মুসলমানগণ কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ঐক্যবদ্ধ হবেন (৫)
, ১১ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلنَّبِـىُّ اَوْلـٰى بِالْمُؤْمِنِيْـنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিন উনাদের নিকট উনাদের জানের চেয়েও অধিক প্রিয়। (পবিত্র সূরা আহযাব: আয়াত শরীফ ৬)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهَ وَسَلَّمَ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَّالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ
অর্থ: খাদিমু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের কেউই ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তোমাদের নিকট তোমাদের সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা এবং অন্য সমস্ত লোকদের চেয়ে অধিক প্রিয় না হবো। (বুখারী শরীফ: হাদীছ শরীফ ১৫, মুসলিম শরীফ: হাদীছ শরীফ ১৭৮, মুসনাদে আহমদ, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ইত্যাদি)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে- নিজের মাল-সম্পদ ও জান থেকেও বেশি মুহব্বত করতে হবে। মূল কথা হচ্ছে, একজন ব্যক্তিকে তার সমস্ত কিছু- অর্থাৎ পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়-স্বজন, সমস্ত মানুষ, নিজের ধন-সম্পদ এমনকি নিজের জান থেকেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেশি মুহব্বত করতে হবে। অন্যথায় কস্মিনকালেও কেউ ঈমানদার হতে পারবে না।
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফে কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতের কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করার কথা। তাহলে বুঝা যাচ্ছে তিনিই মূল। মূলত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করলেই মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করা হয়ে যায়। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করলে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হন মহান আল্লাহ পাক তিনি। সুবহানাল্লাহ!
বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে নিম্নোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ দ্বারা-
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيْ يُفْتَتَنُ أَهْلُ الْقُبُوْرِ وَفِيَّ نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ يُثَبِّتُ اللهُ الَّذِيْنَ آمَنُوْا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে দিয়ে কবরবাসীকে পরীক্ষা করা হবে। আর আমার ব্যাপারেই এই পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে- ‘যারা ঈমান এনেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে (ইহকাল ও পরকালে) মজবুত কথা দিয়ে শক্তি যোগাবেন। সুবহানাল্লাহ! (ইছবাতু আযাবিল কবর ৩২ পৃষ্ঠা)
হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِيْ قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُوْلَانِ مَا كُنْتَ تَقُوْلُ فِي الرَّجُلِ لِسَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُوْلُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللهِ وَرَسُوْلُهُ فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنَ الْجَنَّةِ فَيَرَاهُمَا جَمِيْعًا قَالَ حَضْرَتْ قَتَادَةُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَذُكِرَ لَنَا أَنَّهُ يُفْسَحُ فِيْ قَبْرِهِ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى حَدِيْثِ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ
অর্থ: কোনো বান্দাকে কবরে রেখে যখন তার সঙ্গীরা চলে আসে, তখন সে তার সঙ্গীদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। অতঃপর তার কাছে দুজন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনারা এসে তাকে বসান। অতঃপর জিজ্ঞাসা করেন, ‘এই মহান ব্যক্তিত্ব মুবারক অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে (দুনিয়ায় থাকতে) তুমি কি বলতে?’
মু’মিন ব্যক্তি বলবে, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তখন তাকে বলা হবে, ‘জাহান্নামে তোমার আসনটির দিকে তাকাও। মহান আল্লাহ পাক তিনি এটিকে জান্নাতে প্রতিস্থাপন করে দিয়েছেন। সে উভয়টিই দেখতে পাবে।’ (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিজাতীয় বিধর্মী তথা ইহুদী-নাছারাদেরকে অনুসরণ করা ইসলামী শরীয়তে হারাম-নাজায়িয
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৯তম পর্ব)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মক্কা চুক্তি, ইরানের উত্থান ও বাংলাদেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ (পর্ব-২)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমানদের ভালো কিছু দেখলে কাফিররা কখনই খুশি হয় না
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (৩)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (২)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মক্কা চুক্তি, ইরানের উত্থান ও বাংলাদেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ (পর্ব-১)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












