খলিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ১২৫ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে হিদায়েত করতে চান, তার অন্তরকে ইসলাম উনার জন্য প্রসারিত করে দেন। আর যাকে গোমরাহ করতে চান অর্থাৎ যে গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ় তার অন্তরকে সংকুচিত বা কঠিন করে দেন।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি যার অন্তরকে প্রসারিত করেন তাকেই হিদায়েত দান করেন। কিভাবে হিদায়েত লাভ করা যাবে আর কি কারণে হিদায়েত থেকে মাহরূম হয়ে যাবে সে বিষয়ে হাক্বীক্বী ইলম হাছিল করতে হলে কামিল শায়েখ বা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার ব্যতীত কারো জন্য কোন বিকল্প নেই।
তাই প্রত্যেকের উচিত কামিল শায়েখ বা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে সেই মহা মূল্যবান নিয়ামত মুবারক হাছিল করা।
, ০৬ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ মে, ২০২৬ খ্রি:, ১০ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, এই মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম যে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ দুই ধরণের। ১. মুহকামাত-স্পষ্ট আয়াত শরীফ ২. মুতাশাবিহাত- রূপক তথা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ আয়াত শরীফ। অর্থাৎ মুহকাম আয়াত শরীফ উনাদের অর্থ স্পষ্ট, সহজেই উপলব্ধি করা যায় এবং অর্থ নির্ধারণ ও গ্রহণে কোন অসুবিধা হয় না। আর মুতাশাবিহ আয়াত শরীফ উনাদের অর্থ রূপক, ব্যাখ্যা ব্যতীত হাক্বীক্বী মর্ম উপলব্ধি করা সম্ভব না। তবে যারা রছিখুন তথা গভীর ইলম উনার অধিকারী উনারাই পারেন এই সমস্ত আয়াত শরীফ উনাদের মর্ম উদঘটন করতে। মুতাশাবিহ আয়াত শরীফ উনার উনার অর্থ করতে গিয়ে যাদের কম আক্বল-সমঝ রয়েছে তারা বলে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে হিদায়েত করেন, সেই হিদায়েত লাভ করে। আর যাকে গোমরাহ করেন কেউ তাকে হিদায়েত দিতে পারে না। তাহলে কি মহান আল্লাহ পাক তিনি একজনের একরকম চান আর আরেকজনের আরেক রকম চান? নাউযুবিল্লাহ! মূলত, এরূপ ধারণা পোষণ করা মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারক উনার খিলাফ। মেছাল স্বরূপ বলা যায়, একজন পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে পিতা-মাতা সবার সাথেই সমান ব্যবহার করেন। কিন্তু যে সন্তান পিতা-মাতার অনুগত, স্বাভাবিক ভাবেই পিতা-মাতা সেই সন্তানের প্রতি মায়া মুহব্বত বেশী থাকে। আর যে সন্তান তাদের অনুগত নয়, সে অনুগত না হওয়ার কারণে আদর মুহব্বত পায় না। অথচ পিতা-মাতা চায় সবাইকে সমান মুহব্বত করতে। অন্যদিকে যে সন্তান অনুগত নয় তাকেও যে মুহব্বত করা হয়না তা কিন্তু নয়। তদ্রুপ যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে রুজু হয়, সেই হিদায়েত পায়। আর যে উনার দিকে রুজু হয় না, ফরমাবরদারি করে না, গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে সে হিদায়েত লাভ করতে পারে না।
ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ১২৫ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে হিদায়েত করতে চান, তার অন্তরকে ইসলাম উনার জন্য প্রসারিত করে দেন। আর যাকে গোমরাহ করতে চান অর্থাৎ যে গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ় তার অন্তরকে সংকুচিত বা কঠিন করে দেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা যুমার শরীফ উনার ২২ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যার অন্তরকে ইসলাম উনার জন্য প্রসারিত করেন, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নূরে নূরান্বিত হয়ে যান। যার অন্তর মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির না করার কারণে কঠিন হয়ে যায়, তার জন্য ধ্বংস, জাহান্নাম। তারাই প্রকাশ্য গোমরাহির মধ্যে রয়েছে।
ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, যে বা যারা হেদায়েত চায় সে বা তারা হেদায়েত লাভ করে। আর যে বা যারা গুমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে সে বা তারা হেদায়েত লাভ করতে পারে না। আরো উল্লেখ্য হিদায়েত লাভ করার জন্য অন্যতম হচ্ছে অন্তর প্রসারিত হওয়া। যে ব্যক্তি হিদায়েত লাভ করে তার অন্তর নূরে নূরান্বিত হয়ে যায়, ইলমে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আর যে গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে তার অন্তরটা সংকুচিত হয়ে যায়।
ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি যার অন্তরকে প্রসারিত করেন তাকেই হিদায়েত দান করেন। কিভাবে হিদায়েত লাভ করা যাবে আর কি কারণে হিদায়েত থেকে মাহরূম হয়ে যাবে সে বিষয়ে হাক্বীক্বী ইলম হাছিল করতে হলে কামিল শায়েখ বা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার ব্যতীত কারো জন্য কোন বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেকের উচিত কামিল শায়েখ বা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে সেই মহা মূল্যবান নিয়ামত মুবারক হাছিল করা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের নির্দেশ মুবারক মুতাবিক পুরুষ ও মহিলা সকলের জন্যই পর্দা করা ফরয। তাই প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যই ফরয হচ্ছে- সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী পর্দার বিধান পরিপূর্ণভাবে মেনে চলা।
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দরূদ শরীফ পাঠ করার মাধ্যমে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার অনুসরণ করা যাবে। যে ঘরে পবিত্র ছলাত শরীফ অর্থাৎ পবিত্র মীলাদ শরীফ-পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পাঠ করা হবেনা সেই ঘর অন্ধকার কবরের মত হয়ে যাবে অর্থাৎ বিরান হয়ে যাবে।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘য়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ অর্থাৎ তিনি আপদমস্তক নূর মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাই সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘নূরে মুজাসসাম’ হিসেবে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে নিজেদের ঈমান হিফাযত করা।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহাব্বত করে থাকো, তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহাব্বত করবেন এবং তোমাদের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।” সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবত্রি সুন্নত মুবারক পালনরে অফুরন্ত ফযীলত মুবারক।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক বা পবিত্র জীবনী মুবারক জানা ও বেশি বেশি সর্বত্র আলোচনা করা এবং প্রতিক্ষেত্রে উনাকে পরিপূর্ণরূপে অনুসরণ-অনুকরণ করা সকলের জন্যই ফরয।
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- হামদ্ শরীফ, না’ত শরীফ, ক্বাছীদাহ শরীফ ইত্যাদি লেখা বা রচনা করা, পাঠ বা আবৃত্তি করা এবং শ্রবণ করা সবই খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানদের জন্য কোনো অবস্থাতেই বিধর্মীদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করা, তাদের সাথে মিল-মুহব্বত রাখা, বন্ধুত্ব করা জায়িয নেই। বরং কাট্টা হারাম ও কুফরী।
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ব্যতীত ইবাদত মূল্যহীন।
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরকারী ব্যক্তি জীবিত আর যে মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করেনা সে ব্যক্তি মৃত।
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরকারী ব্যক্তি জীবিত আর যে মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করেনা সে ব্যক্তি মৃত।
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ-পবিত্র সালাম শরীফ পাঠ করা, পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা, পবিত্র না’ত শরীফ পাঠ করা এবং উনার আলোচনা মুবারক করা ফযীলত, বরকত ও মর্যাদা হাছিলের কারণ। তাই প্রত্যেকের জন্যই দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- নিয়মিত নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ-পবিত্র সালাম শরীফ পাঠ করা, পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা, পবিত্র না’ত শরীফ পাঠ করা এবং উনার আলোচনা মুবারক করা।
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুকরণে নাম রাখা দুনিয়ায় যেমন রহমত, বরকত ও সাকীনার কারণ, তেমনি আখিরাতে ও শাফায়াত মুবারক, নাযাত ও ফযীলত লাভের উছীলা।
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












