মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (৬)
, ২৮ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
মহিলাদের জন্য মোটা কাপড়ের ক্বমীছ পরিধান করাই সুন্নত :
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت دِحْيَةَ بْنِ خَلِيفَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبَاطِيَّ فَأَعْطَانِي مِنْهَا قُبْطِيَّةً فَقَالَ اصْدَعْهَا صَدْعَيْنِ فَاقْطَعْ أَحَدَهُمَا قَمِيصًا وَأَعْطِ الْآخَرَ امْرَأَتَكَ تَخْتَمِرُ بِهٖ فَلَمَّا أَدْبَرَ قَالَ وَأْمُرِ امْرَأَتَكَ أَنْ تَجْعَلَ تَحْتَهُ ثَوْبًا لَا يَصِفُهَا-
অর্থ: হযরত দিহইয়া ইবনে খলীফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে মিশরের তৈরী অনেকগুলি কাপড় নিয়ে আসা হলো। তিনি আমাকে একটি কাপড় হাদিয়া মুবারক করে বলেন যে, উক্ত কাপড়কে দু’টুকরা করে এক টুকরা দ্বারা আপনার আহলিয়ার জন্য ক্বমীছ তৈরী করুন, আর অন্য টুকরার দ্বারা ওড়না তৈরী করুন। যখন তিনি বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন, তখন তিনি পুনরায় নির্দেশ দিলেন যে, আপনার আহলিয়াকে বলবেন তিনি যেন উক্ত ক্বমীছের নীচে অতিরিক্ত পোশাক (সেমিজ) পরিধান করে নেন, যাতে শরীরের গঠন অনুভব করা না যায়। (আবূ দাঊদ শরীফ, কানযুল উম্মাল শরীফ, আল-হাকিম-৪/১৮৭, বাইহাক্বী শরীফ-২/২৩৪, তুহফাতুল আবরার শারহু মাছাবীহিস সুন্নাহ-৩/১৪৮, মায়ালিমুস-সুনান-৪/২০০, মিরকাতুল মাফাতীহি শারহু মিশকাতিল মাছাবীহ-৭/২৭৯০)
মহিলাদের জন্য লাল, হলুদ, সবুজ, রেশমীসহ যে কোন রংয়ের সৌন্দর্যম-িত ক্বমীছ বা জামা পরিধান করা সুন্নত :
عَنْ حَضْرَتْ عَبْد اللهِ بْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَنْهَى النِّسَاءَ فِي إِحْرَامِهِنَّ عَنِ الْقُفَّازَيْنِ وَالنِّقَابِ وَمَا مَسَّ الْوَرْسُ وَالزَّعْفَرَانُ مِنَ الثِّيَابِ وَلْتَلْبَسْ بَعْدَ ذَاكَ مَا أَحَبَّتْ مِنْ أَلْوَانِ الثِّيَابِ مِنْ مُعَصْفَرٍ أَوْ خَزٍّ أَوْ حُلِيٍّ أَوْ سَرَاوِيلَ أَوْ خُفٍّ أَوْ قَمِيصٍ-
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নিশ্চয়ই তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছেন যে, মহিলাগণকে তিনি ইহরাম অবস্থায় হাত-মোজা, পা-মোজা, মুখমন্ডলে নিক্বাব এবং হলুদ ও লাল রংয়ের পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। ইহরাম ছাড়া হলুদ, রেশমী, অলংকার, সেলোয়ার, মোজা, ক্বমীছসহ অন্য যে কোন রংয়ের পোশাক পরিধান করতে পারবে। (আবূ-দাউদ, সুনানুল কুবরা লিল-বাইহাক্বী-৫/৮৩, মা’রিফাতুস সুনানি ওয়াল আছার-৭/১৪১, আল-মুসতাদরাক আলাছ-ছহীহাইন-১/৬৬১)
عَنْ حَضْرَتْ عَبْد اللَّهِ بْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَنْهَى النِّسَاءَ فِي إِحْرَامِهِنَّ عَنِ الْقُفَّازَيْنِ وَالنِّقَابِ وَمَا مَسَّ الْوَرْسُ وَالزَّعْفَرَانُ مِنَ الثِّيَابِ وَلْتَلْبَسْ بَعْدَ ذَاكَ مَا أَحَبَّتْ مِنْ أَلْوَانِ الثِّيَابِ-
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তিনি বলতে শুনেছেন যে, মহিলাগণকে তিনি ইহরাম অবস্থায় হাত-মোজা, পা-মোজা, মুখমন্ডলে নিক্বাব এবং হলুদ ও লাল রংয়ের পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। ইহরাম ছাড়া হলুদ, রেশমীসহ অন্য যে কোন রংয়ের পোশাক পরিধান করতে পারবে। (কানযুল উম্মাল-৫/১২১, ফতহুল বারী লি-ইবনি হাজার-৪/৫৩, যখীরাতুল উক্ববা ফী শারহিল মুস্তফা-২৪/৬৯, শরহুয যাকানী আলাল মুয়াত্ত্বা-২/৩৪৯)
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ رَأَيْتُ عَلَى النُّوْرِ الاُولٰي بِنْتِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَمِيصًا سِيَرَاءَ حَرِيرًا-
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে হলুদ রংয়ের লম্বা রেখা বিশিষ্ট রেশমী কাপড়ের ক্বমীছ পরিধান করতে দেখেছি। (মুসনাদে আবূ ইয়া’লা আল-মূসিলী-৬/২৭৭)।
-আল্লামা মুহম্মদ মুফিদুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক: ইলিম হাছিল করতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য (৩)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তালাকদাতা ও তালাকপ্রার্থিনী উভয়ের জন্য রয়েছে অসন্তুষ্টি (৩)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হাক্বীক্বী পর্দা না করার কারণেই মহিলারা লাঞ্ছিত হয়, কষ্ট পায়
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












