মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিশমিশ
, ১৫ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০২ সাদিস ১৩৯১ শামসী সন , ৩১ অক্টোবর, ২০২৩ খ্রি:, ১৫ কার্তিক, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
কিশমিশ সম্পর্কে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে -
عَنْ حَضْرَتْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُنْفَعُ لَهُ الزَّيْبُ فَيَشْرَبُهُ الْيَوْمَ وَالْغَدَ وَبَعْدَ الْغَدِ إِلٰى مَسَاءِ الثَّالِثَةِ ثُمَّ يَأْمُرُ :فَيُسْقٰى أَوْ يُهْرَاقُ.
অর্থ: “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য কিশমিশ পানিতে ডুবিয়ে রাখা হতো। তিনি সেদিন, তার পরের দিন এবং তৃতীয় দিন বিকাল পর্যন্ত তা পান মুবারক করতেন। অতঃপর উনার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক-এ কোন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পান করানো হতো কিংবা ফেলে দেয়া হতো।” (মুসলিম শরীফ : কিতাবুশ শারাবাহ্ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৫১২৩)
কিশমিশের উপাদান :
এক গবেষাণায় জানা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম কিশমিশে রয়েছে
এনার্জি ৩০৪ কিলোক্যালরি,
কার্বোহাইড্রেট ৭৪.৬ গ্রাম,
ডায়েটরি ফাইবার ১.১ গ্রাম,
ফ্যাট ০.৩ গ্রাম,
প্রোটিন ১.৮ গ্রাম,
ক্যালসিয়াম ৮৭ মিলিগ্রাম,
আয়রন ৭.৭ মিলিগ্রাম,
পটাসিয়াম ৭৮ মিলিগ্রাম ও সোডিয়াম ২০.৪ মিলিগ্রাম।
এটি রক্তে শর্করার মাত্রায় ঝামেলা তৈরী করে না। এটি খেলে শরীরের রক্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়, পিত্ত ও বায়ুর সমস্যা দূর হয়। এটি হৃদপি-ের জন্যও অনেক উপকারী।
কিশমিশের উপকারিতা :
১. কিশমিশে রয়েছে চিনি, গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ, যা তাৎক্ষণিকভাবে দেহে এনার্জি সরবরাহ করে থাকে। তাই দুর্বলতার ক্ষেত্রে কিশমিশ খুবই উপকারি।
২. কিশমিশে রয়েছে ওলিনোলিক অ্যাসিড, যা মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দিয়ে দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা করে।
৩. কিশমিশে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং বোরন নামক মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস। ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত করে এবং বোরন হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।
৪. কিশমিশের পলিফেনলস এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফেমেটরী উপাদান কাটা-ছেড়া বা ক্ষত হতে ইনফেকশন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
৫. কিশমিশে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলিক অ্যাসিড, যা ক্যান্সার মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
৬. কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা পরিপাকক্রিয়া দ্রুত হতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।
৭. কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লৌহ উপাদান। যা অবসাদ ও শারীরিক দুর্বলতা দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।
৮. কিশমিশে রয়েছে ব্যাকটেরিয়ারোধী, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফলে এটা ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জ্বর নিরাময় করতে সাহায্য করে।
৯. কিশমিশে রয়েছে ভিটামিন এ, এ-বিটা ক্যারোটিন এবং এ- ক্যারোটিনয়েড। যা চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে।
১০. কিশমিশ শরীরে পটাশিয়াম বাড়িয়ে এবং সোডিয়াম কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া, কিশমিশ খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, অনিদ্রা দূর করে, এসিডিটি কমায়, ওজন বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের জন্য উপকারি।
কিশমিশ খাওয়ার নিয়ম :
১৫০ গ্রাম কিশমিশ ভালো করে ধুয়ে ১ গ্লাস পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। পরেরদিন সকালে কিশমিশ ছেকে নিয়ে সেই পানি হালকা গরম করে খালি পেটে খেয়ে নিন। এর পরে আধ ঘণ্টা আর অন্য কোনও খাবার খাওয়া চলবে না। সপ্তাহে কমপক্ষে চারদিন এই পানি খেলে এক মাসের মধ্যেই তফাত্টা অনুভব করবেন। অথবা প্রতিদিন ৬/৭ টা বা যতটা পারেন নিয়মিত খাবেন।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












