মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার রচিত এক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক ‘আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী’- যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলামী সৌর বর্ষপঞ্জি
, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক)
৪. শুরুর সময়কাল
আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের বছর, ১১ হিজরী এবং সে বছরের সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ)। উক্ত মুবারক মাস উনার ১ম দিন থেকে এই আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী উনার ০ বছর ১ম মাস ১ম দিন শুরু হয়েছে।
আর প্রতিটি দিন গণনা করা শুরু করা হয় ছুবহে ছাদিক থেকে। কেননা ছুবহে ছাদিক উনার মুবারক মুহূর্তে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ করেছেন। আর হিজরী বর্ষপঞ্জিতে দিবসের শুরু হয় সূর্যাস্তের পর থেকে।
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি: জুলিয়ান বর্ষপঞ্জিকে সংশোধন করে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি করা হয়েছে। ফলে জুলিয়ান বর্ষপঞ্জির শেষ তারিখ ছিলো ৪ঠা অক্টোবর, ১৫৮২, বৃহস্পতিবার আর ১০ দিন সংশোধন করে ১৫ই অক্টোবর, ১৫৮২ জুমুয়াবার থেকে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির ১ম তারিখ গণনা করা হচ্ছে।
আর এই বর্ষপঞ্জিতে দিন গণনা শুরু হয় রাত ১২টার পর থেকে।
ফসলী সন: চন্দ্রমাস নির্ভর হিজরী বর্ষপঞ্জি এবং সৌরমাস নির্ভর হিন্দু বর্ষপঞ্জির সংমিশ্রণে ৯৬৩ হিজরী, ২রা রবীউছ ছানী, জুমুয়াবার (১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ সনে ১৪ এপ্রিল) থেকে এই বর্ষপঞ্জির ১ম তারিখ গণনা করা হচ্ছে। কিন্তু শুরুর দিন ১ সাল ছিলো না বরং হিজরী বর্ষপঞ্জির সাথ মিল রেখে ৯৬৩ সাল ছিলো। বস্তুত ওই দিনটি যেহেতু মোঘল বাদশাহ আকবরের সিংহাসনে অভিষেক দিবস ছিলো, তাই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই ওই দিন পহেলা তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
আর এই বর্ষপঞ্জিতে সূর্যোদয় থেকে দিন গণনার রীতি থাকলেও ১৪০২ সালের ১ বৈশাখ থেকে বাংলা একাডেমী এই নিয়ম বাতিল করে আন্তর্জাতিক রীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতে রাত ১২টায় দিন গণনা শুরুর নিয়ম চালু করে।
৫. শুরুর সময়কালের তাৎপর্য:
আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবতযুক্ত হওয়ার কারণে এর মাধ্যমে খুব সহজেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক স্মরণ হচ্ছে। আবার প্রত্যেক দিন শুরুর ক্ষেত্রেও খুব সহজেই উনার মুবারক স্মরণ হচ্ছে।
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি: গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির শুরুর কোন তাৎপর্য নেই বরং গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির মাধ্যমে বদ চরিত্র পোপ গ্রেগরিকে স্মরণ করা হচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! যা মুসলমানদের জন্য হারাম ও কুফরী।
ফসলী সন: ফসলী সন শুরুরও কোন তাৎপর্য নেই বরং এর মাধ্যমে মোঘল শাসক আকবরের স্মরণ হচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!
৬. মাসসমূহের নামকরণ:
আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী: এই তাক্বউয়ীম উনার মাসের নামকরণ করা হয়েছে আরবী পদ্ধতি অনুযায়ী।
যেমন, স্থানীয় মান অনুযায়ী আরবীতে প্রথম স্থানকে বলা হয় আউওয়াল। এভাবে ১ম মাস থেকে ১২তম মাস পর্যন্ত নামকরণ করা হয়েছে। যথা:
১. আউওয়াল ২. ছানী ৩. ছালিছ ৪. রবি’ ৫. খমিস ৬. সাদিস ৭. সাবি’ ৮. ছামিন ৯. তাসি’ ১০. ‘আশির ১১. হাদী ‘আশার এবং ১২. ছানী ‘আশার।
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি: এই বর্ষপঞ্জির ৬টি মাসের নামকরণ করা হয়েছে দেব-দেবীর নামে, ৪টি মাসের নামকরণ হয়েছে রোমান শব্দ থেকে আর ২টি মাসের নামকরণ করা হয়েছে দুই রোমান শাসকের স্মরণে। মাসের নামের দ্বারা কাফির-মুশরিক এবং দেব-দেবীর নাম স্মরণ করা হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
ফসলী সন: এই বর্ষপঞ্জির প্রায় প্রত্যেক মাসের নামকরণ করা হয়েছে দেব-দেবীর নামে। মাসের নামের দ্বারা মুশরিক এবং দেব-দেবীর নাম স্মরণ করা হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
৭. দিনের নামকরণ:
আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী: আরবী মাসের দিনের নামানুসারেই দিনগুলোর নামকরণ হয়েছে।
যথা: ইছনাইনিল আযীম (সোম), ছুলাছা (মঙ্গল), আরবিয়া (বুধ), খমীস (বৃহস্পতি), জুমুয়া, সাব্ত (শনি), আহাদ (রোব)।
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি: রোমানরা গ্রহের সাথে দেবতার সম্পর্ক করতো এভাবে- ঝঁহফধু- উধু ড়ভ এড়ফ (বিধাতার দিন), Monday- MoonÕs day (চাঁদের দেবীর সাথে মিলিয়ে), Tuesday - দেবতা Tiw- এর নাম থেকে, Wednesday- Mercury দেবতার নাম থেকে, Thursday- Thor দেবতার নাম থেকে, Friday - দেবী Frigg -এর নাম থেকে, Saturday - শনি গ্রহের (Saturn) সম্মানে। নাঊযুবিল্লাহ!
মুসলমানদের জন্য এভাবে গ্রহ-নক্ষত্র, দেব-দেবীর নামানুসারে দিনের নাম ব্যবহার করা হারাম ও কুফরী।
ফসলী সন: এই বর্ষপঞ্জির ৪টি দিনের নামকরণ করা হয়েছে হিন্দু দেব-দেবীর নামে আর ৩টি দিনের নামকরণ হয়েছে গ্রহের নামানুসারে। মুসলমানদের জন্য এভাবে গ্রহ-নক্ষত্র, দেব-দেবীর নামানুসারে দিনের নাম ব্যবহার করা কুফরী। নাঊযুবিল্লাহ!
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬,৬৬৬। আর এ মতটি বহুল প্রচলিত, মশহূর ও গ্রহণযোগ্য (১)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় খরচ করলে তা দিগুণ-বহুগুণে বৃদ্ধি করে ফিরিয়ে দেয়া হয়
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (২৬)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












