সম্মানিত ইলিম ও আলিম উনাদের ফযীলত ও গুরুত্ব (১)
, ১১ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
অর্থ: “(তোমরা দু’আ কর,) আয় আল্লাহ পাক! আপনি আমাদের ইলম বৃদ্ধি করে দিন।”
কেননা, সমস্ত ইলম-কালামসহ সমস্ত কিছুই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট রয়েছে। সেটাও তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّمَا الْعِلْمُ عِنْدَ اللَّهِ
অর্থ : নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটেই সমস্ত সম্মানিত ইলম মুবারক রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
আর এ সমস্ত ইলম মুবারক তিনি উনার প্রিয় হাবীব ও মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন। কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে-
انَّمَا أَنَا قَاسِم وَاللهُ يُعْطِي
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন দাতা আর আমি অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন বন্টনকারী।
অর্থাৎ সৃষ্টিকুলকে ইলম-কালামসহ যা কিছুই দেয়া হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে তা সব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমেই তারা লাভ করে থাকে । সুবহানাল্লাহ! আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيْضَةٌ عَلى كُلِّ مُسْلِمٍ وَّ مُسْلِمَة
অর্থ: “প্রত্যেক মুসলমান নর এবং নারী সকলের জন্যই ইলম অর্জন করা ফরয।”
অর্থাৎ প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা, শিশু, কিশোর, যুবক ও বয়স্ক সকলের জন্য ইলম অর্জন করা ফরয। এখন অনেকেই মনে করে থাকে যে ইলমে ফিক্বাহ অর্জন করা ফরয। ইলমে তাসাউফ অর্জন না করলেও চলে। আসলে বিষয়টা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মূলত ইলমে ফিক্বাহ অর্জন করা যেমন ফরয, তেমনি ইলমে তাসাউফও অর্জন করা ফরয। কেননা, শুধু মাত্র ইলমে ফিক্বাহ দ্বারা কামিয়াবী লাভ করা যাবে না। সেটাই বলা হয়,
مَنْ تَفَقَّهَ وَلَمْ يَتَصَوَّفْ فَقَدْ تَفَسَّق، وَمَنْ تَصَوَّفْ وَلَمْ يَتَفَقَّهْ فَقَدْ تَزَنْدَق، ومَنْ جَمَعَ بَيْنَهُمَا فَقَدْ تَحَقَّق
অর্থ : যে ব্যক্তি ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো কিন্তু ইলমে তাছাউফ অর্জন করলো না সে ব্যক্তি ফাসিক। আর যে শুধুমাত্র তাছাউফ শিক্ষার কথা বলে অথচ ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো না সে ব্যক্তি যিন্দিক তথা কাফির। আর যে ব্যক্তি এ দু প্রকার ইলিমকে একত্রিত করলো সে ব্যক্তি হলো মুহাক্কিক্ব।
কাজেই ইলমে ফিক্বাহ অর্জনের পাশাপাশি ইলমে তাছাউফ অর্জন করতে হবে। তবেই হাক্বীক্বী কামিয়াবী লাভ করা যাবে।
আর শুধু ইলিম অর্জন করলেই আলিম হওয়া যায় না; ইলিম অর্জন করে সে অনুযায়ী আমল করতে হবে। তবেই হক্কানী-রব্বানী আলিম হওয়া যাবে। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দাদের মধ্যে যারা উনাকে ভয় করে উনারাই হলেন হক্কানী-রব্বানী আলিম।”
যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ও উনার হাবীব-মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ভয় করে এবং উনারা যেভাবে আদেশ-নির্দেশ মুবারক করেছেন সে অনুযায়ী ইলিম অর্জন করে আমল করে উনারাই আলিম।
-মুহম্মদ হুসাইন নাফে’।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












