সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার আযওয়া খেজুর
, ১৯ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
আযওয়া খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক এবং আযওয়া খেজুরের মধ্যে বেমেছাল উপকার ও কার্যকারিতা রয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আযওয়া খেজুরের কার্যকারীতা সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَصَبَّحَ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعَ تَمَرَاتٍ عَجْوَةً لَمْ يَضُرُّهٗ فِي ذٰلِكَ الْيَوْمِ سُمٌّ وَلَا سِحْرٌ.
অর্থ: “হযরত ‘আমির ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আযওয়া খেজুর খাবে, সে দিন বিষ এবং জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। ” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ : কিতাবুত ত্বয়ামাহ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৫৪৪৫)
হৃদরোগে : হযরত সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন-
قَالَ مَرِضْتُ مَرَضًا أَتَانِى رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِى فَوَضَعَ يَدَهٗ بَيْنَ ثَدْيَيَّ حَتّٰى وَجَدْتُ بَرْدَهَا عَلٰى فُؤَادِى فَقَالَ إِنَّكَ رَجُلٌ مَفْئُوْدٌ ائتِ حَضْرَت الْحَارِثَ بْنَ كَلَدَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَخَا ثَقِيْفٍ فَإِنَّهٗ رَجْلٌ يَتَطَبَّبُ فَلْيَأْخُذْ سَبْعَ تَمَرَاتٍ مِنْ عَجْوَةِ الْمَدِينَةِ فَلْيَجَأْهُنَّ بِنَوَاهُنَّ ثُمَّ لِيَلُدَّكَ بِهِنَّ.
অর্থ: “একদা আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে দেখতে মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাহ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক) উনার শীতলতা আমার অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি হৃদরোগে আক্রান্ত। হযরত হারিস ইবনে কালাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি সাক্কিফী গোত্রের ভাই, উনার কাছে যান। কারণ তিনি একজন চিকিৎসক। তিনি যেন পবিত্র মদীনা শরীফ উনার সাতটি আযওয়া খেজুর নিয়ে বিচিসহ পিষে আপনার মুখে ঢেলে দেন। ” (আবূ দাউদ শরীফ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং : ৩৮৭৫)
বিষক্রিয়া বন্ধে : আজওয়া খেজুর বিষের কার্যক্ষমতা কমাতে বিশেষভাবে কার্যকর। এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعَجْوَةُ مِنَ الْجَنَّةِ وَفِيهَا شِفَاءٌ مِنَ السُّمِّ.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আযওয়া সম্মানিত জান্নাত উনার ফল। এর মধ্যে বিষের নিরাময় রয়েছে। ” (তিরমিযী শরীফ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ২০৬৬)
শক্তি বর্ধনে : আযওয়া খেজুর শারীরিক ও মানসিক শক্তিবর্ধক। খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য উপাদান যা শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধিসহ হজম শক্তি, শারীরিক শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে।
ডায়রিয়া বন্ধে : আযওয়া খেজুরে বিদ্যমান পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিংক ও অন্যান্য খনিজ লবণ ডায়রিয়া বন্ধে উপকারী। এটা খাদ্যশক্তি শারীরিক দুর্বলতা দূর করে। এ ছাড়াও খেজুরের বীজ ডায়রিয়া, আমাশয় বন্ধে কার্যকর।
ক্যান্সার নিরাময়ে : আযওয়া খেজুর মরনঘাতক ক্যান্সার নিরাময়ে অধিকতর সহায়ক। এছাড়া সাধারণ খেজুরেও রয়েছে ক্যালসিয়াম, সালফার, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ফলিক এসিড, আমিষ, শর্করাসহ রোগ নিরাময়ক অতীব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ।

-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












