সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
মিথ্যা সমস্ত পাপের মূল (৩)
, ০৬ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৮ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১২ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহিলাদের পাতা
বলার অপেক্ষা রাখে না, একমাত্র জবানকে নিয়ন্ত্রনে রাখার মাধ্যমেই মিথ্যা কথা বর্জন করা সম্ভব। কেননা ভাল-মন্দ, সত্য-মিথ্যা সমস্ত কথাই জবান দ্বারা প্রকাশ পায়। এ কারণে অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যবানকে নিয়ন্ত্রনে রাখার নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। যেমন: পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَا النَّجَاةُ ؟ قَالَ : أَمْسِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ، وَابْكِ عَلٰى خَطِيئَتِكَ (الترمذي)
অর্থ: হযরত উকবা ইবনে আমের রদি¦য়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, একবার তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাত মুবারক করলেন এবং উনাকে জিজ্ঞাস করলেন, কোন জিনিস নাজাত দেয়? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমার জন্য আবশ্যক হল তোমার জবানকে নিয়ন্ত্রনে রাখা/অধিনে রাখা ও তুমি ঘরে থাকার জন্য চেষ্টা কর এবং তোমার গুনাহর জন্য কাঁদো। (তিরমিযী শরীফ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে,
عَنْ حَضْرَتْ أَبي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا أَصْبَحَ اِبْنُ آدَمَ، فَإنَّ الْأَعْضَاءَ كُلَّهَا تُكَفِّرُ اللِّسَانَ، فَتَقُوْلُ: اِتَّقِ اللهَ فِيْنَا، فَإنَّمَا نَحْنُ بِكَ؛ فَإنِ اسْتَقَمْتَ اِسْتَقَمْنَا، وَإِنِ اعْوَجَجْتَ اِعْوَجَجْنَا. (رواه الترمذي)
অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদি¦য়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “বান্দা যখন ভোরে ঘুম থেকে উঠে তখন তার প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিহ্বাকে বিনয়ের সাথে বলে, আমাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় কর, কেননা আমরা তোমার সাথে জড়িত বা সংযুক্ত। যদি তুমি ঠিক থাক আমরাও ঠিক থাকব। আর যদি তুমি বাঁকা হও তাহলে আমরাও বাঁকা হব। (তিরমিযী শরীফ)
আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الثَّقَفِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَخْوَفُ مَا تَخَافُ عَلَيَّ فَأَخَذَ بِلِسَانِ نَفْسِهٖ، ثُمَّ قَالَ: هٰذَا
অর্থ: হযরত সুফিয়ান ইবনে আবদুল্লাহ ছাকাফী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি বললাম,ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর কোন বিষয়টি? তখন তিনি উনার পবিত্র জবান মুবারক উনাকে ধরে বললেন, এটা। (তিরমিযী শরীফ)
হযরত মুয়ায বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন-
قَالَ: أَلَا أُخْبِرُكَ بِمِلَاكِ ذٰلِكَ كُلِّهٖ؟ قُلْتُ بَلٰى يَا نَبِيَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخَذَ بِلِسَانِهٖ فَقَالَ: كَفِّ عَلَيْكَ هٰذَا فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُوْنَ بِمَا نَتَكلَّمُ بِهٖ قَالَ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ وَهَلْ يُكَبُّ النَّاسُ فِي النَّارِ عَلٰى وُجُوْهِهِمْ أَوْ عَلٰى مَنَاخِرِهِمْ اِلَّا حَصَائِدَ اَلْسِنَتِهِمْ. (رواه احمد والترمذى وابن ماجه)
অর্থ: নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “আমি কি আপনাকে এ সমস্ত বিষয়ের (দ্বীন উনার) মূল কি, সে বিষয়ে সংবাদ দিবো না? আমি বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই আয় মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তখন তিনি (নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার জবান মুবারক ধরলেন এবং বললেন, আপনার এই জবানকে সংযত রাখুন। তখন হযরত মুয়ায বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, এই জবান দ্বারা আমরা যা কিছু বলি, এর জন্য আমরা অবশ্যই পাকড়াও হয়ে যাবো। নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনার মা আপনাকে হারাক, হে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! মানুষকে জাহান্নামে তাদের চেহারার উপর অথবা নাকের উপর উপুড় করে ফেলা হবে তাদের জবানের অসংযত কথা-বর্তার কারণে। নাঊযুবিল্লাহ! (তিরমিযী, ইবনে মাযাহ্, আহমদ শরীফ)
স্বরণীয় যে, মানুষ মিথ্যার কুফল জানার পরও জবানকে সংযত বা নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেনা, তার একমাত্র কারণ হল শয়তান এবং নফসের ওয়াসওয়াসা। প্রকৃতপক্ষে এই শয়তান এবং নফসের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকার জন্য পুরুষ মহিলা প্রত্যেকের জন্য ফরজ-ওয়াজিব হচ্ছে হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করত উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করত উনাদের নির্দেশ অনুযায়ী যিকির-ফিকির করা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২১)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ১০ মুহররমুল হারাম শরীফ দিনটিতে ভালো খাওয়া-পরার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, তাহলে সারা বছর স্বচ্ছলতা লাভ করতে পারবেন
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












