ঘটনা থেকে শিক্ষা:
মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি এক মহিলার ভয় ও তাকওয়া
, ০৮ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৭ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত যুন নুন মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি বড় বুজুর্গ মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী। তিনি একদিন গিয়েছেন পবিত্র কা’বা শরীফ-এ হজ্জ করতে। হজ্জ শেষে তিনি বসে রয়েছেন পবিত্র কা’বা শরীফ উনার সীমানার মধ্যে পবিত্র কা’বা শরীফ উনার পাশে। হঠাৎ দেখলেন, একটা মেয়েলোক একটা বাচ্চাসহ সেখানে এসেছে। সে এসে বলছে, “মহান আল্লাহ পাক! সেই গোপন ওয়াদা। ” বার বার সেই মেয়েলোকটা একই কথা বলছে। যখন সে এই কথা বার বার বলছে, হযরত যুন নুন মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যেখানে বসা ছিলেন সেখান থেকে উঠে গিয়ে সেই মহিলার নিকটে গিয়ে বললেন, হে মহিলা কিসের গোপন ওয়াদা? কোন গোপন ওয়াদা তোমার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার? মহিলা চুপ হয়ে গেলো। সে বললো, হুযূর! সত্যি আমার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার কিছু গোপন ওয়াদা রয়েছে। যেহেতু আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী, বুজুর্গ সেজন্য আপনাকে বলছি।
অনেক দিন আগের কথা, আমি একদিন আমার এই বাচ্চা নিয়ে জাহাজে করে সফরে যাচ্ছিলাম। সফরে রওনা হয়েছি, কিছুদূর যাবার পরে তুফান হলো সেই সমুদ্রের মধ্যে। তুফানে জাহাজ ভেঙে চৌচির হয়ে গেলো। আমি একটা তক্তা ধরে ভাসতে লাগলাম। ভাসতে ভাসতে রাত্র কেটে সকাল হয়ে গেলো। তখন সমুদ্রের মধ্যে আমি আমার বাচ্চাসহ ভাসমান ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম একটা হাবশী লোক আসছে আমার দিকে। সেও একটা তক্তার মধ্যে ভাসছে। সে খারাপ কাজে আমাকে প্ররোচনা দিতে লাগলো। আমি বললাম হে হাবশী ব্যক্তি, তুমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। এই সঙ্কটময় অবস্থার মধ্যে কি করে তুমি খারাপ চিন্তা করতে পারো? তুমি ইস্তেগফার করো, তওবা করো, মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। সে কোন মতে কথা শুনতে রাজী নয়। আমার বাচ্চা ছিলো ঘুমন্ত। আমি তাকে চিমটি কেটে সজাগ করে দিলাম। বাচ্চাটা কেঁদে উঠলো, আমি তাকে বললাম, দেখো তুমি ধৈর্য ধারণ করো আমার বাচ্চাতো সজাগ হয়ে গেছে ঘুমাতে দাও।
কিন্তু সে হাবশী একটা জাহেল, একটা মূর্খ। যার মধ্যে আল্লাহভীতি নেই, খোদাভীতি নেই, কোন পরওয়া নেই। সে আমার কাছ থেকে বাচ্চাটাকে টেনে নিয়ে সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষেপ করলো। যখন বাচ্চাটাকে ফেলে দিলো, তখন আমি দেখলাম আমার তো আর কোন উপায় নেই। আমি দোয়া করলাম, মহান আল্লাহ পাক! আপনি তো হিফাযতের মালিক, আপনার ভয়েতো আমি পাপ থেকে বিরত থাকতে চাই, আপনি আমাকে হিফাযত করুন। বলার সাথে সাথে দেখা গেলো একটা বড় মাছ উঠে আসলো। সেটা এসে সেই হাবশীকে কামড় দিয়ে অর্থাৎ মুখে নিয়ে সমুদ্রের তলে চলে গেলো। সে নিখোঁজ হয়ে গেলো, আমি বেঁচে গেলাম। আমি ভাসতে ভাসতে সমুদ্রের কিনারে আসলাম। কিনারে এসে দেখলাম সেখানে কোন বাড়ী-ঘর নেই, খাওয়ার কিছু নেই, গাছপালা খেয়ে আমি জীবন ধারন করতে লাগলাম। তিনদিন অতীত হয়ে গেলো। চারদিন পরে দেখলাম একটা জাহাজ যাচ্ছে, আমি আমার রুমাল নেড়ে জাহাজকে সংকেত দিলাম যে, আমি বিপদগ্রস্ত। জাহাজ থেকে কয়েকজন লোক নেমে এসে একটা ছোট নৌকাতে করে আমাকে উদ্ধার করলো। আমি জাহাজে উঠে আমার বাচ্চাকে সেখানে দেখতে পেলাম। আমি লাফ দিয়ে বাচ্চার উপর পড়ে গেলাম। স্বাভাবিকভাবে যেহেতু মায়ের মন, আমার মন কেঁদে উঠলো। আমি হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলাম বাচ্চাকে ধরে। মানুষতো তাজ্জব, তোমার বাচ্চা এখানে আসলো কোথা থেকে? তুমি তো এইমাত্র আসলে। সে মহিলা বললো, আমি বললাম এটা আমারই বাচ্চা। যখন আমার ঘটনা আমি বর্ণনা করলাম, তখন জাহাজের যে ক্যাপ্টেন ছিলো সে বললো, হ্যাঁ আমারও একটা ঘটনা আছে তোমাকে শুনতে হবে। সেটা কি? আমরা যখন জাহাজ চালিয়ে আসছিলাম, পথে দেখি একটা বড় মাছ তার মুখের মধ্যে এই বাচ্চাটা, মাছটা আমাদের পথ আটকায়ে দাঁড়ায়ে রয়েছে। একটা গায়েবী আওয়াজ হলো, হে জাহাজ চালক! তুমি বাচ্চাটাকে তুলে নাও। না তুলে নেয়া পর্যন্ত তোমার জাহাজ যেতে পারবে না। তাকে যদি তুলে না নাও তবে তোমার জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হবে।
সেই ক্যাপ্টেন বললো, আমি জাহাজ থামিয়ে বাচ্চাটাকে তুলে নিয়ে তারপর এখানে আসলাম। এসে দেখি তুমি বিপদগ্রস্ত। সেই মহিলা বললো, তখন আমরা ওয়াদা করেছিলাম সকলে একত্রিত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে যে, মহান আল্লাহ পাক আজকে থেকে আর গুণাহ করবো না, পরহেজগারী ইখতিয়ার করবো। সেই গোপন ওয়াদার কথা আমি বলছি।
ফিকিরের বিষয়; মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি কতটুকু ভয় ও তাক্বওয়া থাকলে এত কঠিন মুহূর্তেও খারাপ কাজ থেকে বেচে থাকা সম্ভব!
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১২তম পর্ব)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৭)
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইহুদী ও মূর্তিপূজারী মুশরিকরা
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












