সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৮)
, ১৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৪রবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ১৯ ভাদ্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা হাবশায় হিজরত শুরু করার পর থেকে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি কাফিরদের অসৎ আচরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। নবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৭ম বছর মুহররম মাস হতে উনাকে شعب أبى طالب (শি‘বে আবী ত্বালিব) নামক উপত্যকায় অবস্থান মুবারক গ্রহণ করেন। সীরতে ইবনে হিশামে উল্লেখ আছে: কুরাঈশগণ যখন দেখল যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ হাবশায় পূর্ণ নিরাপত্তা লাভ করেছেন এবং সম্রাট নাজ্জাশী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে আশ্রয় প্রদান করেছেন এবং সকল গোত্রে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চর্চা শুরু হয়ে গেছে, তখন তারা পরামর্শ করে বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব সম্পর্কে এক অঙ্গীকার নামা প্রদান করে যার মৌলিক বিষয়বস্তু ছিল এইরূপ: বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব যতক্ষণ পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার জন্য তাদের নিকট সোপর্দ না করবে। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে কেউ আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন করবে না, ক্রয় বিক্রয় করবে না, তাদের সাথে মেলামেশা ও কথাবার্তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখবে এবং তাদের নিকট কোন খাদ্য সামগ্রী পৌঁছতে দিবে না। (নাউযুবিল্লাহ) উপায়ান্তর না দেখে বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব “শি‘বে আবী তালিব” নামক এক পার্বত্য উপত্যকায় অবস্থান গ্রহণ করলেন। এই উপত্যকাটির অবস্থানস্থল হচ্ছে আবু কুবাইশ পাহাড় ও হেরা পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে। ইহা ছিল বনু হাশিম গোত্রের মিরাছী সুত্রে প্রাপ্ত। খাজা আবু তালিব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে ছিলেন। আবু লাহাব তার পরিবারবর্গ নিয়ে পৃথক হয়ে যায় এবং কুরাঈশদের সাথে যোগ দেয়। নূরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালামও এই উপত্যকায় ছিলেন। দীর্ঘ তিন বছর পর্যন্ত উনারা এই উপত্যকায় অবস্থান মুবারক করেন। প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে অতি সন্তর্পনে সেখানে খাদ্য পৌঁছান হতো। কতিপয় হƒদয়বান ব্যক্তি কোন কোন সময় উটে করে খাদ্য সরবরাহ করে যেতেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার তিন ভাতিজা হযরত হাকীম ইবনে হিযাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আবুল বুখতারী এবং যুম‘আ ইবনে আসওয়াদ সকলই ছিলেন কুরাইশ নেতৃবর্গের অন্যতম। অমুসলিম হওয়া সত্বেও উনারা বিভিন্ন ভাবে একঘরে করা মুসলমানদের কাছে খাদ্যশস্য পাঠানোর ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
একদিন হযরত হাকীম বিন হিযাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু চাকরের মাথায় কিছু গম উঠিয়ে নিয়ে চলেছেন উনার ফুফু হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট। পথে নরাধম আবু জেহেলের সাথে দেখা। সে রাগতভাবে বলে উঠল: খাদ্য নিয়ে তুমি বনু হাশিমের কাছে যাচ্ছ? আল্লাহ পাক উনার কসম! এই খাদ্য সহ তুমি সেখানে যেতে পারবে না। যদি যাও, তোমাকে আমি মক্কা শরীফে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করব। এমন সময় আবুল বুখতারী সেখানে উপস্থিত হলো। সে বললো: তোমরা ঝগড়া করছ কেন? আবু জেহেল বলল: সে বনু হাশিমের কাছে খাদ্য নিয়ে যাচ্ছে। আবুল বুখতারী বললো: এ খাদ্য তো তার ফুফুর, হাকীমের কাছে ছিল। ফুফুর সে খাদ্য সে দিতে যাচ্ছে, আর তুমি তাতে বাধা দিচ্ছ কেন? পথ ছেড়ে দাও। কিন্তু আবু জেহেল তার কথায় কান দিল না। তখন দু’জনের মধ্যে মারপিট হলো। এতদসত্বেও হযরত হাকীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খাদ্য পৌঁছাতে সক্ষম হলেন। এভাবে হযরত হাকীম বিন হিযাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মাঝে মাঝে খাদ্য পাঠাতেন (সীরতে ইবনে হিশাম)।
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে তাক্বওয়া হাছিলের মাস, নেক দোয়া করার মাস এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বেশী বেশী বদ দোয়া করার মাস
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












