মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ফলমূল খাওয়া-১
, ০৬ শা’বান শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২৯ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন , ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
ফলমূল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যে খুবই উপকারী। ফলমূলের কথা শুনলে আমাদের জিহ্বায় পানি না আসলেও খেতে অবশ্যই ইচ্ছা করবে। বাসা-বাড়িতে কোন অনুষ্ঠান হলে সেখানে ফলমূলতো অবশ্যই থাকবে। আমরা যখন কারো বাসায় বেড়াতে যাই তখনও সেখানে কোননা কোন ফলমূল নিয়েই যাই। দুনিয়াতে এমন কোন মানুষ পাওয়া যাবে না যার পছন্দের খাবারের মধ্যে ফলমূল নেই। এমনকি পৃথিবীতে এমনও অনেক জায়গা আছে যেখানকার অধিবাসীদের প্রধান খাবারই হচ্ছে ফলমূল। তাই আমাদের পছন্দের খাবারের সাথে ফলমূল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর তাতো হবেই কারণ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে ফল গ্রহণ (আহার মুবারক) করেছেন এবং তিনি অত্যন্ত পছন্দ মুবারক করতেন। এমনকি তিনি হযরত ছাহবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকেও ফল খাওয়ার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। অর্থাৎ ফল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক।
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনিও ফল খাওয়ার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
كُلُوْا مِنْ ثَمَرِهٖ اِذَا اَثْمَرَ وَاٰتُوْا حَقَّهٗ يَوْمَ حَصَادِهٖ وَلَا تُسْرِفُوْا اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِيْنَ ﴿١٤١﴾
অর্থ: “যখন বৃক্ষ ফলবান হয় তখন তোমরা ফল ভক্ষণ করো। এবং ফল-ফসল কাটার সময় তার হক (উশর) আদায় করো। এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনআম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪১)
আর ফলমূল নিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حضرت أَبِي هُرَيْرَةَ رضى الله عنه قَالَ كَانَ النَّاسُ إِذَا رَأَوْا أَوَّلَ الثَّمَرِ جَاءُوا بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا أَخَذَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثِمَارِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَمُدِّنَا .
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত ছাহবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা (উনাদের বাগানে) সর্বপ্রথম পাকা ফল দেখলে তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট (হাদিয়া মুবারক স্বরূপ) নিয়ে আসতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফলটি নিজ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরত মুবারকে (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাত মুবারকে) নিয়ে ইরশাদ মুবারক করতেন, আয় বারে ইলাহী! আমাদের ফলমূলে আমাদেরকে বরকত দিন, আমাদের শহরে আমাদেরকে বরকত দান করুন এবং আমাদের ছা’ ও মুদে অর্থাৎ পরিমাপের পাত্রে আমাদেরকে বরকত দান করুন। (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মুসলিম শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـيْ ذَرّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ كُلُوا التِّينَ فَلَوْ قُلْتُ إِنَّ فاكِهَةً نَزَلَتْ مِنَ الجَنّةِ بِلاَ عَجمٍ لَقُلْتُ هِيَ التِّينُ وَإِنَّهُ يَذْهَبُ بِالْبَوَاسِيرِ وَيَنْفَعُ مِنَ النِّقْرِسِ.
অর্থ: “হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে তীন ফল (ডুমুর ফল) নিয়ে আসেন। তখন তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের খাওয়ার জন্য দিলেন এবং নিজেও গ্রহণ (আহার মুবারক) করলেন এবং ইরশাদ মুবারক করলেন, যদি জান্নাত থেকে কোন ফল যমীনে এসে থাকে তবে সেটা তীন (ডুমুর) ফল। কারণ জান্নাতের ফল হবে বীজমুক্ত।” (জামিউছ ছগীর লিস সুয়ূতী; মুসনাদে ফিরদাঊস লি দায়লামী) (অসমাপ্ত)
মুহম্মদ ইমরান হুসাইন শাহী
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












