পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ০৩ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২১ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
এ প্রসঙ্গে বলা হয়, পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِينَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيقَةِ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ: "أَتَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ وَمَعَهٗ شَيْخٌ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ هٰذَا مَعَكَ؟ " قَالَ: أَبِي. قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَمْشِ أَمَامَهٗ، وَلَا تَقْعُدْ قَبْلَهٗ، وَلَا تَدَعُوهُ بِاِسْمِهٖ
“হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম বর্ণনা করেন, একদিন এক লোক আসলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে। সাথে একজন বৃদ্ধ লোকও আসলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “হে ব্যক্তি! এই বৃদ্ধ লোকটা কে? তিনি বললেন, ইনি আমার পিতা।”
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নছীহত করলেন-
لَا تَمْشِ أَمَامَهٗ، وَلَا تَقْعُدْ قَبْلَهٗ، وَلَا تَدَعُوهُ بِاِسْمِهٖ
“হে ব্যক্তি! আপনি কখনই আপনার পিতার সামনে সামনে হাঁটবেন না, কখনই উনার পূর্বে বসবেন না এবং কখনই আপনার পিতার নাম ধরে ডাকবেন না। তা’যীমের সাথে, তাকরীমের সাথে, সুন্দর সম্বোধন দিয়ে আপনার পিতাকে আপনি ডাকবেন। আপনি আগে আগে হাঁটবেন না, চলবেন না, বসবেন না এবং নাম ধরে ডাকবেন না। তা’যীম-তাকরীম, আদবের সাথে সম্বোধন করবেন।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সেটা সেই ছাহাবীকে শিক্ষা দিয়ে দিলেন। মূলতঃ এটা একটা আদবের অন্তর্ভুক্ত। যে আদবটা রক্ষা করা সন্তানের জন্য পিতার প্রতি আবশ্যক।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়, যিনি ইমামে আ’যম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি। যিনি বেমেছাল। যার মেছাল নেই। আর যার ছানা-ছিফত করারও অপেক্ষা রাখে না। সেই ইমামে আ’যম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যিনি মা ছিলেন, তিনি উনার যামানায় একজন আলিমের মাসয়ালা-মাসায়েল অনুসরণ করতেন। অর্থাৎ সেই আলিমের মুকাল্লিদ তিনি ছিলেন। সে সময় ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহিকে সমস্ত আলিমরা মানতো এবং যার যে কোন সমস্যা হতো সেটা তিনি সমাধা করে দিতেন। কিন্তু উনার মাতার আক্বীদা ছিল একজন আলিমের প্রতি। যার মাসয়ালা তিনি শুনে আমল করতেন। কোন বিষয়ে দরকার হলেই ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহিকে উনার মাতা বলতেন, যে বাবা! আপনি অমুক আলিম ছাহেবের কাছ থেকে মাসয়ালাটা জেনে আসুন।
অথচ দেখা গেছে, অনেক সময় ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি সেই মাওলানা ছাহেবকে কোন মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করলে মাওলানা ছাহেব বলতেন, “হুযূর! আমি জানিনা। দয়া করে আপনি আমাকে মাসয়ালাটা বলে দিন।” “আমি সেটা বলব, আপনি আমার মুখ থেকে শুনে আপনার আম্মাকে বলবেন।”
সেই আলিম ছাহেব এইজন্য অনেক লজ্জিত হতেন যে, এটা কি করে সম্ভব, আপনার মতো লোক আমার কাছে মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন যে, দেখুন এটা আমার মায়ের নির্দেশ। আমার জানা আছে মাসয়ালা, তাহক্বীক্ব আছে, পূর্ণ তাহক্বীক্ব আছে, তারপরও যেহেতু আপনার কাছে জানার জন্য মা নির্দেশ দিয়েছেন, আমি তাই এসেছি, আপনি বলে দিন। সেই আলিম সে মাসয়ালা না জানলে তিনি তাকে বলে দিতেন, আপনি মাসয়ালা বলে দিন, এটা এরকম হবে।
সেই আলিম ছাহেব তাই বলতেন, সেটা আবার শুনে এসে ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মায়ের কাছে বলতেন, “হে আমার মাতা! তিনি বলেছেন, মাসয়ালাটা এরূপ হবে। দেখা গেছে অনেকবার উনাকে যেতে হয়েছে মাসয়ালার জন্য। হাক্বীক্বত সেই আলিম ছাহেবের অনেক বিষয় জানা ছিল না, তাহক্বীক্ব ছিলনা। সেটা তাহক্বীক্ব করে দিতেন স্বয়ং ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাহক্বীক্ব করে দেয়ার পর তিনি বলতেন, সেটা তার মুখ থেকে শুনে এসে উনার মাকে জানাতেন।
এখানে তিনি কতটুকু উনার মাতার হক্ব আদায় করেছেন এবং হক্ব আদায় করার জন্য কোশেশ করেছেন। সেটা বেমেছাল। যার জন্য সেই আলিম ছাহেব লজ্জিত হতেন। কিন্তু ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি কোন চূ-চেরা, কীল-কাল করতেন না। বলার সাথে সাথে সেই আলিম ছাহেবের বাড়ীতে গিয়ে সেটা জেনে এসে জানাতেন। কাজেই পিতা-মাতার হক্ব খুব কঠিন বিষয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
“প্রত্যেককে মু’মিনে কামিল হতে হবে” (১ম পর্ব)
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান, মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী? (৩)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের- সন্তুষ্টি-রেযামন্দি লাভের জন্য সন্তান প্রতিপালন করা সুন্নত (৭)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“যিনি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বিশেষ মর্যাদা দিলেন, তিনি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন”
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












