্থান ত্যাগ করার পূর্বেই তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেলো।
(৩)
একজন ইহুদী হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট গিয়ে উনাকে বললো, আমাদের মহান আল্লাহ পাক কখন থেকে আছেন? হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেলো এবং তিনি অত্যন্ত জালালিয়তের সাথে বললেন, “সৃষ্টি যখন হয়নি, তখনও তিনি ছিলেন। কোন প্রাণীর অস্তিত্ব যখন ছিলো না, তখনও তিনি ছিলেন। কোন কারণ ছাড়া তিনি আছেন। উনার কোন আদি নেই ও অন্ত নেই। সকল সীমা উনার কাছে কম পড়ে, কারণ তিনি সকল অন্তের অন্ত। ” এ কথা শুনে ইহুদীটি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলো।
(৪)
হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি যখন ছিফ্ফীন অভিযান করেন, তিনি উনার একটি বর্মকোট হারিয়ে ফেলেন। বর্ম কোটটি এক ইহুদীর হাতে আসলে হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তাকে বললেন, বর্ম কোটটি আমার, আমি এটি বিক্রয় করিনি, বা কাউকে দানও করিনি। ইহুদী ব্যক্তিটি বললো, এটি আমার বর্মকোট এবং এটি আমার অধিকারে আছে। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তাকে বললেন, চলো! কাযীর কাছে যাই। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ইহুদীটির আগে গিয়ে হযরত কাযী শুরাইহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পাশে বসে বললেন, আমার বিপক্ষ ব্যক্তি যদি একজন ইহুদী না হতো, তাহলে আমি অবশ্যই বিচারালয়ে তার সঙ্গে একই স্তরে আসন নিতাম। কিন্তু আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, তাদের সঙ্গে অসম্মানজনক ব্যবহার করো। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের সঙ্গে অসম্মানজনক ব্যবহার করেছেন। হযরত কাযী শুরাইহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! শুরু করুন। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হ্যাঁ; এই বর্ম-কোট যা ইহুদী ব্যক্তির হাতে আছে ওটা আমার- আমি এটা বিক্রয় করিনি, কাউকে দানও করিনি। তখন হযরত কাযী শুরাইহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার কাছে কি কোন প্রমাণ আছে? হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হ্যাঁ; কানবার এবং আমার আওলাদ (সন্তান) হাসান (ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম) সাক্ষী যে বর্ম-কোটটি আমার। হযরত কাযী শুরাইহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উত্তর দিলেন, পিতার অনুকূলে পুত্রের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম বললেন, কি! জান্নাতবাসীদের একজনের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না! আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি-
اَلْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ
(অর্থ: হযরত হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা জান্নাতী যুবকদের সর্দার বা সাইয়্যিদ)।
ইহুদী ব্যক্তিটি বললো, আমীরুল মু’মিনীন তিনি আমাকে কাযীর সামনে এনেছেন, আর কাযী উনার বিরুদ্ধে রায় দিলেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই দ্বীন সত্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল এবং এই বর্ম-কোট হলো আপনার বর্ম-কোট। অর্থাৎ ইহুদী ব্যক্তিটি মুসলমান হয়ে গেলো এবং বর্ম কোটটি ফেরত দিলো। সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খুলাফা)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












