সন্তানের প্রতি মা-বাবার হক্ব:
সন্তানকে দুনিয়াদার নয় আল্লাহওয়ালা হওয়ার শিক্ষা প্রদান করতে হবে
, ০৯ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৪ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
দুনিয়াদার পিতা-মাতা তারা তাদের সন্তানদেরকে দুনিয়া হাছিলের শিক্ষা দেয়। দুনিয়া হাছিলের তারগীব দেয় বা উৎসাহিত করে, দুনিয়াদার হওয়ার জন্য তাদের পিছনে অর্থ-সম্পদ, সময়, শ্রম সবকিছু ব্যয় করে। তারা তাদের সন্তানদেরকে বলে, দুনিয়া হাছিলের জন্য তোমাকে বড় ডাক্তার হতে হবে। বড় ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। উকিল হতে হবে, ব্যারিস্টার হতে হবে, আমীর-উমারা, রাজা-বাদশা ইত্যাদি হতে হবে। কিন্তু একটিবারও বলে না যে, তোমাকে আল্লাহওয়ালা হতে হবে। দুনিয়া তালাশকারীরা কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনদের গোলামে পরিণত হয়। আর আল্লাহওয়ালাগণ সারা দুনিয়ার মালিক হয়ে যান। মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যেমন সারা কায়িনাতের সবকিছুর মালিক, তেমনি আল্লাহওয়ালাগণ, মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধু হওয়ার সুবাদে সারা কায়িনাতের সবকিছুর মালিক হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ! কিতাবে এসেছে-
من له الـمولى فله الكل
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক যার হয়ে যান সবকিছুই তার হয়ে যায়।
সেজন্য ওলীআল্লাহগণ বলেছেন, রাজা-বাদশা, আমীর-উমারাগণ আল্লাহওয়ালা উনাদের হাক্বীক্বত বা প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে যদি জানতো তাহলে তারা তাদের বাদশাহী ছেড়ে দিয়ে আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের দরবার শরীফের ধুলা হয়ে যেতো। সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আযম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুনন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, প্রত্যেক পিতা-মাতার দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে শৈশবকালেই স্বীয় সন্তানকে বিশেষভাবে তিনটি বিষয় শিক্ষা দেয়া।
১। সন্তানকে জানাতে হবে, নছীহত করতে হবে, বৎস! তোমাকে আল্লাহওয়ালা বা ওলীআল্লাহ হতে হবে। তুমি কখনো দুনিয়াদার হবে না। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে আল্লাহওয়ালা হওয়ার জন্যই তথা মা’রিফাত-মুহব্বত হাছিলের জন্যই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।
২। তোমাকে প্রতিদিন আল্লাহওয়ালা তথা ওলীআল্লাহগণ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতে হবে। তুমি যেখানেই থাক না কেন প্রতিদিন উনাদের ছোহবত মুবারকে যাবে। আর পিতা-মাতাকে এটা আমল করে দেখিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ মাতা-পিতা নিজেরাই সন্তানকে ওলীআল্লাহগণের ছোহবত মুবারকে আনা নেয়া করবেন। সুলত্বানুল আরিফীন সাইয়্যিদুশ শুয়ারা, সাইয়্যিদুনা হযরত মুসলিহুদ্দীন- শায়েখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তোমাদের সন্তানগণ হাঁটা চলার বয়সে পৌঁছলে তাদেরক আল্লাহওয়ালা বা ওলীআল্লাহগণ উনাদের ছোহবত মুবারকে পাঠিয়ে দাও। তাহলে সে অনেক উঁচু স্তরের, মর্যাদা সম্পন্ন ওলীআল্লাহ হবে। সুবহানাল্লাহ! আর যদি অতি উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন ওলীআল্লাহ নাও হয় তবে কখনোই গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট হবে না। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا ايُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللّـهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। আর ওলীআল্লাহগণ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করো। (পবিত্র সূরা তওবা: আয়াত শরীফ ১১৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ. وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا.
অর্থ: আপনি উম্মতদেরকে বলে দিন তারা যেন ঐ সকল ব্যক্তিদের ছোহবতকে লাযিম (আবশ্যক) করে নেয়, যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিলের জন্য সকাল-সন্ধ্যা (দায়িমীভাবে) উনাদের মহান রব আল্লাহ পাক উনার যিকির করেন। দুনিয়ার চাকচিক্য বা সৌন্দর্যে বা মোহে মোহগ্রস্ত হয়ে উনাদের ছোহবত মুবারক থেকে কখনোই দৃষ্টি ফিরিয়ে না নেয়। ” (পবিত্র সূরা কাহাফ: আয়াত শরীফ ২৮)
৩) শত্রুদেরকে চিনিয়ে দিতে হবে। কারা কারা শত্রু এবং তাদের শত্রুতার রকম-ধরণ কিরূপ তা ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। কেননা শত্রুদের পরিচয় জানা না থাকার কারণে তারা পরবর্তী জীবনে শত্রুদের চক্রান্তে পড়ে পর্যদুস্ত হয়। যার কারণে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় তাদের তল্পীবাহী হয়ে যায়। কাজেই, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিধি-বিধান শিক্ষা দেয়ার সাথে সাথে শত্রুদের পরিচয় জানিয়ে দিতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালাম পাকে মু’মিন মুমিনাদেরকে সেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি উনার হুকুম-আহকাম বর্ণনা করার সাথে সাথে শত্রুদের পরিচয়, তাদের শত্রুতার ধরণ, তাদের স্বরূপ ও অন্যান্য চক্রান্তের বর্ণনা দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِيْنَ آمَنُوا الْيَهُوْدَ وَالَّذِيْنَ أَشْرَكُوْا
অর্থ: (হে আমার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি অবশ্যই ঈমানদারদের জন্য মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবেন ইহুদী ও মুশরিকদেরকে। (সূরা মায়িদা শরীফ : আয়াত শরীফ ৮২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
يا ايها الذين امنوا لاتتخذوا ا لكافرين اولياء من دون الـمؤمنين.
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা মু’মিনগণ ব্যতীত অন্য কোন কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। (পবিত্র সূরা নিসা : আয়াত শরীফ ১৪৪)
-সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক: সর্বোত্তম ঈমান উনার অধিকারী হওয়ার শর্তাবলী (২)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান-মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী ? (২)
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খছম বা ঝগড়া কু-স্বভাবটি পরিহার করা অপরিহার্য কর্তব্য
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১০)
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












