সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সংক্ষেপে বা ইশারা-ইঙ্গিতে পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখা নাজায়িয, চরম বেয়াদবী ও কুফরী (২)
, ২০ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ফাতহুল বারী, শরহুন নববী লি ছহীহ মুসলিম, আউনুল মা’বূদ, তুহফাতুল আহওয়াযী, নাইলুল আওতার, সুবুলুস সালাম ফী শরহে বুলূগিল মারাম ইত্যাদি কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
ولا يجوز الاكتفاء بـ (ص) ولا (صلعم) للإشارة إلى الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم بل المشروع التصريح بذلك فيقول: صلى الله عليه وسلم
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি দুরূদ শরীফ বুঝানোর জন্য শুধু (ص) এবং (صلعم) এটাকে যথেষ্ট মনে করা জায়িয নয়। বরং ব্যক্ত করার বৈধ পন্থা হলো- ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এভাবে বলা বা লেখা। ” (উরশিফু মুলতাক্বা আহলুল হাদীছ ৯/৩২৭)
শরহে আক্বীদায়ে ত্বহাবিয়্যাহ কিতাবের মুক্বদ্দিমায় বলা হয়েছে-
لا يجوز كتابة (صلعم) و (ص) إختصاراً لكلمة صلى الله عليه وسلم ولكن عليك بكتابة صلى الله عليه وسلم كلما ورد إسم النبى صلى الله عليه وسلم ولا تمل فإن ثوابها عظيم وهى مَجْلَبَةٌ للحسنات وكلما قرأها أحد أخذت ثوابها أيضاً
অর্থ: “ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এই বাক্য মুবারক সংক্ষেপে (صلعم) অথবা শুধু (ص) এভাবে লেখা জায়িয নেই। বরং আপনার জন্য আবশ্যক হচ্ছে- আপনি যখনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক লিখবেন তখন ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পুরোটাই লিখবেন। এতে কোনোরূপ বিরক্ত হবেন না। এর সুমহান ছাওয়াব রয়েছে। এভাবে লেখাটা নেকী হাছিলের কারণ। আর যখন কেউ এই পূর্ণ ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পাঠ করবে তখন আপনিও এর পুরো ছাওয়াব লাভ করবেন। ” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহু রব্বিল বারিয়্যাহ ফী তাক্বরীবে মুক্বাদ্দিমায়ে শরহে আক্বীদায়ে ত্বহাবিয়্যাহ ১৬ নং পৃষ্ঠা)
অন্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
ولا ينبغي أن ترمز الصلاة كما يفعله بعض الكسالى والجهلة وعوام الطلبة، فيكتبون صورة "صلعم" بدلاً من صلى الله عليه وسلم"اهـ.
অর্থ: “আর সম্মানিত দুরূদ শরীফ উনার পরিবর্তে কোনো ইঙ্গিত বা সংকেত এভাবে লেখা অনুচিত অর্থাৎ জায়িয নয়। যেমনটা কিছু অলস, মূর্খ লোক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা করে থাকে। ” (আছ ছলাত ওয়াল বুশর, মাহযাবু মু’জামিল মানাহী আল লফযিয়্যাহ্ ১১৩ নং পৃষ্ঠা)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-
وكذلك بالنسبة للصلاة على النبي والتسلم والترضية على الصحابة لا ينبغي أن يرمز لها أو أن تغفل بعضهم يكتب "ص" أو "و" أو يكتب "صلعم" حتى بعضهم يقرأها "صلعم" هكذا.
অর্থ: “অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি দুরূদ শরীফ বুঝানোর জন্য এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের জন্য ‘রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু’ বুঝানোর জন্য সংকেত ব্যবহার করা, গাফলতী করা উচিত নয়। কেউ কেউ (ص) (و) এবং (صلعم) এভাবে লিখে থাকে। এমনকি অনেকে এটাকে (صلعم) এভাবেই পাঠ করে। ” নাঊযুবিল্লাহ! (শরহু ইখতিছারে উলূমিল হাদীছ ৩১২ পৃষ্ঠা)
তিরমিযী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে-
واعلم أن ما يذكر ويكتب لفظ (صلعم) بدل- صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فغير مرضي وقد شنع عليه حضرت أحمد بن حنبل رحمة الله عليه
অর্থ: “জেনে রাখুন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিবর্তে (صلعم) উল্লেখ করা বা লেখা একটি অপছন্দনীয় বিষয়। হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এটার বিরুদ্ধে নিন্দা করেছেন। ” নাঊযুবিল্লাহ! (আল আরফুশ শাযী শরহে সুনানে তিরমিযী ১/৪৪৯)
আল্লামা হযরত শামসুদ্দীন সাখাভী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৯০২ হিজরী) তিনি বলেন-
ولا ينبغي إن يرمز بالصلاة كما يفعله الكسالى والكهلة وعوام الطلبة فيكتبون صورة (صلعم) بدلاً من صلى الله عليه وسلم.
অর্থ: “আর সম্মানিত দুরূদ শরীফ ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার পরিবর্তে কোনো ইঙ্গিত বা সংকেত যেমন-(صلعم) এভাবে লেখা অনুচিত অর্থাৎ জায়িয নয়। যেটা কিছু অলস, পৌঢ় বা বয়স্ক লোক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা লিখে থাকে। ” নাঊযুবিল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৪৭ নং পৃষ্ঠা)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












