ফতওয়া:
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (১০)
, ১৭ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩১ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন এদের সাথে কোন সম্পর্ক রেখো না কারণ এদের সাথে আমার এবং আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ আমাদের কোন সম্পর্ক নেই
১ম দলীল :
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
لَّا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۖ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ
অর্থ : মু’মিনরা যেন ঈমানদার ব্যতীত কাফিরদেরকে নিজেদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করে। যে ব্যক্তি এরূপ করবে, তার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। না‘ঊযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলে ইমরান : আয়াত শরীফ ২৮)
২য় দলীল :
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি মহান বিদায় হজ্জ মুবারকে ইরশাদ মুবারক করেন,
أَذَانٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ فَإِنْ تُبْتُمْ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللَّهِ وَبَشِّرِ الَّذِينَ كَفَرُوا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের তরফ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হজ্জে আকবার উনার দিনে সমস্ত মানুষের প্রতি ঘোষণা দেয়া হচ্ছে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা মুশরেকদের থেকে মুক্ত, জুদা। কাজেই, যদি তোমরা তওবা করে ফিরে আসো, মুশরিকদের থেকে জুদা হয়ে যাও, তাহলে সেটা তোমাদের জন্য উত্তম হবে। আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, মুশরিকদের থেকে জুদা না হও, তাহলে জেনে রেখো- মহান আল্লাহ পাক উনাকে তোমরা পরাভূত করতে পারবে না অর্থাৎ উনার সাথে তোমরা পারবে না। আর (আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি কাফেরদেরকে কঠিন শাস্তির সংবাদ দিন। না‘ঊযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা তওবা : আয়াত শরীফ ৩)
অর্থাৎ সমস্ত জ্বিন-ইনসান সকলের জন্য ফরজ হচ্ছে সমস্ত কাফির মুশরিক, বিধর্মীদের থেকে সর্বপ্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করা। অন্যথায় তাদের সাথে সম্পর্ক রাখার কারণে তারা কাফির হয়ে জাহান্নমী হবে।
৩য় দলীল :
তাই একইভাবে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ أَظْهُرِ الْمُشْرِكِينَ
অর্থ : আমিও ঐ সমস্ত মুসলমানদের থেকে মুক্ত, জুদা যারা মুশরিকদের মধ্যে অবস্থান করে, মুশরিকদের সাথে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ)
৪র্থ দলীল :
আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
عن حَضْرَتْ قيس بن أبي حَازِمٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قال رسول الله صلَّى الله عليهِ وسلَّمَ ألا إنّي بَرِئ مِنْ كُلِّ مُسلِمٍ مَع مُشْرِكٍ
অর্থ : হযরত ক্বয়স ইবনে আবী হাযিম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘সাবধান হয়ে যাও! নিশ্চয়ই আমি ঐ সমস্ত মুসলমানদের থেকে মুক্ত, জুদা, যারা মুশরিকদের সাথে মিশে, মুশরিকদের সাথে শামিল হয়। (মুসনাদুশ শাফিয়ী ২/১০২)
অর্থাৎ উপরোক্ত দলীল :ভিত্তিক আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, যারা কাফির-মুশরিকদের সাথে সম্পর্ক রাখে ও রাখবে এবং কাফির-মুশরিকদের সাথে সম্প্রীতি রাখে, রাখবে ও সম্প্রীতি রাখার কথা বলে ও বলবে তাদের সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। অতএব তাদের ইমামতিতে নামাজ পড়া যায়েজ নেই। কারণ এরা মুরতাদ ও কাফির হয়ে গেছে। কেউ যদি তাদের পিছনে নামাজ পড়ে তাহলে তার নামাজ কখনোই হবে না। তাকে নামাজ অবশ্যই দোহরায়ে পড়তে হবে। অন্যথায় সে শুধুমাত্র নামাজ তরকের গুনাহে গুনাহগারই হবে না বরং সেও মুরতাদ ও কাফির হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৯)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৯)
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












