মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু কাফির-মুশরিকরা (৪)
, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এই ইহুদীরাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরম বিরোধীতা করেছিলো।
তারা সম্মানিত আযান মুবারক শুনে বলেছিলো-
ابتدعت شيئاً لم يكن للأنبياء فمن أين لك الصياح كصياح العير فما أقبحه من صوت
‘এটা আপনি কি নতুন বিষয় শুরু করেছেন, যেটা পূর্বে কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সময় ছিলো না। আপনি উটের চিৎকারের মতো চিৎকার কোথায় পেলেন? কি কুৎসিত শব্দ!’ নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!
তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি নাযিল করেন,
وَإِذَا نَادَيْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ اتَّخَذُوهَا هُزُوًا وَلَعِبًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَعْقِلُونَ
অর্থ: যখন আপনারা সম্মানিত ছলাত উনার দিকে আহ্বান করেন, তখন তারা সম্মানিত ছলাত উনাকে খেল-তামাশা হিসেবে গ্রহণ করে। একারণে যে, নিশ্চয়ই তারা এমন ক্বওম যাদের আক্বল নেই। (পবিত্র সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ৬১)
কাজেই যেই ইহুদীগুলো মহান আল্লাহ পাক উনাকে নিয়ে চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করেছে, উনার বিরোধীতা করেছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার কোশেশ করেছে, ৭০ হাজার হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বিনা কারণে অন্যায়ভাবে শহীদ করেছে এবং যখনই কোনো মুসলমানকে একাকী পেয়েছে উনাকে শহীদ করতে চেয়েছে, সেই ইহুদী ও তাদের সমগোত্রীয় কাফির-মুশরিকরা যে মুসলমানদের কতো বড় শত্রু সেটা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না।
সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا
অর্থ: অবশ্যই আপনি পাবেন মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে ইহুদী এবং মুশরিকদেরকে। (পবিত্র সূরা মায়িদাহ্ : আয়াত শরীফ ৮২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا بِطَانَةً مِنْ دُونِكُمْ لَا يَأْلُونَكُمْ خَبَالًا وَدُّوا مَاعَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ.هَاأَنْتُمْ أُولَاءِ تُحِبُّونَهُمْ وَلَا يُحِبُّونَكُمْ وَتُؤْمِنُونَ بِالْكِتَابِ كُلِّهِ وَإِذَا لَقُوكُمْ قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا عَضُّوا عَلَيْكُمُ الْأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ قُلْ مُوتُوا بِغَيْظِكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ. إِنْ تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوا بِهَا وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! আপনারা মুসলমানদেরকে ব্যতীত বিধর্মীদেরকে অর্থাৎ ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদেরকে ঘনিষ্ট বন্ধু,উপদেষ্টা, পরামর্শদাতা হিসেবে গ্রহণ করবেন না। কারণ তারা আপনাদের ক্ষতি করতে কোনো প্রকার ত্রুটি করে না। তারা চায় আপনাদের কষ্ট হোক। তাদের মুখ থেকেই (আপনাদের প্রতি কঠিন) বিদ্বেষ প্রকাশ পায়। আর তাদের অন্তরে যা গোপন রয়েছে তা আরো ভয়ঙ্কর, কঠিন। আমি আপনাদের জন্য নিদর্শন মুবারকসমূহ বা সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ বর্ণনা করলাম যদি আপনারা তা বুঝতে পারেন, উপলব্ধি করতে পারেন। আপনারাই তো ঐ সমস্ত লোক আপনারা তাদেরকে মুহব্বত করেন, তারা (কিন্তু) আপনাদেরকে মুহব্বত করে না। আপনারা সমস্ত কিতাব বিশ্বাস করেন। (তারা কিন্তু আপনাদের কিতাব মুবারক বিশ্বাস করে না।) আর যখন তারা আপনাদের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন তারা বলে আমরা ঈমান এনেছি, (আমরা আপনাদেরকে নিরাপত্তা দিবো, আপনাদের উপকার করবো ইত্যাদি ইত্যাদি)। আর যখন তারা নিরিবিলি একাকী হয়, আপনাদের প্রতি রাগে-গোস্বায় তাদের আঙ্গুলসমূহ কামড়াতে থাকে। (কেনো মুসলমানদের কোনো ক্ষতি করা গেলো না।) বলুন, ‘তোমরা তোমাদের গোস্বায় মারা যাও।’ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্তরের অন্তস্থলের বিষয়ও জানেন। যদি আপনাদের নিকট কোনো কল্যাণ বা খাইর বরকত পৌঁছে, তখন তারা কষ্টপায়। অর্থাৎ যদি আপনাদের কোনো কল্যান বা উন্নতি হয়, তখন তারা কষ্ট পায়। আর যদি আপনাদের কেনো বালা-মুছীবত হয়, তখন তারা খুশি হয়। যদি আপনারা ধৈর্য্য ধারণ করেন, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উপর ইস্তিক্বামত থাকতে পারেন এবং তাকওয়া অবলম্বন করেন, তাহলে তাদের কোনো ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত আপনাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তারা যা আমল করে নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তা বেষ্টন করে রেখেছেন। (পবিত্র সূরা আল ইমরান : আয়াত শরীফ ১১৮-১২০)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৪)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৮)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৬)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












