সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
শাহিদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পর্ব-২)
, ১৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم اِنَّ الْعَبْدَ اِذَا وُضِعَ فِىْ قَبْرِه وَتَوَلّى عَنْهُ اَصْحَابُه اَنَّه لَيُسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ اَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعَدَانِه فَيَقُوْلَانِ مَاكُنْتَ تَقُوْلُ فِىْ هذَا الرَّجُلِ لِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَاَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُوْلُ اَشْهَدُ اَنَّه عَبْدُ اللهِ وَرَسُوْلَه فَيُقَالُ لَه اُنْظُرْ اِلى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ اَبْدَلَكَ اللهُ بِه مَقْعَدًا مِنَ الْجَنَّةِ فَيَرَاهُمَا جَمِيْعًا وَاَمَّا الْمُنَافِقُ وَالكَافِرُ فَيُقَالُ لَه مَاكُنْتَ تَقُوْلُ فِىْ هذَا الرَّجُلِ فَيَقُوْلُ فَيَقُوْلُ لَا اَدْرِىْ كُنْتُ اَقُوْلُ مَا يَقُوْلُ النَّاسُ فَيُقَالُ لَه لَا دَرَيْتَ لَا تَلَيْتَ وَ يُضْرَبُ بِمَطَارِقَ مِنْ حَدِيْدٍ ضَرْبَةً فَيَصِيْحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مِنْ يَلِيْهِ غَيْرَ الثَقَلَيْنِ. ( متفق عليه)
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন মৃত বান্দাকে কবরে রাখা হয় এবং তার সঙ্গী-সাথীরা সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে তখন সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। ঠিক সেই সময় দু’জন ফেরেশতা আসেন এবং তাকে উঠিয়ে বসান। অতঃপর উনারা বলেন, তোমরা দুনিয়াতে অবস্থান কালীন সময়ে (শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করতে? তখন মু’মিন বান্দা বলেন, সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, উনি মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তখন উনাকে বলা হবে, আপনি আপনার জাহান্নামের স্থানটি দেখে নিন। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার সেই স্থানকে জান্নাত উনার স্থান দ্বারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তখন সে উভয় স্থানই দেখতে পায়। কিন্তু যখন মুনাফিক এবং কাফির তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাস করা হবে, দুনিয়াতে তুমি উনার ব্যাপারে কি ধারণা পোষণ করতে? তখন সে বলে, আমি কিছুই জানি না। তবে লোকজন উনার ব্যাপারে যে মন্তব্য করত আমিও অনুরূপ করতাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি নিজে বুদ্ধি-বিবেক দিয়েও বুঝার চেষ্টা করনি এবং মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব পাঠ করে তা জানার চেষ্টা করনি? অতঃপর তাকে লোহার হাতুড়ি দ্বারা কঠোরভাবে আঘাত করা হবে। যার ফলে সে বিকটভাবে চিৎকার করতে থাকবে। তার চিৎকার জ্বীন-ইনসান ব্যতীত সকলেই শুনতে পাবে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
উপরোক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, প্রত্যেক কবরে শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখিয়ে সুওয়াল করা হয়। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক উনার থেকে আমরা যা বুঝতে পেরেছি তা হলো- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে একই দিনে, একই সময়ে একাধিক ব্যক্তিকে দাফন করা হয় এবং একই সময়ে একাধিক ব্যক্তির কবরে শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখানো হয়ে থাকে। উনি যদি শাহিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হাযির-নাযির ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম না হতেন তাহলে একই সময়ে প্রত্যেকে কিভাবে উনাকে দেখে থাকে? বিষয়টি ফিকির করলে সহজেই উপলব্ধি করা সম্ভব।
মহান আল্লাহ পাক উনাকে বান্দা দেখুক বা না দেখুক তিনি অবশ্যই সর্বত্র বিরাজমান এবং সমস্ত কিছু দেখেন। তদ্রুপ শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উম্মত দেখুক বা না দেখুক অবশ্যই তিনি সর্বত্র বিরাজমান তথা হাজির-নাযির। মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার বান্দার মাঝে ৭০ হাজার পর্দা থাকার কারণে বান্দা মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখতে পায় না। ঠিক তদ্রুপ শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে এবং উম্মতের মাঝে ৭০ হাজার পর্দা থাকার কারণে উম্মত উনাকে দেখতে পায় না। সুবহানাল্লাহ!
মেছাল স্বরূপ বলা যায় যে, আসমানে যখন চাঁদ উঠে তখন তা পৃথিবীর যে কোন স্থান থেকে যে কেউ দেখতে পায়। অথচ চাঁদ হল শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলাম। কেননা শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন চাঁদকে দ্বিখন্ডিত হওয়ার জন্য সম্মানিত নুরুশ শক্ব (আঙ্গুল মুবারক) দ্বারা ইশারা করলেন। তখন চাঁদ সাথে সাথে দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়। এখন কেউ যদি দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরে বসে থাকে তাহলে সে কখনোই চাঁদ দেখতে পারবে না। আর চাঁদ না দেখে সে যদি বলে, আকাশে চাঁদ উঠেনি তাহলে তার এই কথা কখনোই গ্রহনযোগ্য হবে না।
কাজেই দরজা-জানালা খোলা রাখার দ্বারা যেমন চাঁদ দেখা সম্ভব। তদ্রুপ শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার উম্মতের মাঝে যে পর্দা রয়েছে তা উন্মোচন করার মাধ্যমেই উনাকে দেখা সম্ভব। সেই পর্দাগুলো উন্মোচিত হয়ে যায় যিকির করার দ্বারা অন্তর পরিশুদ্ধ করত: তায়াল্লুক নিসবত হাসিল করার মাধ্যমে। সুবহানাল্লাহ!
মূলত শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাযির-নাযির ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে বিশ্বাস করাই হচ্ছে বিশুদ্ধ আক্বীদা আর যারা এর খিলাফ আক্বীদা পোষণ করবে তারাই পথভ্রষ্ট।
(সংকলনে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা শাখা)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (৩)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল বিপদ-আপদে মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই স্বরণ; এবং তাতেই মুক্তি
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












