মুসলমানদের জন্য অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়া, শুভেচ্ছা জানানো, সাহায্য সহযোগিতা করা সম্পূর্ণরূপে নিষেধ ও ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ (৩)
, ২৮ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২১ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ০৫ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
অমুসলিমদের গির্জা, মন্দির ইত্যাদি পাহারা দেয়া মুসলমানদের জন্য নিষেধ ও ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ :
সম্মানিত দ্বীন ইসলামে নেকী ও পরহেজগারীর কাজে সহযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে এবং গুনাহ ও শত্রুতার কাজে সহযোগিতা করতে নিষেধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
تَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
অর্থ: তোমরা পরস্পর নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করো। আর গুনাহ ও শত্রুতার কাজে সহযোগিতা করো না। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো, তিনি কঠিন শাস্তিদাতা। (পবিত্র সূরা মায়িদাহ : আয়াত শরীফ ২)
মন্দির হোক আর গির্জা হোক অথবা অমুসলিমদের যে কোনো উপাসনালয় হোক সেখানে কোনো নেক কাজ করা হয়না। সেখানে সর্বদাই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের নাফরমানী করা হয়, উনাদের বিরোধিতা করা হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি মুশরিকদের সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সাথে কাউকে শরিক করলে তাকে ক্ষমা করবেন না। এছাড়া অন্যান্য গুনাহ তিনি চাইলে ক্ষমা করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কাউকে শরীক করলো; সে মূলত উনার প্রতি অপবাদ দিলো, কঠিন গুনাহ অর্জন করলো। নাঊযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৮)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
অর্থ: তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শিরক করো না। নিশ্চয়ই শিরক অত্যন্ত কঠিন অপরাধ। (পবিত্র সূরা লুক্বমান : আয়াত শরীফ ১৩)
কিন্তু মুশরিকরা এই কাজটাই করে থাকে। তারা সর্বদা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শিরক করে। তাহলে একজন মুসলমান কি করে এই মন্দির পাহারা দিতে পারে? তাদের পূজার ম-প পাহারা দিতে পারে? আবার পাহারা দেয়ার পর তওবা না করে সেটা আনন্দের সাথে প্রচার করতে পারে? এরপরেও কি তারা মুসলমান থাকতে পারে? মোটেও না।
পবিত্র কুরআন শরীফে কোনো স্থানে মহান আল্লাহ পাক উনার আয়াত শরীফ বা নিদর্শন মুবারক উনাকে অস্বীকার করতে বা নিদর্শন মুবারক নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে দেখলে সে স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সে মুনাফিক্ব হিসেবে সাব্যস্ত হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آَيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا
অর্থ: আর নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি কিতাবে নাযিল করে দিয়েছেন যে, যখন তোমরা শুনবে (কোনো স্থানে বা মজলিসে) মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আয়াতসমূহ অস্বীকার করা হচ্ছে ও সেগুলোকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হচ্ছে তখন তোমরা তাদের সঙ্গে বসে থেকো না, যে পর্যন্ত না তারা অন্য কোনো প্রসঙ্গে যায় (বা এটা থেকে বিরত থাকে), (যদি তোমরা সেখানে বসে থাকো) নিঃসন্দেহে তোমরাও তাদের মতোই হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি মুনাফিক ও কাফিরদেরকে সম্মিলিতভাবে জাহান্নামে একত্রিত করবেন। (পবিত্র সূরা নিসা : আয়াত শরীফ ১৪০)
প্রশ্ন হচ্ছে, কাফিরদের উপাসনালয়ে কি মহান আল্লাহ পাক উনার ফরমাবরদারী করা হয় নাকি নাফরমানী করা হয়? জবাব হচ্ছে, অবশ্যই নাফরমানী করা হয়। আর মহান আল্লাহ পাক উনার সবচেয়ে বড় নিদর্শন মুবারক হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। আর এই কাফিররা সেখানে বসে সবসময় পরিকল্পনা করে কিভাবে উনাকে কষ্ট দেয়া যায়, উনার মানহানী করা যায়। নাঊযুবিল্লাহ!
তাহলে তাদের এইসব উপাসনালয়ে বা অনুষ্ঠানে কিভাবে একজন মুসলমান যেতে পারে? এবং সেটা পাহারা দেয়ার দায়িত্ব নিতে পারে?
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












