ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা (৬)
, ২৪ শে রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৮ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ২৫ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ১১ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিষ্টীয় ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য “(WhatsApp, Telegram)
E-mail: sunnat.info@gmail.com Website: sunnat.info” গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। যা মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(সংশোধিত ও পূণ:প্রকাশিত)
যাই হোক প্রথম এবারে শিয়া ও সুন্নী মতবাদ সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। শিয়াদের মতে তারা হযরত আলী বিন আবু তালিব আলাইহিস সালাম উনার অনুসারী। হযরত আলী বিন আবু তালিব আলাইহিস সালাম ছিলেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আপন চাচাতো ভাই। শিয়ারা বলে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ) আলাইহিস সালাম উনাকে খলীফা নিযুক্ত করেন এবং তিনি হযরত আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ) আলাইহিস সালাম উনার পরে খলীফা হবার জন্যে উনার বংশের আরো বারোজনকে ইমাম নিয়োগ করেন। যতটুকু আমি বুঝতে পেরেছি, খলীফা হবার ব্যাপারে হযরত আলী বিন আবু তালিব আলাইহিস সালাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম ছিলেন উপযুক্ত গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ইসলামের ইতিহাস পড়ে যতটুকু বুঝতে পেরেছি হযরত আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ) আলাইহিস সালাম ছিলেন বৈশিষ্টম-িত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এবং প্রগার জ্ঞানের অধিকারী। আবার হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরকে খলীফা নিযুক্তের বিষয়টিও ছিল সঠিক। তবে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার ছেলে এবং আটজন দৌহিত্রকে খলীফা নিযুক্ত করার বিষয়টি আমার নিকট সন্দেহজনক প্রতীয়মান হয়েছে। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফের সময় হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম ছিলেন বালক এবং তিনি কি করে জানতেন যে, উনার আটজন দৌহিত্রের আগমন হবে? যদি তিনি সত্যি সত্যি নবী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আল্লাহ পাক উনার ওহীর মাধ্যমে ভবিষ্যত জানতে পারেন। যেমনটি ঈসা আলাইহিস সালাম ভবিষ্যতের ব্যাপারে জানতেন। তথাপি খ্রিষ্টানদের কাছে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নবী-রসূল হবার বিষয়টি সন্দেহের উর্ধ্বে নয়।
মুসলমানদের দাবি, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে আল্লাহ পাক উনার নবী এ ব্যাপারে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তম্মধ্যে, কুরআন শরীফ অন্যতম। আমি নিজে কুরআন শরীফ পড়েছি। নিশ্চয়ই, কুরআন শরীফ অত্যন্ত উঁচুস্তরের কিতাব। এমনকি ইহা তাওরাত শরীফ এবং বাইবেলের চেয়েও উন্নত। এতে রয়েছে নীতি, বিধান ও নৈতিক নিয়ম-কানুন ইত্যাদি।
আমার কাছে এটা একটি বিস্ময়ের ব্যাপার, কেমন করে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এত উন্নতমানের কিতাব আনয়ন করলেন; কেমন করেই বা তিনি এতসব বুদ্ধি বৃত্তি এবং ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হতে পারলেন; যা একজন অতি জ্ঞানী এবং ব্যাপক দেশ বিদেশ ভ্রমণে অভিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষেও কোনদিন সম্ভব নয়।
আশ্চর্য্যরে কিছু নেই যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নবুওয়াতের প্রমাণের জন্য এগুলোই যথেষ্ট।
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুবুওওয়াতের সত্যতা খুঁজে বের করতে আমি প্রচুর পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণাকর্ম চালিয়েছি। একবার লন্ডনে এক পাদ্রীর নিকট আমার এ আগ্রহের কথা প্রকাশ করি কিন্তু তার উত্তর ছিল একগুয়েমি, গোড়া আর বিশ্বাসের অযোগ্য। যখন তুরস্কে ছিলাম, আহমেদ আফেন্দীকে কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, তখনও আমি কোন সন্তোষজনক উত্তর পাইনি। সত্যি বলতে কি, আহমেদ আফেন্দীকে আমি সরাসরি এ বিষয় সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন করা থেকে বিরত থেকেছি পাছে তিনি আমার গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টি আঁচ করে ফেলেন কিনা। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে আমি বহু ভেবেছি, নিঃসন্দেহে তিনি আল্লাহ পাক উনার রসূলগণের একজন এবং এ প্রসঙ্গে বই পুস্তক পড়ে দেখেছি। কিন্তু কি করা, আমি একজন খ্রিষ্টান, তাই উনার নবুওয়াতের ওপর এখনো ঈমান আনি নাই। সন্দেহাতীতভাবে, তিনি সকল মনীষীদের চেয়ে অনেক উর্ধ্বে।
অন্যদিকে সুন্নীদের আক্বীদা হচ্ছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফের পর, পর্যায়ক্রমে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম, হযরত ওমর আলাইহিস সালাম, হযরত ওসমান আলাইহিস সালাম এবং হযরত আলী আলাইহিস সালাম হচ্ছেন খলিফাতুল মুসলিমীন। সব ধর্মেই এ জাতীয় মতবিরোধ আছে, বেশী আছে খ্রীষ্টধর্মে। যেহেতু হযরত ওমর আলাইহিস সালাম এবং হযরত আলী আলাইহিস সালাম কেউ দুনিয়াতে নেই, কাজেই এমন মতবিরোধ নিয়ে, এখন আর কোন ফায়দা নেই। আমার মতে, অতীতকে বাদ দিয়ে বর্তমান নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করাটাই মুসলমানদের যুক্তিসঙ্গত কাজ। শিয়াদের মতে, খিলাফত বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন। কিন্তু সুন্নী মতে, তার প্রয়োজন তেমন একটা নেই, ইংরেজ যুব সমাজ ধর্মীয় বিষয়ের সঙ্গে পার্থিব বিষয়কে শিখাতে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করেছে। পার্থিব জ্ঞানের ক্ষেত্রে মুসলমানগণ বিজ্ঞান প্রযুক্তি, গণিত, স্থাপত্যকলা, ও চিকিৎসা শাস্ত্রে উন্নতি লাভ করেছে। বিখ্যাত ইটালীয় জ্যোতিবিজ্ঞানী গ্যালিলিও যখন বললেন, পৃথিবী ঘুরছে, নিঃসন্দেহে এই তথ্য তিনি মুসলমানদের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। কিন্তু ধর্মযাজকরা তাকে বিশ্বাসচ্যুত করলো এবং শুধু তাই নয় কারাগারেও নিক্ষেপ করলো। তিনি যখন তার মত পাল্টালেন এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে বললেন “পৃথিবী ঘুরছে না” তখনই শুধু রক্ষা পেলেন। মুসলমানগণ ইসলাম ও ঈমানের ব্যাপারে কেবল কুরআনুল কারীম, হাদীছ শরীফ অনুসরণ করে থাকে। খ্রিষ্টানদের মত, যা আক্বলে আসে না তার অপব্যাখ্যায় লিপ্ত হন না।
ভাষান্তর : আবুল বাশার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (২)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












