মহিলাদের পাতা
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ। খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (১১)
, ১২ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১২ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ১১ মে, ২০২৫ খ্রি:, ২৮ বৈশাখ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
পবিত্র ক্বুরআন শরীফ থেকে মুখ ঢেকে পর্দা করার ৪র্থ দলীল :
فَجَاءَتْهُ إِحْدَاهُمَا تَمْشِي عَلٰى اسْتِحْيَاءٍ
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারাও মহিলাদের চেহারাসহ সমস্ত শরীর পর্দায় আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরয প্রমাণিত
যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَجَاءَتْهُ إِحْدَاهُمَا تَمْشِي عَلٰى اسْتِحْيَاءٍ إِنَّ أَبِي يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا -
অর্থ: দু’জন মেয়ের একজন হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকটে অত্যান্ত লজ্জা জড়িত ক্বদমে আগমণ করে বললেন, আমাদের পশুগুলিকে পানি পান করানোর পারিশ্রমিক দেয়ার জন্য আমাদের পিতা আপনাকে ডাকছেন। (পবিত্র সূরা ক্বাছাছ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-২৫)
উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت فَارُوْق اَعْظَم عَلَيْهِ السَّلَام....... قَالَ: فَجَاءَتْهُ إِحْدَاهُمَا تَمْشِي عَلَى اسْتِحْيَاءٍ- وَاضِعَةً ثَوْبَهَا عَلَى وَجْهِهَا إِنَّ أَبِي يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا-
অর্থ: হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, ............মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- (হযরত শু‘য়াইব আলাইহিস সালাম উনার) উক্ত দু’জন মেয়ের একজন হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকটে অত্যান্ত লজ্জা জড়িত ক্বদমে আগমণ করে বললেন অর্থাৎ পরিহিত কাপড় দিয়ে চেহারা মুবারক ঢেকে লজ্জাজড়িত ক্বদমে আগমণ করে বললেন, আমাদের পশুগুলিকে পানি পান করানোর পারিশ্রমিক দেয়ার জন্য আমাদের পিতা আপনাকে ডাকছেন। (কানযুল উম্মাল- ২/৪৭৭, মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-৬/৩৩৪, আল-হিযাবু ফীল মীযান- ৯ পৃষ্ঠা)
পবিত্র ক্বুরআন শরীফ থেকে মুখ ঢেকে পর্দা করার ৫ম দলীল :
وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা খোলা রেখে বের হওয়ার অর্থ করা নিয়ে বিভ্রান্তির সঠিক জাওয়াব
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا
অর্থ: তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তবে যা প্রকাশ হয়ে পরে, তা ছাড়া।
উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ খানা পবিত্র সূরা নূর শরীফ উনার পরিপূর্ণ আয়াত শরীফ নয় বরং একটি আয়াত শরীফ উনার আংশিক। পরিপূর্ণ আয়াত শরীফসমূহ হলো-
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ -وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُوْلِي الإرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاء وَلا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ-
অর্থ: আপনি মুমিনগণকে বলে দিন, তারা যেন পরনারী থেকে তাদের দৃষ্টিকে নি¤œগামীকরে এবং তাদের সতরকে হিফাযত করে। এটা তাদের জন্য অধিক পবিত্রতার কারণ। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহপাক তিনি সব বিষয়ে জ্ঞাত, যা তোমরা করো। আর মুমিনা মেয়েদেরকে বলে দিন, তারা যেন পর পুরুষ থেকে তাদের দৃষ্টিকে নি¤œগামীকরে ও তাদের সতরকে হিফাযত করে। এবং তারা যেন পর পুরুষের সামনে তাদের সৌন্দর্যকে প্রকাশ না করে। তবে যা (অনিচ্ছাকৃত) প্রকাশ হয়ে পরে তা ব্যতিত। তারা যেন তাদের গলা ও বক্ষদেশকে ওড়না দ্বারা ঢেকে নেয়। তারা যেন তাদের আহাল, পিতা, শশুর, পুত্র, আহালের পুত্র, আপন ভাই, ভাইয়ের পুত্র, বোনের পুত্র, তাদের নারীগণ, নিজ মালিকানাধীন দাস, কামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীগণের গোপন বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ এমন বালক ছাড়া কোন পর পুরুষের নিকট তাদের সৌন্দর্যকে প্রকাশ না করে। তারা যেন সজোরে পদক্ষেপ না করে, যাতে তাদের গোপন অলংকারের শব্দ প্রকাশ পেয়ে যায়। হে ঈমানদারগণ! তোমরা সকলেই খালিছ তাওবা করে মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো, তাহলে তোমরা কামিয়াবী হাছিল করতে পারবে। (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ৩০, ৩১)
-মুহম্মদ মুফীদ্বুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (৩)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল বিপদ-আপদে মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই স্বরণ; এবং তাতেই মুক্তি
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শাহিদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












