শিশুদের জন্য নছীহত মুবারক! (২৮)
সম্মানিত খিলাফত ব্যবস্থা জমিনই যেন জান্নাত!
মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়
, ১৩ই রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০৭ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন, ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ২২ই মাঘ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রথম খলীফা খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকাল। সবদিকে চলছে ইনসাফপূর্ণ শাসন ব্যবস্থা। তারপরও খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার একজন বিচারক প্রয়োজন বোধ করলেন। তিনি আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার বিচারক মনোনিত করলেন।
বিচারক হিসেবে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এক বছর কাটিয়ে দিলেন। কিন্তু বিচার প্রার্থী হিসেবে নালিশ নিয়ে একজনও আসলেন না। একটি বিচার বসানোরও প্রয়োজন পড়েনি। এজন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বিচারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইলেন। তিনি খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার কাছে আরজ করলেন। তিনি উনার কাছে জানতে চাইলেন, বিচারের কোনো সমস্যার কারণে কি আপনি অব্যাহতি চাচ্ছেন?
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উত্তর দিলেন, খলীফাতুল মুসলিমীন! না। কারণ বিচারক হিসেবে এখানে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। সবাই উনাদের হক্ব সম্পর্কে সচেতন। উনাদের কেউ নিজের হক্বের বেশি আশা করেন না। আর উনাদের ওপর যে দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে, তাও সঠিকভাবে পালন করেন। উনারা নিজেদের জন্য যা পছন্দ করেন, উনাদের ভাইয়ের জন্যও তাই পছন্দ করেন।
কারো সঙ্গে দেখা না হলে উনারা উনার খোঁজখবর নেন। কেউ অসুস্থ হলে উনার সেবা করেন। কেউ অসহায় হয়ে পড়লে উনাকে সাহায্য করেন। কারো কোনো প্রয়োজন পড়লে উনার প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসেন। কেউ বিপদে পড়লে উনাকে সান্ত¡না দিয়ে বিপদ কমানোর চেষ্টা করেন। উনাদের চরিত্র হলো, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া ও মন্দ কাজে নিষেধ করা। তাই উনারা কেন ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হবেন। উনাদের বিচারকের-ই বা কী প্রয়োজন?
নছীহত মুবারক:
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার খিলাফত ব্যবস্থা যখন জারী ছিলো তখন সবাই এত ইতমিনান ছিলেন যে কারো কোন অভিযোগ ছিলো না। সম্মানিত খলীফা উনার পক্ষ হতে সকল বিষয়ের সবার দেখাশোনা করা হতো। সবার চাহিদা পূরণ করে দেয়া হতো। জনসাধারণও এমন ছিলেন যারা তাক্বওয়া-পরহিযগারীতে বেমেছাল। যার ফলে জমিনই ছিলো জান্নাতের নিয়ামতের মতো পরিপূর্ণ। আবার যখন হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে সম্মানিত খিলাফত মুবারক কায়েম হবে তখন জমিনে ইনসাফ আবার কায়িম হবে এবং জান্নাতের মতো নিয়ামত দ্বারা জমিন পরিপূর্ণ হবে।
মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকাল। একদিন মোমের আলোতে কাজ করছিলেন তিনি। এমন সময় সেখানে আসেন উনার দুইজন আত্মীয়। ফলে তিনি তাড়াতাড়ি ফুঁ দিয়ে মোমবাতিটি নিভিয়ে দিলেন। অন্য আরেকটি মোমবাতি ধরিয়ে অতিথিদের বসতে দিয়ে উনাদের খোঁজখবর নিতে থাকলেন।
কৌতুহল চাপতে না পেরে একজন আদবের সহিত জানতে চাইলেন, হে আমিরুল মুমিনীন! আমাদের দেখে কেন আপনি আগের মোমবাতি নেভালেন আর নতুন একটি মোম জ্বালালেন? জবাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আগের মোমবাতি ছিল বায়তুল মালের সম্পত্তি থেকে কেনা। আপনারা যেহেতু আমার আত্মীয়, তাই আপনাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত অনেক আলাপ হবে। আমার নিজের কাজে বায়তুল মালের আমানত থেকে আমি কিছু খরচ করতে পারি না। যদি সামান্যও খরচ করি তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আমাকে জবাবদিহি করতে হবে। তাই বায়তুল মাল থেকে কেনা মোমবাতি নিভিয়ে দিয়ে নিজের সম্পদে কেনা মোমবাতিটি আপনাদের দেখেই জ্বালিয়ে দিয়েছি। সুবহানাল্লাহ!
নছীহত মুবারক:
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি খলীফা হিসেবে সম্মানিত খিলাফত উনার কেমন বেমেছাল রক্ষক ছিলেন এবং সম্মানিত খিলাফত উনার প্রতিটি বিষয়ে তিনি কেমন বেমেছাল আমানতদার ছিলেন তা বলার বাহিরে। সেজন্যই তিনি বলেছেন, ফোরাতের তীরে যদি একটি কুকুরও না খেয়ে থাকে তাহলে আমাকে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে জবাবদিহী করতে হবে। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনাকে তিনি কেমন ভয় করতেন তা ফিকির করতে হবে। সেজন্যই উনাদের খিলাফতকাল ছিলো জমিনেই জান্নাতের মতো।
-উম্মু মুদ্দাসসির
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৯)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (১)
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (১)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নারী সমাজের জন্য একটি জরুরী ফিকির!
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“মৃত্যু দেখে দেখে নসীহত হাছিল করতে হবে”
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত সালমা বিনতে হাফসা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












