সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালনের বেমেছাল দৃষ্টান্ত মুবারক (২)
, ২৮ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৫ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
খলীফায়ে ছানী, আমিরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ عَابِسِ بْنِ رَبِيْعَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَاَيْتُ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقَ الْاَعْظَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدَنَا حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) يُقَبِّلُ الْـحَجَرَ يَعْنِـى الْاَسْوَدَ وَيَقُوْلُ اِنِّـىْ اَعْلَمُ اَنَّكَ حَجَرٌ لَا تَنْفَعُ وَلَا تَضُرُّ وَلَوْلَا اَنِّـىْ رَاَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ
অর্থ: “হযরত আবিস ইবনে রবী’আহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে দেখেছি তিনি পবিত্র হাজরে আসওয়াদ মুবারক বূছা দিচ্ছেন আর বলছেন ‘আমি জানি নিঃসন্দেহে তুমি একটি পাথর। কোন অপকার করতে পারনা, কোন উপকারও করতে ক্ষমতা রাখ না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তোমায় বূছা মুবারক দিতে দেখেছি বলেই আজ আমি তোমাকে বূছা দিচ্ছি’। ” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযি শরীফ, নাসাঈ শরীফ, আত তারগীব ওয়াত তাহরীব : মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৪৪)
সাধারণত বলা হয় পবিত্র হাজরে আসওয়াদ মুবারক-এ বূছা দিলে সে মানুষের গুনাহসমূহ চুষে নেয়। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি শুধুমাত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার দিকে খেয়াল করেই পবিত্র হাজরে আসওয়াদ মুবারক-এ বূছা দিতেন। এখান থেকেই বুঝা যায় উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার কতটুকু ইত্তিবা মুবারক করতেন। সেটা বলার অপেক্ষাই রাখেনা। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন
উনার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে তেমনটিই দেখা যায়। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ مُـجَاهِدٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كُنَّا مَعَ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ فِـىْ سَفَرٍ فَمَرَّ بِـمَكَانٍ فَحَادَ عَنْهُ فَسُـئِلَ لِـمَ فَعَلْتَ فَقَالَ رَاَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ هٰذَا فَفَعَلْتُ
অর্থ: “হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কোন এক সফরে আমরা হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে ছিলাম। তিনি এক জায়গা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় তিনি একটু সরে গিয়ে উনার রাস্তা পরিবর্তন করলেন অর্থাৎ তিনি ডান দিক বা বাম দিক দিয়ে গেলেন। তখন উনাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কেন এমনটি করলেন? তিনি বললেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এরূপ করতে দেখেছি তাই আমিও উনার মুবারক অনুসরণে এরূপ করলাম। ” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ, ইবানাতুল কুবরা ১/২৪২, আত তারগীব ওয়াত তাহরীব ১/৪৩ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّهٗ كَانَ يَاْتِــىْ شَجَرَةً بَيْـنَ مَكَّةَ وَالْمَدِيْنَةِ فَيَقِيْلُ تَـحْتَهَا ويُـخْبِرُ اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُ ذٰلِكَ
অর্থ: “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের মাঝে অবস্থিত একটি বৃক্ষের নিকট যখন তিনি আসতেন, তখন তিনি ঐ বৃক্ষটির নীচে শুয়ে বিশ্রাম করতেন। আর বলতেন- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও এরূপ করতেন’। ” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে বাযযার ১২/২১৩, আত তারগীব ওয়াত তাহরীব ১/৪৩, আউনুল মা’বূদ ২/২৭৮, শরহে সুনানে ইবনে মাজাহ ১/২, হায়াতুছ ছাহাবা ৩/৮৭ ইত্যাদি)
(চলবে...)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (১)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












