সম্মানিত ইলিম ও আলিম উনাদের ফযীলত ও গুরুত্ব (২)
, ২৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ০৩ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সম্মানিত ইলিম অর্জন করতে হবে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি হাছীলের লক্ষ্যে। তাহলে সহজেই পূর্ণতায় পৌঁছা সহজ ও সম্ভব হবে। অন্যথায় হালাকী ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে-
تَعَلَّمْنَا الْعِلْمَ لِغَيْرِ الله، فَأَبى العِلْم أنْ يَكُونَ إِلَّا لله
অর্থঃ- মহান আল্লাহ পাক ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে ইলিম অর্জন করা হলে ইলিম তাকে অস্বীকার করে। ইলিম বলে আমি মহান আল্লাহ পাক ছাড়া অন্য কারো জন্য হবো না।
এর ব্যাখ্যায় বলা হয়- ইলিম অর্জনকারীর দুটি অবস্থা। ১. ইলিম দ্বারা সে উপকার লাভ করবে। অর্থাৎ ইলিম তাকে হিদায়েত দান করবে। ২. ইলিমকে সম্মান না করার কারণে ইলিম তাকে লা’নত দেয়; ফলে সে ধ্বংস হয়ে যায়। আর ইলিমের কদর না করলে ৩টি অবস্থা হবে। প্রথমত; অল্প বয়সে সে মৃত্যু বরণ করবে। দ্বিতীয়ত; মূর্খ সমাজে তার বসবাস হবে। তৃতীয়ত; আমীর ওমরা, রাজা-বাদশার তাবেদার তথা গোলামী করবে।
বর্তমান সমাজে অনেকেই আলিম দাবী করে কিন্তু তাদের আমল আখলাক্ব দেখলে তাদেরকে আলিম তো মনেই হয়না বরং তারা হলো কাফিরের তাবেদার (গোলাম)। আসলে এরাই হলো উলামায়ে ছূ। যাদের সম্পর্কে পূর্বেই সতর্ক করা হয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে- একবার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জিঙ্গেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সৃষ্টির নিকৃষ্ট কারা? তিনি কোন কিছু বললেন না। এভাবে তিনবার জানতে চাওয়ার পর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনারা ভালো সম্পর্কে জিঙ্গেস করুন, খারাপ সম্পর্কে না। তখন উনারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! খারাপটা না জানলে আমরা কিভাবে তাদের থেকে বেঁচে থাকবো। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ شَرَّ الشَّرِّ شِرَارُ اَلْعُلَمَاءِ وَ إِنَّ خَيْرَ الْخَيْرِ خِيَارُ اَلْعُلَمَاء
অর্থ : নিশ্চয়ই সৃষ্টির নিকৃষ্ট হলো উলামায়ে ছূ। আর সৃষ্টির শ্রেষ্ট হলো উলামায়ে হক্ব তথা হক্কানী-রব্বানী আলিমগণ উনারা।
অর্থাৎ শুধু ইলম শিক্ষা করলেই হক্কানী-রব্বানী আলিম হওয়া যায় না। ইলিম শিক্ষা করে সেটা দুনিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করে এরা উলামায়ে ছূ বনে যায়। এরা হলো সম্মানিত ইসলাম উনার শত্রু, মুসলমান উনাদের শত্রু। তাদের দ্বারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার যত ক্ষতি সাধন হবে তা আর অন্য কারো দ্বারা হবে না।
অতএব, ইলিম অর্জন করতে হবে মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রিযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছীলের লক্ষ্যে। তবেই হক্কানী-রব্বানী আলিম, ফক্বীহ তথা ওলীআল্লাহ হওয়া সহজ ও সম্ভব হবে।
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে, হযরত আবূ দ্বারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সুওয়াল করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কতটুকু ইলম অর্জন করলে একটা লোক ফক্বীহ হতে পারে?
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মতের আমলের জন্য, ইছলাহের জন্য মাত্র চল্লিশটা হাদীছ শরীফ হিফয করবে, সে অনুযায়ী আমল করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে কিয়ামতের দিন ফক্বীহ হিসেবে উঠাবেন। সুবহানাল্লাহ! এবং আমি কিয়ামতের দিন তার পক্ষ হয়ে তাকে সুপারিশ করবো, তার পক্ষে আমি সাক্ষী হবো। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং সম্মানিত ইলিম ও হক্কানী-রব্বানী আলিম উনাদের কত ফযীলত তা উপরোক্ত পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা উনাদের বর্ণনা দ্বারাই সহজেই অনুমেয়।
কাজেই যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে সম্মানিত ইলিম উনার গুরুত্ব ও ফযীলত হাক্বীক্বীভাবে বুঝার,অনুধাবন করার তৌফিক দান করেন এবং সে ইলিম অনুযায়ী আমল করে হক্কানী-রব্বানী আলিম, ফক্বীহ তথা আল্লাহওয়ালা হওয়ার তৌফিক দান করেন। আমীন!
-মুহম্মদ হুসাইন নাফে’।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












